হলিউডের ‘ঘোস্টবাস্টার্স’ তারকা মারা গেছেন

আশির দশকের হলিউড সিনেমার পরিচিত মুখ জেনিফার রুনইয়ন আর নেই। গত ৬ মার্চ নিজ শহরেই শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন এই মার্কিন অভিনেত্রী। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৫ বছর। জানা গেছে, ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করছিলেন তিনি। তার মৃত্যুর খবর প্রকাশ্যে আসতেই অনুরাগী ও সহকর্মীদের মধ্যে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। ১৯৮৪ সালে মুক্তি পাওয়া জনপ্রিয় চলচ্চিত্র ‘ঘোস্টবাস্টার্স’সিনেমায় অভিনয়ের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পরিচিতি পান জেনিফার রুনইয়ন। ওই সিনেমায় তিনি অভিনেত্রী অ্যানি পটস’র চরিত্রের বন্ধুর ভূমিকায় অভিনয় করেন। একই বছরে জনপ্রিয় সিটকম ‘চার্লস ইন চার্জ’-এ ‘গুয়েন্ডোলিন পিয়ার্স’ চরিত্রে অভিনয় করে টেলিভিশন দুনিয়ায় নিজের অবস্থান আরও শক্ত করেন তিনি। সেখানে অভিনেতা উইলি অ্যামস’র বিপরীতে প্রেমিকার চরিত্রে দেখা যায় তাকে। এরপর ১৯৮৮ সালে টেলিভিশন বিশেষ অনুষ্ঠান ‘এ ভেরি ব্র্যাডি ক্রিসমাস’-এ ‘সিন্ডি ব্র্যাডি’ চরিত্রে অভিনয় করে আবারও দর্শকদের মন জয় করেন জেনিফার। ওই চরিত্রে তিনি জায়গা নেন অভিনেত্রী সুজান ওসলেনর পরিবর্তে। পারিবারিক ঘরানার চরিত্রে তার সাবলীল অভিনয় দর্শকদের কাছে বেশ প্রশংসিত হয়। আশির দশকজুড়ে একাধিক টেলিভিশন প্রজেক্টে কা

হলিউডের ‘ঘোস্টবাস্টার্স’ তারকা মারা গেছেন

আশির দশকের হলিউড সিনেমার পরিচিত মুখ জেনিফার রুনইয়ন আর নেই। গত ৬ মার্চ নিজ শহরেই শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন এই মার্কিন অভিনেত্রী। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৫ বছর। জানা গেছে, ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করছিলেন তিনি। তার মৃত্যুর খবর প্রকাশ্যে আসতেই অনুরাগী ও সহকর্মীদের মধ্যে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

১৯৮৪ সালে মুক্তি পাওয়া জনপ্রিয় চলচ্চিত্র ‘ঘোস্টবাস্টার্স’সিনেমায় অভিনয়ের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পরিচিতি পান জেনিফার রুনইয়ন। ওই সিনেমায় তিনি অভিনেত্রী অ্যানি পটস’র চরিত্রের বন্ধুর ভূমিকায় অভিনয় করেন। একই বছরে জনপ্রিয় সিটকম ‘চার্লস ইন চার্জ’-এ ‘গুয়েন্ডোলিন পিয়ার্স’ চরিত্রে অভিনয় করে টেলিভিশন দুনিয়ায় নিজের অবস্থান আরও শক্ত করেন তিনি। সেখানে অভিনেতা উইলি অ্যামস’র বিপরীতে প্রেমিকার চরিত্রে দেখা যায় তাকে।

এরপর ১৯৮৮ সালে টেলিভিশন বিশেষ অনুষ্ঠান ‘এ ভেরি ব্র্যাডি ক্রিসমাস’-এ ‘সিন্ডি ব্র্যাডি’ চরিত্রে অভিনয় করে আবারও দর্শকদের মন জয় করেন জেনিফার। ওই চরিত্রে তিনি জায়গা নেন অভিনেত্রী সুজান ওসলেনর পরিবর্তে। পারিবারিক ঘরানার চরিত্রে তার সাবলীল অভিনয় দর্শকদের কাছে বেশ প্রশংসিত হয়।

আশির দশকজুড়ে একাধিক টেলিভিশন প্রজেক্টে কাজ করেন তিনি। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ‘এইট্টিন এগেইন!’, যেখানে তার সহঅভিনেতা ছিলেন কিংবদন্তি কমেডিয়ান জর্জ বার্নস। তবে ক্যারিয়ারের এক গুরুত্বপূর্ণ সময়ে হঠাৎ করেই অভিনয় জগত থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন এই অভিনেত্রী।

১৯৯১ সালে প্রযোজক টড কর্ম্যানকে বিয়ে করার পর ধীরে ধীরে হলিউড থেকে দূরে সরে যান তিনি। মূলত পরিবার ও সন্তানদের বড় করে তোলাকেই তখন জীবনের প্রধান অগ্রাধিকার দেন। তার দুই সন্তান-ছেলে ওয়ায়াট ও মেয়ে বেইলিকে নিজের হাতে বড় করতে চেয়েছিলেন তিনি।

এক সাক্ষাৎকারে জেনিফার রুনইয়ন জানিয়েছিলেন, তার বাবা-মা- রেডিও শিল্পী জিম রুনইয়ন ও জেন রবার্টস- কাজের চাপে খুব ব্যস্ত থাকতেন। ফলে ছোটবেলায় তাকে অনেক সময় গৃহপরিচারিকা বা ন্যানিদের কাছেই থাকতে হতো। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই নিজের সন্তানদের ক্ষেত্রে ভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তিনি।

অভিনয় থেকে বিরতির সময় তিনি শিক্ষকতা করেন এবং একটি কুকিং পডকাস্টও সহ-সঞ্চালনা করেন। পরে সন্তানরা বড় হয়ে ওঠার পর আবার অভিনয়ে ফিরতে শুরু করেন। দুই হাজার দশকের দিকে তার প্রত্যাবর্তনের পর বেশ কয়েকটি স্বতন্ত্র ঘরানার সিনেমায় দেখা যায় তাকে। এর মধ্যে রয়েছে ‘সাইলেন্ট নাইট’, ‘ব্লাডি নাইট টু: রিভাইভাল’, ‘টেরর টেলস’ এবং ‘ব্লাডসাকার জোন্স ভার্সেস দ্য ক্রিপিং ডেথ’। পরবর্তীতে তিনি অভিনয় করেন ‘স্পেকট্রাল স্কোয়াড: দ্য হন্টিং অব সোফি লনসন’ সিনেমাতেও।

আরও পড়ুন:
গানেই গড়েছেন সাম্রাজ্য, কত সম্পদের মালিক শ্রেয়া ঘোষাল 
বড়পর্দায় কি দেখা যাবে সালমান ও সামান্থার রসায়ন? 

২০২৬ সালে তার আরও কিছু কাজ দেখার অপেক্ষায় ছিলেন অনুরাগীরা। তবে সেই প্রত্যাশা অপূর্ণই থেকে গেল। গত ৮ মার্চ তার মৃত্যুর খবর প্রকাশ্যে আসে। তার এক ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও সহঅভিনেত্রী এরিক মার্ফি জানান, ক্যানসারের সঙ্গে প্রায় ছয় মাস লড়াইয়ের পরই মারা যান জেনিফার রুনইয়ন।

হলিউডের পর্দায় তাকে আর দেখা যাবে না, কিন্তু আশির দশকের টেলিভিশন ও সিনেমার ইতিহাসে জেনিফার রুনইয়ন চিরকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।

এমএমএফ

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow