‘স্মরণকালের সবচেয়ে বড়’ মহাসমাবেশ আয়োজনে প্রস্তুত চট্টগ্রাম

দীর্ঘ দুই দশক পর চট্টগ্রামে আসছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। রোববার (২৫ জানুয়ারি) নগরের ঐতিহাসিক পলোগ্রাউন্ড মাঠে আয়োজিত এক বিশাল জনসমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন তিনি। এই মহাসমাবেশকে ঘিরে চট্টগ্রাম নগর ও জেলার রাজনৈতিক অঙ্গনে সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক আলোড়ন। বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে বিরাজ করছে উৎসবমুখর পরিবেশ। দলীয় সূত্র বলছে, সমাবেশে অন্তত ১০ লাখ মানুষের সমাগম হতে পারে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, শনিবার রাতে তারেক রহমান চট্টগ্রামে পৌঁছাবেন এবং সেদিন রাতেই নগরে অবস্থান করবেন। পরদিন রোববার বেলা ১১টায় পলোগ্রাউন্ড মাঠে তিনি বক্তব্য দেবেন। তারেক রহমানের এই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম নগরসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষের আগমন ঘটবে বলে আশা করছেন বিএনপি নেতারা। আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী আরও বলেন, এটি কোনো রাজনৈতিক দলীয় সমাবেশ নয়। তারেক রহমানের আগমনকে কেন্দ্র করে দলমত নির্বিশেষে সর্বস্তরের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত জনসমাগম হবে। এখানে শুধু বিএনপির নেতাকর্মী নয়, সাধারণ মানুষও অংশ নেবেন। নগরে সাজসাজ রব তারেক রহমানের আগ

‘স্মরণকালের সবচেয়ে বড়’ মহাসমাবেশ আয়োজনে প্রস্তুত চট্টগ্রাম

দীর্ঘ দুই দশক পর চট্টগ্রামে আসছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। রোববার (২৫ জানুয়ারি) নগরের ঐতিহাসিক পলোগ্রাউন্ড মাঠে আয়োজিত এক বিশাল জনসমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন তিনি। এই মহাসমাবেশকে ঘিরে চট্টগ্রাম নগর ও জেলার রাজনৈতিক অঙ্গনে সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক আলোড়ন। বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে বিরাজ করছে উৎসবমুখর পরিবেশ।

দলীয় সূত্র বলছে, সমাবেশে অন্তত ১০ লাখ মানুষের সমাগম হতে পারে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, শনিবার রাতে তারেক রহমান চট্টগ্রামে পৌঁছাবেন এবং সেদিন রাতেই নগরে অবস্থান করবেন। পরদিন রোববার বেলা ১১টায় পলোগ্রাউন্ড মাঠে তিনি বক্তব্য দেবেন। তারেক রহমানের এই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম নগরসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষের আগমন ঘটবে বলে আশা করছেন বিএনপি নেতারা।

আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী আরও বলেন, এটি কোনো রাজনৈতিক দলীয় সমাবেশ নয়। তারেক রহমানের আগমনকে কেন্দ্র করে দলমত নির্বিশেষে সর্বস্তরের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত জনসমাগম হবে। এখানে শুধু বিএনপির নেতাকর্মী নয়, সাধারণ মানুষও অংশ নেবেন।

নগরে সাজসাজ রব

তারেক রহমানের আগমনকে ঘিরে পুরো চট্টগ্রামজুড়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে আনন্দঘন পরিবেশ বিরাজ করছে। নগরের বিভিন্ন মোড় ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পোস্টার, ব্যানার ও ফেস্টুনে ছেঁয়ে গেছে এলাকা। বিভিন্ন স্থানে প্রস্তুতি সভা, স্বাগত মিছিল ও প্রচারণা কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে।

মহাসমাবেশকে ঘিরে পলোগ্রাউন্ড মাঠে জোরেশোরে প্রস্তুতি চলছে। ইতোমধ্যে বিশাল মঞ্চ নির্মাণকাজ শেষের দিকে পৌঁছেছে। মঞ্চ ও মাঠজুড়ে সৌন্দর্যবর্ধন ও আলোকসজ্জার কাজ চলছে। পাশাপাশি সমাবেশে উপস্থিত প্রত্যেকের কাছে বক্তব্য স্পষ্টভাবে পৌঁছে দিতে মাঠের বিভিন্ন পয়েন্টে মাইক ও সাউন্ড সিস্টেম স্থাপন করা হয়েছে।
 
চট্টগ্রাম সিটি মেয়র ও নগর বিএনপির সাবেক সভাপতি ডাক্তার শাহাদাত হোসেন মঞ্চের নির্মাণকাজ তদারকি করছেন। তিনি কালবেলাকে বলেন, মঞ্চটি ১০০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ৬০ ফুট প্রস্থে নির্মাণ করা হচ্ছে। মঞ্চের সামনে থাকবে নিরাপত্তাকর্মীদের অবস্থান। এরপর নারী ও গণমাধ্যমকর্মীদের জন্য আলাদা স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে। তারপরের অংশে সমাবেশে অংশ নেওয়া সাধারণ মানুষ অবস্থান করবেন।

নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা চট্টগ্রাম

তারেক রহমানের আগমন এবং প্রার্থীদের প্রচারণায় সতর্ক অবস্থানে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। প্রায় ২১ বছর পর বন্দর নগরীতে তারেক রহমানের আগমনকে কেন্দ্র করে নগর বিএনপির পার্টি অফিসে কেন্দ্রীয় নেতাদের আনাগোনা বেড়েছে।

মঞ্চ এলাকা পরিদর্শন করে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র শাহাদাত হোসেন বলেন, শনিবার রাতের মধ্যেই মঞ্চসহ সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হবে। নিরাপত্তা তদারকির জন্য বিএনপির নিজস্ব নিরাপত্তা বাহিনী ‘চেয়ারপারসন সিকিউরিটি ফোর্স’ (সিএসএফ) চট্টগ্রামে পৌঁছাবে।

চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের কমিশনার হাসিব আজিজ বলেন, মঞ্চসহ পুরো এলাকায় পুলিশের তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে। পোশাকধারী পুলিশের পাশাপাশি সাদাপোশাকধারী পুলিশও দায়িত্ব পালন করবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

মঞ্চ তৈরির কাজ শেষ হলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ডগ স্কোয়াডের মাধ্যমে তল্লাশি চালাবেন। সমাবেশকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দুই হাজার সদস্য মোতায়ন থাকবে বলে জানিয়েছে নগর পুলিশ। ইতিমধ্যে পোশাকধারী সদস্যদের পাশাপাশি সাদা পোশাকধারী সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন।

নগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (গণসংযোগ) আমিনুর রশিদ বলেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নগরীতে তল্লাশি জোরদার করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে তল্লাশি চৌকি বসিয়ে তল্লাশি পরিচালনা করা হচ্ছে। সমাবেশকে ঘিরে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে সিএমপি। নিরাপত্তার চাদরে সমাবেশকে ঢেকে দেওয়াসহ সব প্রস্তুতিমূলক বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মিটিং সম্পন্ন হয়েছে।

যুবদলের পক্ষ থেকেও সমাবেশ সফল করতে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের সাবেক সভাপতি মোশাররফ হোসেন দীপ্তি বলেন, এই সমাবেশ শুধু একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, এটি চট্টগ্রামবাসীর আবেগের বহিঃপ্রকাশ। দীর্ঘদিন পর দলের শীর্ষ নেতা সরাসরি মানুষের সামনে কথা বলবেন এটি নেতাকর্মীদের নতুন করে অনুপ্রাণিত করবে।

রোববার সকাল সাড়ে ৯টায় চট্টগ্রামের হোটেল রেডিসনে তরুণদের সঙ্গে ‘পলিসি ডায়ালগ’ শীর্ষক এক মতবিনিময় সভায় যোগ দেবেন তারেক রহমান। এরপর বেলা ১১টায় চট্টগ্রাম নগরীর ঐতিহাসিক পলোগ্রাউন্ড মাঠে আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেবেন তিনি। চট্টগ্রাম সফর শেষে তিনি ফেনীর পাইলট কলেজ ময়দান, কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম, সুয়াগাজী ও দাউদকান্দি এবং নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুর বালুর মাঠে আয়োজিত পথসভা ও সমাবেশে অংশ নেবেন।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow