হাওরে হাসির বদলে কান্নার ঈদ
‘কাল ঈদ। অথচ ইচ্ছে আছিল (ছিল) হাওরের ধান ঘরে তুলে বছরের খোরাক রেখে বাকি ধান বেইচা দিমু (বিক্রি করে দেবো)। কিন্তু সেটা আর পূরণ হলো না। সব ধান ডুবে গেছে পানিতে। এখন বাচ্চা-কাচ্চাদের (ছেলে মেয়ে) ঈদে কী কইরা (করে) নতুন জামা (কাপড়) কিনে দিমু (দেবো)? সেই সামর্থ্য নেই।’ কথাগুলো বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন সুনামগঞ্জের দেখার হাওরের কৃষক ইসলাম উদ্দিন। শুধু তিনি না, এই অঞ্চলের প্রতিটি কৃষকের ঘরে হাহাকার। হাওরের ১০ লাখ কৃষকের মধ্যে লক্ষাধিক কৃষকের কষ্টের ধান বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে। অথচ এই ধান দিয়েই চলে সারা বছরের খোরাকি। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, চলতি বছরের মার্চের শেষের দিকে সুনামগঞ্জে অতিবৃষ্টি শুরু হয়। এতে জেলার ১৩৭টি হাওরের মধ্যে অনেক হাওরে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। তবে সেই জলাবদ্ধতা নিরসনে জেলা প্রশাসন, কৃষি বিভাগ ও পানি উন্নয়ন বোর্ড চেষ্টা চালিয়ে গেলেও এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ে একটানা ভারী বৃষ্টিতে ডুবে যায় কৃষকের কষ্টের ধান। সরকারি হিসেবে ২০ হাজার হেক্টর জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও কৃষক সংগঠনের দাবি, জেলায় প্রায় ৪০ হাজার হেক্টর ধান পানিতে ডুবেছে। কিছু ধান পানির নিচ থেকে কৃষকরা তুলে আনল
‘কাল ঈদ। অথচ ইচ্ছে আছিল (ছিল) হাওরের ধান ঘরে তুলে বছরের খোরাক রেখে বাকি ধান বেইচা দিমু (বিক্রি করে দেবো)। কিন্তু সেটা আর পূরণ হলো না। সব ধান ডুবে গেছে পানিতে। এখন বাচ্চা-কাচ্চাদের (ছেলে মেয়ে) ঈদে কী কইরা (করে) নতুন জামা (কাপড়) কিনে দিমু (দেবো)? সেই সামর্থ্য নেই।’
কথাগুলো বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন সুনামগঞ্জের দেখার হাওরের কৃষক ইসলাম উদ্দিন। শুধু তিনি না, এই অঞ্চলের প্রতিটি কৃষকের ঘরে হাহাকার। হাওরের ১০ লাখ কৃষকের মধ্যে লক্ষাধিক কৃষকের কষ্টের ধান বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে। অথচ এই ধান দিয়েই চলে সারা বছরের খোরাকি।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, চলতি বছরের মার্চের শেষের দিকে সুনামগঞ্জে অতিবৃষ্টি শুরু হয়। এতে জেলার ১৩৭টি হাওরের মধ্যে অনেক হাওরে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। তবে সেই জলাবদ্ধতা নিরসনে জেলা প্রশাসন, কৃষি বিভাগ ও পানি উন্নয়ন বোর্ড চেষ্টা চালিয়ে গেলেও এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ে একটানা ভারী বৃষ্টিতে ডুবে যায় কৃষকের কষ্টের ধান। সরকারি হিসেবে ২০ হাজার হেক্টর জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও কৃষক সংগঠনের দাবি, জেলায় প্রায় ৪০ হাজার হেক্টর ধান পানিতে ডুবেছে। কিছু ধান পানির নিচ থেকে কৃষকরা তুলে আনলেও রোদ না থাকায় অনেক ধানের চারা গজিয়েছে।
হাওরে পানিতে ডুবে গেছে বিস্তীর্ণ এলাকার ধানক্ষেত/ছবি-জাগো নিউজ
‘অনেক আশা নিয়ে ধান করে কোনো লাভ হলো না। সব ধান বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে। এখন সরকারের সহায়তাটুকু পেলে ঈদে কেবল ছেলে-মেয়েকে খুশি রাখা যেতো’
জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর অতিবৃষ্টি ও জলাবদ্ধতায় সুনামগঞ্জের এক লাখ ২৯ হাজার ৫৫৯ জন কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এরইমধ্যে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা চূড়ান্ত করে সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। তবে কবে সহায়তা পাওয়া যাবে তা জানা নেই কারও। কৃষকরা বলছেন, সরকারি এই সহায়তা ঈদের আগে পেলে হয়তো পরিবারের ছেলে-মেয়েদের মুখে ঈদে হাসি ফোটানো যেতো।
দেখার হাওরের কৃষক লতিফ মিয়া জাগো নিউজকে বলেন, ‘অনেক আশা নিয়ে ধান করে কোনো লাভ হলো না। সব ধান বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে। এখন সরকারের সহায়তাটুকু পেলে ঈদে কেবল ছেলে-মেয়েকে খুশি রাখা যেতো।’
হাওরে পানিতে ডুবে গেছে বিস্তীর্ণ এলাকার ধানক্ষেত/ছবি-জাগো নিউজ
আরও পড়ুন:
হাওরে বন্যার আগেই ঘরে উঠবে ধান, বাকৃবি গবেষকদের সফলতা
ভেজা ধানেই খোরাকির খোঁজ
বজ্রপাত-জোঁকের ভয়ে মিলছে না শ্রমিক, ধান নিয়ে দিশাহারা কৃষক
‘টাকা দিয়েও শ্রমিক পাওয়া যায় না, আবার পেলেও তাদের মজুরি অনেক’
রহমত আলী নামের আরেক কৃষক বলেন, ‘ধান তুলে পরিবার নিয়ে খুশি থাকার কথা। অথচ ধান হারিয়ে এখন কেবল হতাশা আর দুশ্চিন্তা। সারাটা বছর কীভাবো চলবো, সেই চিন্তায় রাতে ঘুম হয় না।’
‘ধান তুলে পরিবার নিয়ে খুশি থাকার কথা। অথচ ধান হারিয়ে এখন কেবল হতাশা আর দুশ্চিন্তা। সারাটা বছর কীভাবো চলবো, সেই চিন্তায় রাতে ঘুম হয় না’
করচার হাওরের কৃষক আব্দুল মিয়া। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ‘সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কী কষ্টই না করেছি। ধানও হয়েছিল ভালো। কিন্তু ঘরে তোলার আগেই সব পানিতে তলিয়ে গেল!’
পানিতে ডুবে যাওয়া ধান কাটছেন কৃষকরা/ছবি-জাগো নিউজ
শনির হাওরের কৃষক মুফাচ্ছির রহমানের ভাষ্য, ‘এই সময়ে হাওরে ঈদ উৎসব থাকার কথা। অথচ এখন পুরো হাওর এলাকায় সুনসান নীরবতা। সারা বছরের খোরাকি পানিতে ডুবে শেষ। এবার আমাদের ঈদ নেই।’
আরও পড়ুন:
বেহাল সড়কে কাটা ধান নিয়ে দুর্ভোগে হাওরের চাষিরা
হাওরে গোখাদ্য সংকট, ঈদের আগেই অনেকে বিক্রি করছেন গবাদিপশু
হাওরে ধান কাটতে গিয়ে নৌকাডুবি, ২১ ঘণ্টা পর শ্রমিকের মরদেহ উদ্ধার
পানিতে ডুবে যাওয়া ধান কাটছেন কৃষকরা/ছবি-জাগো নিউজ
সুনামগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিতদপ্তরের উপ-পরিচালক ওমর ফারুখ বলেন, ‘চলতি বছর সুনামগঞ্জে দুই লাখ ২৩ হাজার ৫১১ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের চাষাবাদ হয়েছে। তবে বৃষ্টির পানিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে অনেক কৃষকের ধান তলিয়েছে। আমরা তাদের তালিকা তৈরি করে জেলা প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করেছি।’
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রস্তুত করে সংশ্লিষ্ট সব উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বরাবর পাঠানো হয়েছে বলে জানান অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. মতিউর রহমান খান।
হাওরে পানিতে ডুবে গেছে বিস্তীর্ণ এলাকার ধানক্ষেত/ছবি-জাগো নিউজ
তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ‘যারা জমি চাষাবাদ করেছিলেন, ক্ষতিগ্রস্ত তালিকায় তাদের নামই যুক্ত হয়েছে। তবে কবে তারা সহায়তা পাবেন সেটা কনফার্ম বলতে পারবো না।’
এসআর/জেআইএম
What's Your Reaction?