স্বাস্থ্যসেবার প্রতিটি ক্ষেত্রে দক্ষ জনবল তৈরিতে নজর দিতে হবে

সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেছেন, সারাদেশ থেকে রোগীরা বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে আসেন। কোথাও চিকিৎসা না পেলে মানুষ বলে, ‘পিজি হাসপাতালে নিয়ে যান, মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়ে যান।’ মানুষ অনেক আশা নিয়ে এখানে আসে। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ডা. মিলন হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক, বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক ডা. মো. আব্দুল কুদ্দুসের স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। মন্ত্রী বলেন, নির্ভীক মানুষ যদি কাউকে বলতে হয়, তার অন্যতম উদাহরণ হচ্ছেন অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আব্দুল কুদ্দুস। কোনো অবস্থাতেই তিনি ভীত-সন্ত্রস্ত হওয়ার মানুষ ছিলেন না। মন্ত্রী স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বলেন, তার দুটি হাত, বুকভরা সাহস এবং নৈতিক দৃঢ়তা ছিল। তিনি অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলেছিলেন। আর যাদের বিরুদ্ধে তিনি দাঁড়িয়েছিলেন, তারা নৈতিকভাবে দুর্বল ছিল। হয়তো শারীরিকভাবে বড় ছিল, কিন্তু নৈতিক দুর্বলতার কারণে তারা তার নৈতিক শক্তির কাছে পরাজিত হয়েছিল এবং আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয়েছিল। জাহিদ হোসেন বলেন, ‘আমরা সংবিধানের কথা বলি। কিন্তু সংবিধানের

স্বাস্থ্যসেবার প্রতিটি ক্ষেত্রে দক্ষ জনবল তৈরিতে নজর দিতে হবে

সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেছেন, সারাদেশ থেকে রোগীরা বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে আসেন। কোথাও চিকিৎসা না পেলে মানুষ বলে, ‘পিজি হাসপাতালে নিয়ে যান, মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়ে যান।’ মানুষ অনেক আশা নিয়ে এখানে আসে।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ডা. মিলন হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক, বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক ডা. মো. আব্দুল কুদ্দুসের স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, নির্ভীক মানুষ যদি কাউকে বলতে হয়, তার অন্যতম উদাহরণ হচ্ছেন অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আব্দুল কুদ্দুস। কোনো অবস্থাতেই তিনি ভীত-সন্ত্রস্ত হওয়ার মানুষ ছিলেন না।

মন্ত্রী স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বলেন, তার দুটি হাত, বুকভরা সাহস এবং নৈতিক দৃঢ়তা ছিল। তিনি অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলেছিলেন। আর যাদের বিরুদ্ধে তিনি দাঁড়িয়েছিলেন, তারা নৈতিকভাবে দুর্বল ছিল। হয়তো শারীরিকভাবে বড় ছিল, কিন্তু নৈতিক দুর্বলতার কারণে তারা তার নৈতিক শক্তির কাছে পরাজিত হয়েছিল এবং আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয়েছিল।

জাহিদ হোসেন বলেন, ‘আমরা সংবিধানের কথা বলি। কিন্তু সংবিধানের পাশাপাশি গণতান্ত্রিক চর্চাও গুরুত্বপূর্ণ। ব্রিটিশ পার্লামেন্টের তো লিখিত সংবিধান নেই, কিন্তু তারা দীর্ঘদিন ধরে গণতান্ত্রিক প্রথা অনুসরণ করে রাষ্ট্র পরিচালনা করছে। কাজেই আপনাকে বুঝতে হবে আপনি সঠিক কাজ করছেন, না ভুল করছেন। আপনি মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে পারছেন কি না, সেটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

মন্ত্রী বলেন, ‘শুধু ডাক্তার নয়, আমাদের নার্স, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট এবং স্বাস্থ্যসেবার প্রতিটি ক্ষেত্রে যেন দক্ষ ও মানসম্পন্ন জনবল তৈরি হয় সেদিকে নজর দিতে হবে। এই প্রতিষ্ঠানকে সেই পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব শুধু উপাচার্যের নয়, আপনার টিমের এবং এখানে উপস্থিত প্রত্যেকের।’

বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক ডা. মো. আব্দুল কুদ্দুস ছিলেন একজন সত্যিকারের দেশপ্রেমিক এবং দেশের জন্য একজন অকুতোভয়, জনকল্যাণমূলক ব্যক্তিত্বের একজন মানুষ। তিনি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছিলেন। একজন দেশপ্রেমিক মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে চিকিৎসা পেশার পাশাপাশি দেশের ক্রান্তিলগ্নে ও পরবর্তীতে দেশ গঠনে তার অবদান ছিল অসামান্য।

স্মরণসভায় বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ইউরোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান ও স্মরণসভা আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ডা. মো. সাইফুল ইসলাম সভাপতিত্ব করেন। অন্যান্যের মধ্যে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী, বিএমএ ও ড্যাবের সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ডা. এ কে এম আজিজুল হক, ড্যাবের সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশীদ, মহাসচিব ডা. মো. জহিরুল ইসলাম শাকিল, স্মরণসভা আহ্বায়ক কমিটির সমন্বয়ক ডা. এহেতাশামুল হক তুহিন এবং সদস্যসচিব ডা. এবিএম শফিউল্লাহ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এমইউ/একিউএফ/এমআইএইচএস

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow