হরমুজ প্রণালিতে ‘ফি’ নাকি ‘টোলমুক্ত’ যাত্রা? মতপার্থক্য স্পষ্ট
যুদ্ধ বন্ধে ইরান-মার্কিন সমঝোতার দিনেই হরমুজ প্রণালি নিয়ে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। বৈশ্বিক তেল বাণিজ্যের ২০ শতাংশ সম্পন্ন হওয়া এই জলপথ দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোর ওপর ফি আরোপ করা হতে পারে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকেই এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন। তবে, টোলমুক্ত নিরাপদ জাহাজ চলাচলের কথা জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার (১৫ জুন) সংবাদ সম্মেলনে মুখপাত্র বাকেই ফি আরোপের বিষয়টি জোর দিয়ে উল্লেখ করেছেন বলে সংবাদ প্রকাশ করেছে ফার্স নিউজ এজেন্সি। ইসমাইল বাকেই বলেন, হরমুজ প্রণালি আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইরান নিজের জাতীয় নিরাপত্তা ও ইসলামি প্রজাতন্ত্রের স্বার্থ রক্ষার জন্য আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী কিছু ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। ইরানের মুখপাত্র আরও বলেন, ফি নেওয়া হবে কারণ পরিবেশ রক্ষা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য পূর্ণ সেবা প্রদান করা হবে। ইরান ও ওমান অনেক ধরনের সেবা দেবে, আর এগুলোর জন্য খরচ রয়েছে। তাই ফি আরোপ করা হবে-এটা পরিষ্কার। তিনি আরও বলেন, এই জলপথে নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য। এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে অন্যান্য পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করার জন্য আমাদের কিছু স
যুদ্ধ বন্ধে ইরান-মার্কিন সমঝোতার দিনেই হরমুজ প্রণালি নিয়ে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। বৈশ্বিক তেল বাণিজ্যের ২০ শতাংশ সম্পন্ন হওয়া এই জলপথ দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোর ওপর ফি আরোপ করা হতে পারে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকেই এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন। তবে, টোলমুক্ত নিরাপদ জাহাজ চলাচলের কথা জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
সোমবার (১৫ জুন) সংবাদ সম্মেলনে মুখপাত্র বাকেই ফি আরোপের বিষয়টি জোর দিয়ে উল্লেখ করেছেন বলে সংবাদ প্রকাশ করেছে ফার্স নিউজ এজেন্সি।
ইসমাইল বাকেই বলেন, হরমুজ প্রণালি আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইরান নিজের জাতীয় নিরাপত্তা ও ইসলামি প্রজাতন্ত্রের স্বার্থ রক্ষার জন্য আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী কিছু ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
ইরানের মুখপাত্র আরও বলেন, ফি নেওয়া হবে কারণ পরিবেশ রক্ষা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য পূর্ণ সেবা প্রদান করা হবে। ইরান ও ওমান অনেক ধরনের সেবা দেবে, আর এগুলোর জন্য খরচ রয়েছে। তাই ফি আরোপ করা হবে-এটা পরিষ্কার।
তিনি আরও বলেন, এই জলপথে নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য। এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে অন্যান্য পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করার জন্য আমাদের কিছু সময় প্রয়োজন।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান জানিয়েছে, রোববার (১৪ জুন) একটি সমঝোতায় পৌঁছেছে। আগামী শুক্রবার (১৯ জুন) সুইজারল্যান্ডে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হবে। তবে, পুরো চুক্তির বিষয়বস্তু এখনো প্রকাশ করা হয়নি। এদিকে, ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের বন্দর অবরোধ প্রত্যাহার করবে যুক্তরাষ্ট্র এবং হরমুজ প্রণালি টোলমুক্তভাবে পুনরায় খুলে দেওয়া হবে।
হরমুজ প্রণালি নিয়ে একই ধরনের মন্তব্য করেছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ।ইরান-মার্কিন সমঝোতা ফরাসি টেলিভিশন চ্যানেল TF1-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, গত রাতে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে যে কাঠামোগত সমঝোতা হয়েছে তা বাস্তবায়নের জন্য আমাদের সবকিছু করতে হবে। হরমুজে কোনো ধরনের টোল আরোপ যাতে না হয় তা নিশ্চিত করতে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।
কিন্তু ইরানি সংবাদ সংস্থাগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে ৬০ দিনের জন্য বিনামূল্যে যাতায়াতের অনুমতি দেওয়া হবে এবং এই সময়ের মধ্যে আরও আলোচনা চলবে। এরপর ফি আরোপের পরিকল্পনা করছে ইরান।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম এক্সিওস এর তথ্য মতে, এই চুক্তির মূল লক্ষ্য হলো হরমুজ প্রণালি দিয়ে আবার স্বাভাবিকভাবে জাহাজ চলাচল শুরু করা। কিন্তু এই জলপথটি পুরোপুরি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে সময় লাগবে। জাহাজ চলাচলের আগে মাইন অপসারণ, অবকাঠামো মেরামত এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করা দরকার। এগুলো সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত আগের মতো পূর্ণ মাত্রায় শিপিং স্বাভাবিক নাও হতে পারে।
কেএম
What's Your Reaction?