হবিগঞ্জ-১ আসনে শেখ সুজাতের ভরাডুবি, বিজয়ী ড. রেজা কিবরিয়া

অবশেষে বিপুল ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হয়ে আম-ছালা দুইটাই হারিয়েছেন হবিগঞ্জ-১ আসনের আলোচিত বিএনপির সাবেক এমপি শেখ সুজাত মিয়া। জেলার চারটি আসনের মধ্যে এই আসনের ফলাফল কী হবে এ নিয়ে আগে থেকেই আলোচনা চলছিল। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর সেই জল্পনা-কল্পনার অবসান হয়েছে। এ আসনে নির্বাচিত হয়েছেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. রেজা কিবরিয়া।জানা গেছে, হবিগঞ্জ-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী হয়েছিলেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. রেজা কিবরিয়া। কিন্তু বাধা হয়ে দাঁড়ান শেখ সুজাত মিয়া। দলীয় হাইকমান্ড সুজাতকে সরে দাঁড়ানোর নির্দেশ দেয়। অমান্য করায় তাঁর কপালে জোটে বহিষ্কারাদেশ। তারপরেও নাছোড়বান্দা সুজাত বিএনপির একাংশ, আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীদের সমর্থন এবং সংখ্যালঘুদের ভোট পাওয়ার আশায় ঘোড়া প্রতীক নিয়ে দাপিয়ে বেড়িয়েছেন নবীগঞ্জ ও বাহুবল উপজেলার সর্বত্র। তাঁর মাঝে ছিল ২০১১ সালে আওয়ামী লীগ আমলে এ আসনে উপনির্বাচনে জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ডা. মুশফিক চৌধুরীকে পরাজিত করার মানসিক শক্তি। কিন্তু দলীয় সমর্থন ছাড়া শুধু ব্যক্তিগত ইমেজ যে সব সময় কাজ করে না, তা হয়তো ভুলে গিয়েছিলেন তিনি।অন্যদিকে অসুস্

হবিগঞ্জ-১ আসনে শেখ সুজাতের ভরাডুবি, বিজয়ী ড. রেজা কিবরিয়া

অবশেষে বিপুল ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হয়ে আম-ছালা দুইটাই হারিয়েছেন হবিগঞ্জ-১ আসনের আলোচিত বিএনপির সাবেক এমপি শেখ সুজাত মিয়া। জেলার চারটি আসনের মধ্যে এই আসনের ফলাফল কী হবে এ নিয়ে আগে থেকেই আলোচনা চলছিল।

বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর সেই জল্পনা-কল্পনার অবসান হয়েছে। এ আসনে নির্বাচিত হয়েছেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. রেজা কিবরিয়া।

জানা গেছে, হবিগঞ্জ-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী হয়েছিলেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. রেজা কিবরিয়া। কিন্তু বাধা হয়ে দাঁড়ান শেখ সুজাত মিয়া। দলীয় হাইকমান্ড সুজাতকে সরে দাঁড়ানোর নির্দেশ দেয়। অমান্য করায় তাঁর কপালে জোটে বহিষ্কারাদেশ। তারপরেও নাছোড়বান্দা সুজাত বিএনপির একাংশ, আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীদের সমর্থন এবং সংখ্যালঘুদের ভোট পাওয়ার আশায় ঘোড়া প্রতীক নিয়ে দাপিয়ে বেড়িয়েছেন নবীগঞ্জ ও বাহুবল উপজেলার সর্বত্র। তাঁর মাঝে ছিল ২০১১ সালে আওয়ামী লীগ আমলে এ আসনে উপনির্বাচনে জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ডা. মুশফিক চৌধুরীকে পরাজিত করার মানসিক শক্তি। কিন্তু দলীয় সমর্থন ছাড়া শুধু ব্যক্তিগত ইমেজ যে সব সময় কাজ করে না, তা হয়তো ভুলে গিয়েছিলেন তিনি।

অন্যদিকে অসুস্থ শরীর নিয়ে পায়ে হেঁটে জনসংযোগ থেকে শুরু করে উঠোন বৈঠক ও জনসমাবেশে ড. রেজা কিবরিয়া ভোটারদের বোঝাতে সমর্থ হয়েছেন যে, দেশ-বিদেশে মোটা অঙ্কের অর্থ উপার্জনের সুযোগ না নিয়ে শুধুমাত্র স্থানীয় জনগণ ও এলাকার উন্নয়নে কাজ করতে চান তিনি। তাঁর যে পরিকল্পনা রয়েছে, সাধারণ মানুষ তা সহজে বিশ্বাস করেছেন। বাবা সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়ার মতো সহজ ও মৃদুভাষী ড. রেজা কিবরিয়ার সহধর্মিণী সিমিন রেজা সাধারণ নারী-পুরুষদের সঙ্গে সহজে মিশে যাওয়ায় জয়ের ক্ষেত্রে বাড়তি সুযোগ এনে দেয় বলে অনেকেই মনে করেন। সব সময় জনপ্রিয়তা সমান থাকে না, তা হয়তো ভুলে গিয়েছিলেন শেখ সুজাত।

নবীগঞ্জ সদরে কয়েকজন ভোটারের সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, ভোটের মাঠে নিজের অস্তিত্ব ও জনপ্রিয়তা ধরে রাখতে এবার তিনি বেশ অর্থ ব্যয় করার অভিযোগও উঠেছে। তবে নির্বাচনে রেজা কিবরিয়া ও সুজাত মিয়ার হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে বলে মনে করা হলেও ফলাফল তা ভুল প্রমাণিত হয়। এত দিন নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী শেখ সুজাত মিয়ার নাম শোনা গেলেও তাঁর স্থলে উঠে আসেন খেলাফত মজলিসের মাওলানা সিরাজুল ইসলাম। রেজা কিবরিয়া ভোট পেয়েছেন ১ লাখ ১১ হাজার ১৯৯ ভোট। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সিরাজুল ইসলাম পেয়েছেন ৫৬ হাজার ১৩২ ভোট। আর শেখ সুজাত ৩৪ হাজার ৬৩৭ ভোট পেয়ে চলে গেছেন তৃতীয় স্থানে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপি নবীগঞ্জ উপজেলার একজন নেতা বলেন, লন্ডন প্রবাসী শেখ সুজাত একজন পুরনো নেতা। তিনি নিজের পায়ে নিজেই কুড়াল মেরেছেন। দলের চেয়ারম্যানের অনুরোধ মানলে তিনি হয়তো জেলা বিএনপির সভাপতি পদ ছাড়াও অনেক সুযোগ-সুবিধা পেতেন।

রেজা কিবরিয়া সম্পর্কে তিনি বলেন, সম্প্রতি দলে যোগদান করেছেন রেজা কিবরিয়া। ফলে দলীয় অভ্যন্তরীণ কোন্দল তাঁকে স্পর্শ করতে পারেনি। সেক্ষেত্রে তিনি ভাগ্যবান। এছাড়া তিনি ও তাঁর পরিবারের প্রতি জনগণের আস্থা ও গ্রহণযোগ্যতা থাকায় নির্বাচনে তাঁর জয়ের পথ সুগম হয়েছে। আমরা আশাবাদী বিএনপি চেয়ারম্যান ড. রেজা কিবরিয়াকে মন্ত্রী পরিষদে রাখবেন।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow