হকার কার্ডে ফুটপাত স্থায়ী দখলের আশঙ্কা

রাজধানীর ফুটপাত ও সড়ক দখলমুক্ত করে জনসাধারণের চলাচল নির্বিঘ্ন করতে সম্প্রতি উচ্ছেদ অভিযান চালায় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। বিভিন্ন এলাকায় একের পর এক অভিযান চালিয়ে উচ্ছেদ করা হয় অবৈধ হকার ও ফুটপাতের দোকান। এতে পথচারী ও যান চলাচলে ফিরে আসে শৃঙ্খলা। কিন্তু সেই চিত্র আবার বদলাচ্ছে। এবার ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন থেকে ‘হকার কার্ড’ বরাদ্দ দিয়ে নতুন করে বসানো হচ্ছে দোকানপাট। এ প্রক্রিয়ায় ফুটপাত-সড়ক স্থায়ীভাবে দখল হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজধানীর ফুটপাত উদ্ধারে অবৈধ হকারদের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানের অংশ হিসেবে গুলিস্তান এলাকায়ও চালানো হয় উচ্ছেদ অভিযান। ফুটপাত ও সড়ক দখল করে গড়ে ওঠা হাজার হাজার অবৈধ দোকান তুলে দেওয়া হয়। এতে দখলমুক্ত সড়কে চলাচলে শান্তির ছোয়া পায় নগরবাসী। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এমন উদ্যোগ প্রশংসিত হয় সব মহলে। সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে গুলিস্তান এলাকায় সড়কে ঘর কেটে হকারদের বসার জায়গা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে/ছবি: জাগো নিউজ উচ্ছেদের কিছুদিন পরেই ফুটপাতে ফের হকারদের জায়গা বরাদ্দ কিন্তু উচ্ছেদের কিছুদিন যেতে না যেতেই রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে হকার

হকার কার্ডে ফুটপাত স্থায়ী দখলের আশঙ্কা

রাজধানীর ফুটপাত ও সড়ক দখলমুক্ত করে জনসাধারণের চলাচল নির্বিঘ্ন করতে সম্প্রতি উচ্ছেদ অভিযান চালায় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। বিভিন্ন এলাকায় একের পর এক অভিযান চালিয়ে উচ্ছেদ করা হয় অবৈধ হকার ও ফুটপাতের দোকান। এতে পথচারী ও যান চলাচলে ফিরে আসে শৃঙ্খলা। কিন্তু সেই চিত্র আবার বদলাচ্ছে। এবার ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন থেকে ‘হকার কার্ড’ বরাদ্দ দিয়ে নতুন করে বসানো হচ্ছে দোকানপাট। এ প্রক্রিয়ায় ফুটপাত-সড়ক স্থায়ীভাবে দখল হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজধানীর ফুটপাত উদ্ধারে অবৈধ হকারদের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানের অংশ হিসেবে গুলিস্তান এলাকায়ও চালানো হয় উচ্ছেদ অভিযান। ফুটপাত ও সড়ক দখল করে গড়ে ওঠা হাজার হাজার অবৈধ দোকান তুলে দেওয়া হয়। এতে দখলমুক্ত সড়কে চলাচলে শান্তির ছোয়া পায় নগরবাসী। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এমন উদ্যোগ প্রশংসিত হয় সব মহলে।

jagonews24সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে গুলিস্তান এলাকায় সড়কে ঘর কেটে হকারদের বসার জায়গা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে/ছবি: জাগো নিউজ

উচ্ছেদের কিছুদিন পরেই ফুটপাতে ফের হকারদের জায়গা বরাদ্দ

কিন্তু উচ্ছেদের কিছুদিন যেতে না যেতেই রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে হকারদের পুনর্বাসনের জন্য রাজধানীর ফুটপাতে ঘর কেটে জায়গা নির্ধারণ করে দিয়েছে দুই সিটি করপোরেশন। নিবন্ধনের মাধ্যমে হকার কার্ডধারী ব্যবসা পরিচালনার সুযোগ পাবেন। এভাবে আবারও হকারদের ফুটপাত দখলের সুযোগ করে দেওয়ার পরিকল্পনায় সমালোচনার ঝড় উঠেছে। এই উদ্যোগে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ নাগরিকরা। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দাবি, মানবিক দিক বিবেচনায় ও হকারদের মধ্যে শৃঙ্খলতা ফেরাতেই এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এখন পর্যন্ত ৪০০ জনের বেশি হকার নিবন্ধিত হয়েছেন। এর মধ্যে ৩০০ শতাধিক ব্যক্তি হকার কার্ড হাতে পেয়েছেন। এ ছাড়া নিবন্ধিত হকারের মধ্যে গুলিস্তান এলাকায় প্রায় ৩০৬ জনকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই হকাররা সিটি করপোরেশনের নির্ধারিত স্থানে নির্দিষ্ট সময় ব্যবসা করতে পারবেন বলে জানা গেছে।

সম্প্রতি রাজধানীর গুলিস্তানে অবস্থিত কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের সামনের সড়ক সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, সড়কের দুই পাশের ফুটপাত, সড়কের দুপাশ এবং মাঝখান বরাবর নতুন করে ঘর কেটে কেটে নির্ধারণ করা হয়েছে হকারদের বসার জায়গা।

হকার কার্ড প্রসঙ্গে যা বলছেন ফুটপাত ব্যবসায়ীরা

এ বিষয়ে কথা হলে গুলিস্তানের স্থানীয় ফুটপাত ব্যবসায়ী আলাউদ্দিন বলেন, ‘আমাদের এই জায়গায় কবে থেকে বসতে দিবে সেটা কিছু বলেনি। শুধু এখানেই না, বিভিন্ন জায়গায় এমনভাবে হকারদের জন্য জায়গা করে দেবে। যারা এখানে বসবে তাদের হকার লাইসেন্স (কার্ড) থাকতে হবে। লাইসেন্স ছাড়া এখানে কেউ ঢুকতে পারবে না।’

আরও পড়ুন
ঢাকায় ফুটপাত ও সড়ক দখলমুক্ত করতে পুলিশের অভিযান শুরু
ফুটপাত উচ্ছেদে সাময়িক সাফল্য, ফের বসেছে অবৈধ দোকান
ফুটপাত দখলকারীদের সতর্ক করলো ডিএমপি, পুনরায় দখল করলে কঠোর ব্যবস্থা
উচ্ছেদ অভিযানে আরও ৩ লাখ টাকা জরিমানা, ৯ জনের কারাদণ্ড
ফুটপাত-সড়ক থেকে অবৈধ স্থাপনা সরাতে ডিএমপির আলটিমেটাম

কার্ড পাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘পুলিশে একজনের কাছে কাগজ দিয়ে গেছে ফটোকপি করে সবার কাছে দেওয়ার লাইগা। কাল ফটোকপি করে আনছি আমি আর আমার বৌয়ে। এই জাইগায় কতবছর ধরে হকারি করি, কোন জায়গায় হকারি করি, আমার পরিচয়—সবকিছু ওইডার মধ্যে সিরিয়াল করে লেখা লাগবো।’

সিটি করপোরেশনের এই উদ্যোগ হকারদের জন্য ভালো না খারাপ—জানতে চাইলে আলাউদ্দিন বলেন, ‘দেখতে তো মনে হয় ভালা। এই দেশের মানুষ ভালা চেনে? কোনডা ভালা কোনডা খারাপ। যদি ভালা চিনতো তাইলে বহুত কিছু হইয়া যাইতো।’

jagonews24হকারদের বসার জন্য নির্দিষ্ট করে দেওয়া জায়গা/ছবি: জাগো নিউজ

কার্ড বিতরণে অনিয়মের আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘হকারগো সবাইরে বহাইবো। বহার পরে হকারগো যে কার্ড, ওই কার্ড সবার কাছে একটা একটা করে পাইবো। পাওয়ার পরে দেখবো যে, হেই কি প্রকৃত হকার, নাকি ভুয়া।’

হকার কার্ডের মাধ্যমে সড়কে ব্যবসার ব্যবস্থা হলে কি আগের মতো লাইনম্যানকে চাঁদা দেওয়া লাগবে কিনা—জানতে চাইলে ফুটপাত ব্যবসায়ী আলাউদ্দিন বলেন, ‘হেইডা কইতে পারি না। হেইডা জানে একমাত্র আল্লাহ আর সরকারে।’

‘আমাদের এই জায়গায় কবে থেকে বসতে দিবে সেটা কিছু বলেনি। শুধু এখানেই না, বিভিন্ন জায়গায় এমনভাবে হকারদের জন্য জায়গা করে দেবে। যারা এখানে বসবে তাদের হকার লাইসেন্স (কার্ড) থাকতে হবে। লাইসেন্স ছাড়া এখানে কেউ ঢুকতে পারবে না।’—আলাউদ্দিন, গুলিস্তানের ফুটপাত ব্যবসায়ী

স্থানীয় হকার বিল্লাল হোসেন বলেন, ‘রাস্তার পাশে হোক আর যে কোনো জায়গায় হোক—আমাদের ব্যবসার একটা সুযোগ-সুবিধা লাগবেই। যেহেতু আমাদের নাগরিক অধিকার, সরকার আমাদের ভোটও নিয়েছে। মানুষ বেঁচে থাকলে দেশ বাঁচবে। যদি মানুষই বেঁচে না থাকে, তাহলে দেশ দিয়ে কি হবে।’

টানা ৪২ বছর ধরে গুলিস্তানে হকারি করেন দাবি করা শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘হকারদের জন্য যে জায়গা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে সেটা আওয়ামী লীগের পার্টি অফিস (আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের সামনের সড়ক ও ফুটপাত)। হয়তো আওয়ামী লীগের মন্ত্রী-মিনিস্টার গেছে গা, কিন্তু বহু কর্মী আছে। যেকোনো মুহূর্তে এই জায়গায় একটা অঘটনও ঘটতে পারে। এটা শুধু আমি বলছি না, সাধারণ মানুষজনও বলছে।’

বৈধ ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের ক্ষোভ

এভাবে হকারদের সড়ক ও ফুটপাতজুড়ে বসানোর কারণে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন গুলিস্তান এলাকার বৈধ ব্যবসায়ী ও চলাচলকারী সাধারণ মানুষ।

সাধারণ মানুষের অভিযোগ, এভাবে সড়কজুড়ে হকার পুনর্বাসন করা হলে সাধারণ মানুষকে চলাচলে চরম বিপাকে পড়তে হবে। হকার কার্ডের মাধ্যমে অবৈধ ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসন করা হলে হকারের দৌরাত্ম্য বেড়ে যাবে।

আরও পড়ুন
ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটিতে হকার কার্ড বিতরণ বন্ধে লিগ্যাল নোটিশ
ফুটপাত দখল করে যারা ব্যবসা করছে তাদের ছাড় দেওয়া হবে না
সড়ক দখল করে যত্রতত্র পার্কিং, নগরজীবনে কমছে গতি

স্থায়ী ব্যবসায়ীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলছেন, সড়ক ও ফুটপাতজুড়ে হকার পুনর্বাসনের ফলে তাদের ব্যবসা পরিচালনা বাধাগ্রস্ত হবে। এমন ব্যবস্থাপনার ফলে তাদের দোকানগুলোতে ক্রেতা যাতায়াত বাধাগ্রস্ত হবে। কার্ডের মাধ্যমে যেসব স্থানে হকার পুনর্বাসন করা হবে, পরবর্তীতে তাদের ওই স্থান থেকে উচ্ছেদ করা সম্ভব হবে না বলে মনে করছেন তারা। তবে এভাবে হকারদের পুনর্বাসনের বিরুদ্ধে থাকলেও ভয়ে মুখ খুলতে চান না কেউই। মুখ খুললে নিজেদের ব্যবসা বাধাগ্রস্ত হওয়াসহ গুটিয়ে নেওয়ার আশঙ্কা তাদের।  

jagonews24ছবি: জাগো নিউজ

সড়ক-ফুটপাতে ঘর কেটে হকারদের পুনর্বাসনকে কিভাবে দেখছেন—জানতে চাইলে স্থানীয় বাসিন্দা মনির হোসেন বলেন, উচ্ছেদের পর মনে হয়েছিল এবার মনে হয় আস্তে আস্তে সব কিছুর পরিবর্তন হবে। ফুটপাত দখলমুক্তের একটা স্থায়ী সমাধান হবে। কিন্তু আবার যেভাবে জায়গা নির্ধারণ করে পুনর্বাসন করা হচ্ছে এবং পরিচয়পত্র দেওয়ার যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে তাতে হকারদের আর সরানো সম্ভব হবে না।

হকার কার্ড নিয়ে যা বলছেন সংশ্লিষ্টরা

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) এন এম নাসিরুদ্দিন জাগো নিউজকে বলেন, তাদের (হকার) উচ্ছেদ করা হয়েছিল। যারা প্রকৃত ব্যবসায়ী কিছু কিছু জায়গায় সরকারি সিদ্ধান্তে তাদের পুনর্বাসন করা হবে। সেই লক্ষ্যে পুলিশ ও সিটি করপোরেশন সমন্বয় করে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করছে।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) জনসংযোগ কর্মকর্তা রাসেল রহমান বলেন, একটা জায়গা থেকে যদি ৫ হাজার জনকে উচ্ছেদ করা হয়, তাহলে অন্তত ৫০০ জনকে বসার জায়গা করে দিতে হয়। তাহলে তারা মানবে যে, আমাদের কাউকে না কাউকে অন্তত বসার ব্যবস্থা করেছে। 

‘রাস্তার পাশে হোক আর যে কোনো জায়গায় হোক—আমাদের ব্যবসার একটা সুযোগ-সুবিধা লাগবেই। যেহেতু আমাদের নাগরিক অধিকার, সরকার আমাদের ভোটও নিয়েছে। মানুষ বেঁচে থাকলে দেশ বাঁচবে। যদি মানুষই বেঁচে না থাকে, তাহলে দেশ দিয়ে কি হবে।’—বিল্লাল হোসেন, হকার

ডিএসসিসি সূত্রে জানা গেছে, হকার ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফেরাতে সম্প্রতি হকার নীতিমালা অনুমোদন করেছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। সেই নীতিমালার ভিত্তিতে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছে রাজধানীর দুই সিটি করপোরেশন। নিবন্ধনের মাধ্যমে হকারদের মধ্যে হকার কার্ড বিতরণ করা হচ্ছে।

কার্ড পেতে এরই মধ্যে নিবন্ধন করেছেন ৪০০ হকার

চলমান এই কার্যক্রমে এখন পর্যন্ত ৪০০ জনের বেশি হকার নিবন্ধিত হয়েছেন। এর মধ্যে ৩০০ শতাধিক ব্যক্তি হকার কার্ড হাতে পেয়েছেন। এ ছাড়া নিবন্ধিত হকারের মধ্যে গুলিস্তান এলাকায় প্রায় ৩০৬ জনকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই হকাররা সিটি করপোরেশনের নির্ধারিত স্থানে নির্দিষ্ট সময় ব্যবসা করতে পারবেন বলে জানা গেছে।

jagonews24রাজধানীর ফুটপাত ও সড়ক দখলমুক্ত করতে সম্প্রতি উচ্ছেদ অভিযান চালায় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ/ফাইল ছবি

গত ৩০ এপ্রিল প্রস্তাবিত ‘ঢাকা শহরের হকার ব্যবস্থাপনা নীতিমালা-২০২৬’ এর আওতায় হকার পুনর্বাসন কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন ডিএসসিসির প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম। অনুষ্ঠানে গুলিস্তান এলাকার ১০০ জন হকারকে রমনা ভবনসংলগ্ন রিং রোড এলাকায় পুনর্বাসনের জন্য ডিজিটাল পরিচয়পত্র হস্তান্তর করা হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডিএসসিসি প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় আমরা আজ ঢাকা শহরে হকার ব্যবস্থাপনা শুরু করেছি। এর ফলে নিরাপদ ও পথচারীবান্ধব ফুটপাত নিশ্চিতকরণ ও সড়কে শৃঙ্খলা আনয়ন সম্ভব হবে। হকার নিবন্ধন ও পুনর্বাসনের মাধ্যমে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমানের উন্নয়নও হবে।

এই উদ্যোগকে মানবিক ও যুগান্তকারী উল্লেখ করে তিনি বলেন, হকার, পুলিশ, সিটি করপোরেশন ও সাধারণ মানুষ—সবাই মিলে সহযোগিতা করলে ঢাকা শহরকে সুন্দরভাবে ব্যবস্থাপনা করা সম্ভব। 

আরও পড়ুন
পুরান ঢাকার সড়ক ও ফুটপাত দখলমুক্ত করা হবে: ইশরাক হোসেন
গুটিকয়েক মানুষের জন্য পুরো মিরপুরবাসী কষ্ট করবে, এটা হতে পারে না

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, ১০০ হকারকে কিউআর কোড সংবলিত ডিজিটাল পরিচয়পত্র দেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে নীতিমালা অনুযায়ী নির্দিষ্ট সংখ্যক হকারকে এই কার্ড দেওয়া হবে। এর মাধ্যমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে। এছাড়া ট্রাফিক পুলিশ সহজেই হকারদের বৈধতা ও বসার স্থান যাচাই করতে পারবে। হকার বসার পরও ফুটপাথে পথচারীদের চলাচলের জন্য ন্যূনতম ৫-৬ ফুট জায়গা উন্মুক্ত রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

তাদের (হকার) উচ্ছেদ করা হয়েছিল। যারা প্রকৃত ব্যবসায়ী কিছু কিছু জায়গায় সরকারি সিদ্ধান্তে তাদের পুনর্বাসন করা হবে। সেই লক্ষ্যে পুলিশ ও সিটি করপোরেশন সমন্বয় করে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করছে।—এন এম নাসিরুদ্দিন, ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার

উদ্বোধনকালে জানানো হয়, খেলার মাঠ, স্কুল মাঠ বা ধর্মীয় উপাসনালয়ের সামনে কোনো বাজার বসানো যাবে না। এছাড়া কোনো স্থায়ী অবকাঠামো তৈরি করা যাবে না। নীতিমালা লঙ্ঘনকারী বা লাইসেন্সবিহীন অবৈধ হকারদের যেকোনো সময় উচ্ছেদের পূর্ণ এখতিয়ার কর্তৃপক্ষ সংরক্ষণ করবে। এছাড়া হকারদের কাছ থেকে অবৈধ চাঁদাবাজি বন্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর তদারকি করবে।

হকার কার্ড বিতরণ বন্ধে সংশ্লিষ্টদের প্রতি লিগ্যাল নোটিশ

তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে হকার কার্ড বিতরণ বন্ধের দাবিতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের এক আইনজীবী। গত বৃহস্পতিবার (৭ মে) এই লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়।

jagonews24হকারদের বসার জন্য নির্দিষ্ট করে দেওয়া জায়গা/ছবি: জাগো নিউজ

ওই নোটিশে বলা হয়েছে, নোটিশ পাওয়ার তারিখ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে—

১. বিতরণ করা বা প্রস্তাবিত সব জনস্বার্থবিরোধী ও বেআইনিভাবে বরাদ্দ করা ‘হকার কার্ড’ বাতিল করবেন।

২. ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আওতাধীন সব রাস্তা, ফুটপাত ও পথচারী চলাচলের স্থান থেকে হকার, দোকান, টেবিল-চেয়ার, অস্থায়ী কাঠামো, পণ্যসামগ্রী ও অন্যান্য অবৈধ দখল সম্পূর্ণরূপে অপসারণ করবেন বা অপসারণ করার উদ্যোগ নেবেন।

৩. অবৈধ দখলকারী ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট সহযোগীদের তালিকা প্রস্তুত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবেন।

৪. ভবিষ্যতে পুনরায় দখল রোধে পৃথক মনিটরিং সেল বা টাস্কফোর্স গঠন করে নিয়মিত তদারকি নিশ্চিত করবেন।

৫. বিকল্প হকার জোন নির্ধারণের প্রয়োজন হলে তা অবশ্যই ফুটপাত ও জনসাধারণের চলাচলের পথের বাইরে, আইনসম্মত ও সুপরিকল্পিত স্থানে করবেন।

৬. গৃহীত পদক্ষেপগুলোর একটি সংক্ষিপ্ত প্রতিবেদন জনসম্মুখে প্রকাশ করতে হবে, যাতে নাগরিকরা বাস্তব অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে পারেন।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সন্তোষজনক ব্যবস্থা নেওয়া না হলে হাইকোর্ট বিভাগে রিট করা হবে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।

কেআর/এমএমকে/এমএমএআর

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow