সড়কেই ফেলে রাখা হলো চামড়া

গাইবান্ধায় ক্রেতা সংকট ও ন্যায্য দাম না পেয়ে অনেকেই মহাসড়কের পাশে পশুর চামড়া রেখে গেছেন। এছাড়া বিভিন্ন মাদরাসা ও এতিমখানায় দান করা চামড়া নিয়ে বিপাকে পড়েছে সংশ্লিষ্টরা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক মাদরাসার শিক্ষক বলেন, প্রতিবছর মাদরাসায় অনেকে চামড়া দিয়ে যায়, আবার অনেক ফোন দিলে ছাত্রদের পাঠিয়ে সংগ্রহ করি। বিগত বছরগুলোতে মাদরাসায় ক্রেতা এলেও এ বছর আসেনি। তাই ভ্যানে করে চামড়াগুলো মহাসড়কে নিয়ে আসছিলাম। পাইকার যাওয়ার পথে যদি কিনে এ আশায়। সারাদিন অপেক্ষা করেও পাইকার পাইনি। তাই রেখেই চলে যাচ্ছি। জানা গেছে, ঈদুল আজহায় গাইবান্ধায় ১ লাখ ৩৭৫০০ পশুর চাহিদা ছিল। ঈদের দিন দুপুরের পর থেকেই জেলার সব চেয়ে বড় চামড়ার হাট পলাশবাড়ীর কালিবাজারে চামড়া আসতে শুরু করে। অন্যদিকে বিভিন্ন এতিমখানা ও মাদরাসা দান করা পশুর চামড়া সংগ্রহ করে। দুইদিন ধরে প্রতিষ্ঠানগুলোতে অপেক্ষা করে কোনো ক্রেতার খোঁজ মেলেনি। পর্যাপ্ত ক্রেতা না থাকায় চামড়া বিক্রি করতে না পেরে বিপাকে পড়ছেন তারা। গাইবান্ধা সদরের চাপাদহ গ্রামের ক্ষুদ্র চামড়া ব্যবসায়ী মানিক চন্দ্র রবিদাস (৫৫)। প্রতিবছর ঈদুল আজহার দিন সাইকেল নিয়ে গ্রামে গ্রামে ঘুরে চামড়া কিন

সড়কেই ফেলে রাখা হলো চামড়া

গাইবান্ধায় ক্রেতা সংকট ও ন্যায্য দাম না পেয়ে অনেকেই মহাসড়কের পাশে পশুর চামড়া রেখে গেছেন। এছাড়া বিভিন্ন মাদরাসা ও এতিমখানায় দান করা চামড়া নিয়ে বিপাকে পড়েছে সংশ্লিষ্টরা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক মাদরাসার শিক্ষক বলেন, প্রতিবছর মাদরাসায় অনেকে চামড়া দিয়ে যায়, আবার অনেক ফোন দিলে ছাত্রদের পাঠিয়ে সংগ্রহ করি। বিগত বছরগুলোতে মাদরাসায় ক্রেতা এলেও এ বছর আসেনি। তাই ভ্যানে করে চামড়াগুলো মহাসড়কে নিয়ে আসছিলাম। পাইকার যাওয়ার পথে যদি কিনে এ আশায়। সারাদিন অপেক্ষা করেও পাইকার পাইনি। তাই রেখেই চলে যাচ্ছি।

জানা গেছে, ঈদুল আজহায় গাইবান্ধায় ১ লাখ ৩৭৫০০ পশুর চাহিদা ছিল। ঈদের দিন দুপুরের পর থেকেই জেলার সব চেয়ে বড় চামড়ার হাট পলাশবাড়ীর কালিবাজারে চামড়া আসতে শুরু করে। অন্যদিকে বিভিন্ন এতিমখানা ও মাদরাসা দান করা পশুর চামড়া সংগ্রহ করে। দুইদিন ধরে প্রতিষ্ঠানগুলোতে অপেক্ষা করে কোনো ক্রেতার খোঁজ মেলেনি। পর্যাপ্ত ক্রেতা না থাকায় চামড়া বিক্রি করতে না পেরে বিপাকে পড়ছেন তারা।

গাইবান্ধা সদরের চাপাদহ গ্রামের ক্ষুদ্র চামড়া ব্যবসায়ী মানিক চন্দ্র রবিদাস (৫৫)। প্রতিবছর ঈদুল আজহার দিন সাইকেল নিয়ে গ্রামে গ্রামে ঘুরে চামড়া কিনেন। পরে পলাশবাড়ী হাটে ঢাকা থেকে আসা পাইকারদের কাছে বিক্রি করেন। কিন্তু পলাশবাড়ী হাট বসবে বুধবার (৩ জুন)। ঈদের দিন বড় পাইকাররা আসেননি। এরপরও পলাশবাড়ীর স্থানীয় পাইকারদের কাছে চামড়া বিক্রি করতে গিয়েছিলেন। কিন্তু পলাশবাড়ী হাটে চামড়া নিয়ে দুইদিন অপেক্ষা করলেও কেউ দাম বলেননি।

মানিক চন্দ্র রবিদাস বলেন, 'ঈদের দিন ধার দেনা করে প্রায় ৪০ হাজার টাকার গরুর চামড়া কিনেছি। গাইবান্ধায় এবার চামড়ার দাম অনেক কম। স্থানীয় পাইকারি আড়তে চামড়ার প্রচুর আমদানি। কিন্তু পাইকাররা কিনছেন না। এতে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা বিপাকে পড়েছেন।

সড়কেই ফেলে রাখা হলো চামড়া

পলাশবাড়ী উপজেলার মনোহরপুর গ্রামের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী হরিপদ দাস বলেন, ‘ঈদের দিন ৫০ হাজার টাকার গরুর চামড়া কিনেছি। বিকালে গাইবান্ধা শহরের একটি আড়তে বিক্রি করতে গিয়েছিলাম। কেউ দাম করেননি। পরদিন পলাশবাড়ীর হাটে নিয়ে যাই। সেখানেও কেউ দাম করেনি।’

তার ভাষ্য পাইকারেরা বলছেন, চামড়া কিনে কী করব? আমরা বিক্রি করব কোথায়? তিনি বিক্রি করতে না পেরে বাড়িতে এনে লবণ দিয়ে রাখছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ক্ষুদ্র চামড়া ব্যবসায়ী বললেন, দাদন ব্যবসায়ীর কাছ থেকে চড়া সুদে ৩৫ হাজার টাকার চামড়া কিনেছি। চামড়া কিনে বিপদে পড়েছি। মহাজনরা ছাগলের চামড়ার দামই বলেননি।

গাইবান্ধা শহরের চামড়া ব্যবসায়ী আরশাদ আলী মুঠোফোনে বলেন, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে চামড়া কিনেছেন। ফলে তাদের কাছ থেকে বেশি দামে চামড়া কিনতে মহাজনরা আগ্রহী হচ্ছেন না। এছাড়া এবছর ল্যাম্পি স্কিন রোগে আক্রান্ত পশুর চামড়া পাওয়া যাচ্ছে। ফলে স্থানীয় পাইকাররা চামড়া কিনতে ভয় পাচ্ছেন।

পলাশবাড়ী চামড়া ব্যবসায়ী সমিতির নেতা মাহমুদুল হাসান বলেন, প্রতিবছর হাটের দিন ঢাকা থেকে ট্যানারির মালিকরা চামড়া কিনতে আসেন। আগামী বুধবারও তাদের আসার কথা। তাদের চাহিদার উপর চামড়ার বাজার অনেকটা নির্ভর করছে।

আনোয়ার আল শামীম/এএইচ/জেআইএম

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow