হাতের উজ্জ্বলতা ফিরিয়ে আনতে ভরসা রাখুন প্রাকৃতিক উপায়ে
মুখের ত্বকের যত্নে আমরা যতটা সচেতন, হাতের যত্নে ততটা নই। অথচ সারাদিনের রান্নাবান্না, কাপড় ধোয়া, বাসন মাজা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ, বারবার সাবান বা হ্যান্ডওয়াশ ব্যবহার-সবচেয়ে বেশি চাপ পড়ে হাতের ত্বকের ওপরই। ফলে ধীরে ধীরে হাতের ত্বক শুষ্ক, রুক্ষ ও কালচে হয়ে যায়। অনেক সময় বয়সের ছাপও মুখের আগেই হাতে ফুটে ওঠে। সুস্থ, কোমল ও উজ্জ্বল হাত পেতে সবসময় দামি প্রসাধনীর প্রয়োজন হয় না। ঘরেই থাকা কয়েকটি প্রাকৃতিক উপাদান দিয়ে তৈরি প্যাক নিয়মিত ব্যবহার করলে হাতের কালচে ভাব কমে, মৃত কোষ দূর হয় এবং ত্বক থাকে নরম ও মসৃণ। অ্যালোভেরা ও মুলতানি মাটির প্যাক হাতের শুষ্কতা ও রোদে পোড়া দাগ দূর করতে এই প্যাক বেশ কার্যকর। ২ চা চামচ অ্যালোভেরা জেলের সঙ্গে পরিমাণমতো মুলতানি মাটি, আধা চা চামচ লেবুর রস এবং ২ চা-চামচ মধু মিশিয়ে একটি মসৃণ পেস্ট তৈরি করুন। এরপর পুরো হাতে লাগিয়ে ১৫ মিনিট অপেক্ষা করুন। শুকিয়ে গেলে স্বাভাবিক পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে দুই থেকে তিনবার ব্যবহার করলে ত্বক আরও কোমল ও সতেজ দেখাবে। কফি ও চালের গুঁড়ার প্যাক হাতের মৃত কোষ দূর করে প্রাকৃতিক উজ্জ্বলতা ফিরিয়ে আনতে এই স্ক্রাব দারুণ উপকারী। ১ চা চাম
মুখের ত্বকের যত্নে আমরা যতটা সচেতন, হাতের যত্নে ততটা নই। অথচ সারাদিনের রান্নাবান্না, কাপড় ধোয়া, বাসন মাজা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ, বারবার সাবান বা হ্যান্ডওয়াশ ব্যবহার-সবচেয়ে বেশি চাপ পড়ে হাতের ত্বকের ওপরই। ফলে ধীরে ধীরে হাতের ত্বক শুষ্ক, রুক্ষ ও কালচে হয়ে যায়। অনেক সময় বয়সের ছাপও মুখের আগেই হাতে ফুটে ওঠে।
সুস্থ, কোমল ও উজ্জ্বল হাত পেতে সবসময় দামি প্রসাধনীর প্রয়োজন হয় না। ঘরেই থাকা কয়েকটি প্রাকৃতিক উপাদান দিয়ে তৈরি প্যাক নিয়মিত ব্যবহার করলে হাতের কালচে ভাব কমে, মৃত কোষ দূর হয় এবং ত্বক থাকে নরম ও মসৃণ।
অ্যালোভেরা ও মুলতানি মাটির প্যাক
হাতের শুষ্কতা ও রোদে পোড়া দাগ দূর করতে এই প্যাক বেশ কার্যকর। ২ চা চামচ অ্যালোভেরা জেলের সঙ্গে পরিমাণমতো মুলতানি মাটি, আধা চা চামচ লেবুর রস এবং ২ চা-চামচ মধু মিশিয়ে একটি মসৃণ পেস্ট তৈরি করুন। এরপর পুরো হাতে লাগিয়ে ১৫ মিনিট অপেক্ষা করুন। শুকিয়ে গেলে স্বাভাবিক পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে দুই থেকে তিনবার ব্যবহার করলে ত্বক আরও কোমল ও সতেজ দেখাবে।
কফি ও চালের গুঁড়ার প্যাক
হাতের মৃত কোষ দূর করে প্রাকৃতিক উজ্জ্বলতা ফিরিয়ে আনতে এই স্ক্রাব দারুণ উপকারী। ১ চা চামচ কফির সঙ্গে ২ চা চামচ চালের গুঁড়া এবং প্রয়োজনমতো কাঁচা দুধ মিশিয়ে নিন। এবার কয়েক মিনিট আলতোভাবে হাতে ম্যাসাজ করুন। এরপর আরও ১০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন। নিয়মিত ব্যবহারে হাতের ত্বক পরিষ্কার ও মসৃণ দেখাবে।
চন্দনের প্যাক
ত্বকের জ্বালাপোড়া কমিয়ে সতেজ ভাব ফিরিয়ে আনতে চন্দনের প্যাক ব্যবহার করতে পারেন। শসা, টমেটো ও লেবুর রসের সঙ্গে সামান্য চন্দনের গুঁড়া মিশিয়ে একটি পেস্ট তৈরি করুন। পুরো হাতে লাগিয়ে শুকিয়ে গেলে হালকা গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এটি ত্বককে শীতল রাখার পাশাপাশি কালচে ভাব কমাতেও সাহায্য করে।
কমলার খোসা ও দুধের প্যাক
কমলার খোসা শুকিয়ে গুঁড়া করে সংরক্ষণ করুন। প্রয়োজনমতো গুঁড়ার সঙ্গে কাঁচা দুধ মিশিয়ে হাতে লাগান। শুকিয়ে গেলে ধুয়ে ফেলুন। কমলার খোসায় থাকা প্রাকৃতিক ভিটামিন সি ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে এবং কালচে দাগ হালকা করতে সহায়তা করে।
প্রতিদিনের যত্নও জরুরি
শুধু প্যাক ব্যবহার করলেই হবে না, প্রতিদিনের কিছু অভ্যাসও হাতকে সুন্দর রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বাসন মাজা, কাপড় ধোয়া বা ক্ষারযুক্ত পরিষ্কারক ব্যবহার করার সময় অবশ্যই গ্লাভস পরার চেষ্টা করুন। এতে রাসায়নিকের সরাসরি প্রভাব থেকে হাতের ত্বক সুরক্ষিত থাকবে।
দিনে বারবার হাত ধোয়ার প্রয়োজন হলে গ্লিসারিন বা ক্রিম-সমৃদ্ধ হ্যান্ডওয়াশ ব্যবহার করুন। এগুলো হাতের প্রাকৃতিক আর্দ্রতা বজায় রাখতে সাহায্য করে এবং অতিরিক্ত শুষ্কতা কমায়।
রাতে ময়েশ্চারাইজিংয়ের অভ্যাস করুন
রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে ভালো মানের ময়েশ্চারাইজার লাগানোর পাশাপাশি কয়েক ফোঁটা অলিভ অয়েল হাতে নিয়ে আলতোভাবে ম্যাসাজ করতে পারেন। এতে ত্বক গভীরভাবে পুষ্টি পায় এবং সকালে হাত আরও নরম ও মসৃণ অনুভূত হয়।
অনেকেই হাত পরিষ্কার রাখতে বারবার অ্যালকোহলযুক্ত হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করেন। তবে অতিরিক্ত অ্যালকোহল ত্বকের আর্দ্রতা কমিয়ে হাতকে আরও শুষ্ক করে দিতে পারে। তাই প্রয়োজনে ময়েশ্চারাইজিং উপাদানযুক্ত স্যানিটাইজার ব্যবহার করুন এবং পরে হ্যান্ড ক্রিম লাগাতে ভুলবেন না।
নিয়মিত পরিচর্যা, প্রাকৃতিক প্যাকের ব্যবহার এবং দৈনন্দিন কিছু সহজ অভ্যাস মেনে চললেই হাতের ত্বক দীর্ঘদিন কোমল, উজ্জ্বল ও স্বাস্থ্যোজ্জ্বল রাখা সম্ভব। মুখের মতো হাতেরও যত্ন নিন, কারণ সুন্দর হাতও আপনার ব্যক্তিত্বের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
সূত্র: নেটমেডস, উইকিহাও, এনডিটিভি
এসএকেওয়াই
What's Your Reaction?

