হাইতিতে সহিংসতায় নিহত ৭০, বাস্তুচ্যুত হাজারো মানুষ

হাইতির কৃষি অঞ্চল হিসেবে পরিচিত আর্টিবোনিতে সশস্ত্র গ্যাং হামলায় অন্তত ৭০ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে মানবাধিকার সংস্থা ডিফসার প্লাস। এই হামলায় আহত হয়েছেন অন্তত ৩০ জন। একই সঙ্গে শত শত ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। ফলে কয়েক হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়ে পড়েছেন।  মানবাধিকার সংস্থার বরাত দিয়ে রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই হামলার প্রকৃত ভয়াবহতা সরকারি হিসাবের তুলনায় অনেক বেশি। যেখানে প্রাথমিকভাবে সরকারি সূত্রে নিহতের সংখ্যা ১৬ জন বলা হয়েছিল, সেখানে সংস্থাটি বলছে মৃত্যুর সংখ্যা অন্তত ৭০। স্থানীয় বাসিন্দা ও কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানা যায়, রোববার ভোরে জঁ-দেনি এলাকার আশপাশের গ্রামগুলোতে হঠাৎ করেই হামলা চালায় গ্যাং সদস্যরা। ভোরের নীরবতা ভেঙে গুলির শব্দ, আগুনের লেলিহান শিখা আর মানুষের চিৎকারে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে পুরো এলাকায়। হামলাকারীরা বাড়িঘরে আগুন ধরিয়ে দেয়, লুটপাট চালায় এবং নির্বিচারে হামলা করে। এই তাণ্ডব চলে সোমবার ভোর পর্যন্ত। এই সহিংসতার কারণে প্রায় ৬ হাজার মানুষ তাদের ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছেন বলে জানিয়েছে ডিফসার প্লাস। অনেকেই আশপাশের নিরাপদ এলাকায় আশ্রয় নিয়েছেন, আবার কেউ কেউ খোলা আ

হাইতিতে সহিংসতায় নিহত ৭০, বাস্তুচ্যুত হাজারো মানুষ

হাইতির কৃষি অঞ্চল হিসেবে পরিচিত আর্টিবোনিতে সশস্ত্র গ্যাং হামলায় অন্তত ৭০ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে মানবাধিকার সংস্থা ডিফসার প্লাস। এই হামলায় আহত হয়েছেন অন্তত ৩০ জন। একই সঙ্গে শত শত ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। ফলে কয়েক হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়ে পড়েছেন। 

মানবাধিকার সংস্থার বরাত দিয়ে রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই হামলার প্রকৃত ভয়াবহতা সরকারি হিসাবের তুলনায় অনেক বেশি। যেখানে প্রাথমিকভাবে সরকারি সূত্রে নিহতের সংখ্যা ১৬ জন বলা হয়েছিল, সেখানে সংস্থাটি বলছে মৃত্যুর সংখ্যা অন্তত ৭০।

স্থানীয় বাসিন্দা ও কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানা যায়, রোববার ভোরে জঁ-দেনি এলাকার আশপাশের গ্রামগুলোতে হঠাৎ করেই হামলা চালায় গ্যাং সদস্যরা। ভোরের নীরবতা ভেঙে গুলির শব্দ, আগুনের লেলিহান শিখা আর মানুষের চিৎকারে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে পুরো এলাকায়। হামলাকারীরা বাড়িঘরে আগুন ধরিয়ে দেয়, লুটপাট চালায় এবং নির্বিচারে হামলা করে। এই তাণ্ডব চলে সোমবার ভোর পর্যন্ত।

এই সহিংসতার কারণে প্রায় ৬ হাজার মানুষ তাদের ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছেন বলে জানিয়েছে ডিফসার প্লাস। অনেকেই আশপাশের নিরাপদ এলাকায় আশ্রয় নিয়েছেন, আবার কেউ কেউ খোলা আকাশের নিচে দিন কাটাচ্ছেন। খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি ও চিকিৎসাসেবার অভাবে তাদের মানবিক সংকট আরও তীব্র হয়ে উঠছে।

এর আগে কাছাকাছি এলাকায় সশস্ত্র গোষ্ঠীর সহিংসতার কারণে মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে ২ হাজারের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছিল। 

এদিকে জাতিসংঘ পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। সংস্থাটির মহাসচিবের মুখপাত্র এক ব্রিফিংয়ে জানিয়েছেন, নিহতের সংখ্যা ১০ থেকে ৮০ জনের মধ্যে হতে পারে এবং পুরো ঘটনার নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রয়োজন। একই সঙ্গে বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

ডিফসার প্লাস এবং কালেকটিভ টু সেভ দ্য আর্টিবোনিত এক যৌথ বিবৃতিতে অভিযোগ করেছে, নিরাপত্তা বাহিনীর যথাসময়ে কার্যকর প্রতিক্রিয়ার অভাব এবং পুরো অঞ্চলটিকে কার্যত সশস্ত্র গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে ছেড়ে দেওয়া কর্তৃপক্ষের চরম দায়িত্বহীনতার পরিচয় বহন করে। তাদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে চলা গ্যাং সহিংসতা দমনে সরকারের ব্যর্থতাই এই ধরনের গণহত্যার পথ তৈরি করছে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow