স্বাস্থ্য বাজেটের বড় অংশ অসংক্রামক রোগে ব্যয়ের আহ্বান
আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানোকে জনস্বাস্থ্য উন্নয়নের জন্য ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে স্বাগত জানিয়েছে গবেষণা ও অ্যাডভোকেসি প্রতিষ্ঠান প্রজ্ঞা (নলেজ ফর প্রোগ্রেস)। তবে এই বাড়তি বরাদ্দ দেশের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ও জরুরি স্বাস্থ্যখাতগুলোতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ব্যয়ের আহ্বান জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। বিশেষ করে, দেশের অধিকাংশ মৃত্যুর জন্য দায়ী উচ্চ রক্তচাপসহ বিভিন্ন অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে বর্ধিত বাজেটের উল্লেখযোগ্য অংশ বিনিয়োগের ওপর গুরুত্বারোপ করেছে প্রজ্ঞা। মঙ্গলবার (২৩ জুন) বাজেট-উত্তর এক প্রতিক্রিয়ায় প্রতিষ্ঠানটি জানায়, বাংলাদেশে স্বাস্থ্য খাতের বাজেট দীর্ঘদিন ধরে মোট বাজেটের প্রায় ৫ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। এবার প্রথমবারের মতো তা ৭ দশমিক ৪ শতাংশে উন্নীত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। একই সঙ্গে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ জিডিপির ১ দশমিক ০১ শতাংশে উন্নীত হয়েছে, যা গত অর্থবছরে ছিল ০ দশমিক ৫৮ শতাংশ। আরও পড়ুন স্বাস্থ্য সচিবের সাক্ষাৎ পাননি আদ্-দ্বীনের বিদেশি ইন্টার্ন চিকিৎসকরা প্রজ্ঞার বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বর্তমানে বাংলাদেশে মোট মৃত্যুর
আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানোকে জনস্বাস্থ্য উন্নয়নের জন্য ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে স্বাগত জানিয়েছে গবেষণা ও অ্যাডভোকেসি প্রতিষ্ঠান প্রজ্ঞা (নলেজ ফর প্রোগ্রেস)। তবে এই বাড়তি বরাদ্দ দেশের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ও জরুরি স্বাস্থ্যখাতগুলোতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ব্যয়ের আহ্বান জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
বিশেষ করে, দেশের অধিকাংশ মৃত্যুর জন্য দায়ী উচ্চ রক্তচাপসহ বিভিন্ন অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে বর্ধিত বাজেটের উল্লেখযোগ্য অংশ বিনিয়োগের ওপর গুরুত্বারোপ করেছে প্রজ্ঞা।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) বাজেট-উত্তর এক প্রতিক্রিয়ায় প্রতিষ্ঠানটি জানায়, বাংলাদেশে স্বাস্থ্য খাতের বাজেট দীর্ঘদিন ধরে মোট বাজেটের প্রায় ৫ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। এবার প্রথমবারের মতো তা ৭ দশমিক ৪ শতাংশে উন্নীত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। একই সঙ্গে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ জিডিপির ১ দশমিক ০১ শতাংশে উন্নীত হয়েছে, যা গত অর্থবছরে ছিল ০ দশমিক ৫৮ শতাংশ।
প্রজ্ঞার বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বর্তমানে বাংলাদেশে মোট মৃত্যুর ৭১ শতাংশই বিভিন্ন অসংক্রামক রোগের কারণে ঘটে। অথচ এই খাতে মোট স্বাস্থ্য বাজেটের মাত্র ৪ দশমিক ২ শতাংশ বরাদ্দ দেওয়া হয়।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ‘হেলথ অ্যান্ড মরবিডিটি স্ট্যাটাস সার্ভে-২০২৫’ অনুযায়ী, দেশের শীর্ষ ১০টি রোগের তালিকায় প্রথম স্থানে রয়েছে উচ্চ রক্তচাপ। এটি হৃদরোগ, স্ট্রোক ও কিডনি রোগের মতো গুরুতর অসংক্রামক রোগের অন্যতম প্রধান কারণ।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) ২০২৫ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালে বাংলাদেশে হৃদরোগজনিত কারণে ২ লাখ ৮৩ হাজার ৮০০ জন মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ৫২ শতাংশ মৃত্যুর জন্য দায়ী উচ্চ রক্তচাপ।
গবেষণার তথ্য তুলে ধরে প্রজ্ঞা জানায়, উচ্চ রক্তচাপ পরীক্ষা ও ওষুধে মাত্র ১ টাকা বিনিয়োগ করলে সামগ্রিকভাবে ১৮ টাকার সুফল পাওয়া সম্ভব। কিন্তু পর্যাপ্ত বাজেটের অভাবে দেশের তৃণমূল পর্যায়ের সব স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে উচ্চ রক্তচাপের ওষুধের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। ফলে গ্রামীণ জনগোষ্ঠী বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকির মুখে রয়েছে।
প্রস্তাবিত বাজেটের প্রতিক্রিয়ায় প্রজ্ঞার নির্বাহী পরিচালক এবিএম জুবায়ের বলেন, ‘বর্ধিত স্বাস্থ্য বাজেটের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ যদি উচ্চ রক্তচাপসহ অন্যান্য অসংক্রামক রোগ মোকাবিলায় বিনিয়োগ করা হয়, তবেই এর প্রকৃত সুফল পাওয়া যাবে। বিশেষ করে তৃণমূল পর্যায়ের সব স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে উচ্চ রক্তচাপের ওষুধের নিয়মিত ও বিনামূল্যে সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে দেশে অসংক্রামক রোগের প্রকোপ ও অকাল মৃত্যুর হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।’
জনস্বাস্থ্যের এই দীর্ঘমেয়াদি সংকট মোকাবিলায় আগামী অর্থবছর থেকেই প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলোতে অসংক্রামক রোগের ওষুধ ও স্ক্রিনিংয়ের জন্য বিশেষ তহবিল বরাদ্দের দাবি জানিয়েছে প্রজ্ঞা।
এসইউজে/এসএইচএস
What's Your Reaction?


