‘হাত কাঁপছিল, কলিজা ফেটে যাচ্ছিল: ১৭ বছরে এমন দিন দেখিনি’

সতেরো বছরের দীর্ঘ পেশাজীবনে কত শত মানুষের শেষ শয্যা রচনা করেছেন মুজিবুর ফকির, তার ইয়ত্তা নেই। কিন্তু শুক্রবারের দুপুরটা ছিল তার জীবনের সবচেয়ে ভারী এবং যন্ত্রণাময়। মোংলা পৌর কবরস্থানের এক কোণে পাশাপাশি ৯টি কবর খুঁড়তে গিয়ে বারবার থমকে যাচ্ছিলেন এই গোরখোদক। তার ভাষায়, “জীবনে প্রথম একসঙ্গে ৯ কবর খুঁড়লাম, হাত কাঁপছিল।” কবরস্থানের খাদেম ও গোরখোদক মুজিবুর ফকির সাধারণত নির্বিকার চিত্তে কাজ করেন। কিন্তু শুক্রবারের পরিস্থিতি ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। একই পরিবারের ৯ জন সদস্যের জন্য সারিবদ্ধভাবে কবর প্রস্তুত করার সময় কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনিও।  মুজিবুর বলেন, “১৭ বছর ধরে এই কবরস্থানে আছি। কত মানুষ বিদায় করলাম, কিন্তু এক বাড়িতে ৯ লাশ আর এক সারিতে ৯ কবরের দৃশ্য কোনোদিন দেখিনি। কোদাল চালাব কী, হাত বারবার কেঁপে উঠছিল। মনে হচ্ছিল কলিজাটা ফেটে যাবে।” পরিবারের সদস্যদের ইচ্ছাতেই পাশাপাশি কবরগুলো খোঁড়া হয়েছে। মুজিবুর ফকির জানান, তারা চেয়েছিলেন বিয়োগব্যথার এই বিমর্ষ মুহূর্তেও যেন স্বজনরা অন্তত মাটির নিচে একসঙ্গে থাকতে পারেন। সারিবদ্ধ সেই ৯টি কবরের শূন্যতা যেন পুরো মোংলাবাসীর বুক চিরে বের হওয়া হাহাকারের প্রতিচ্ছবি

‘হাত কাঁপছিল, কলিজা ফেটে যাচ্ছিল: ১৭ বছরে এমন দিন দেখিনি’

সতেরো বছরের দীর্ঘ পেশাজীবনে কত শত মানুষের শেষ শয্যা রচনা করেছেন মুজিবুর ফকির, তার ইয়ত্তা নেই। কিন্তু শুক্রবারের দুপুরটা ছিল তার জীবনের সবচেয়ে ভারী এবং যন্ত্রণাময়। মোংলা পৌর কবরস্থানের এক কোণে পাশাপাশি ৯টি কবর খুঁড়তে গিয়ে বারবার থমকে যাচ্ছিলেন এই গোরখোদক। তার ভাষায়, “জীবনে প্রথম একসঙ্গে ৯ কবর খুঁড়লাম, হাত কাঁপছিল।”

কবরস্থানের খাদেম ও গোরখোদক মুজিবুর ফকির সাধারণত নির্বিকার চিত্তে কাজ করেন। কিন্তু শুক্রবারের পরিস্থিতি ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। একই পরিবারের ৯ জন সদস্যের জন্য সারিবদ্ধভাবে কবর প্রস্তুত করার সময় কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনিও। 

মুজিবুর বলেন, “১৭ বছর ধরে এই কবরস্থানে আছি। কত মানুষ বিদায় করলাম, কিন্তু এক বাড়িতে ৯ লাশ আর এক সারিতে ৯ কবরের দৃশ্য কোনোদিন দেখিনি। কোদাল চালাব কী, হাত বারবার কেঁপে উঠছিল। মনে হচ্ছিল কলিজাটা ফেটে যাবে।”

পরিবারের সদস্যদের ইচ্ছাতেই পাশাপাশি কবরগুলো খোঁড়া হয়েছে। মুজিবুর ফকির জানান, তারা চেয়েছিলেন বিয়োগব্যথার এই বিমর্ষ মুহূর্তেও যেন স্বজনরা অন্তত মাটির নিচে একসঙ্গে থাকতে পারেন। সারিবদ্ধ সেই ৯টি কবরের শূন্যতা যেন পুরো মোংলাবাসীর বুক চিরে বের হওয়া হাহাকারের প্রতিচ্ছবি হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।

যখন একে একে ৯টি নিথর দেহ খাটিয়ায় করে কবরের পাশে আনা হলো, তখন নির্বাক দাঁড়িয়ে ছিলেন মুজিবুর। যে হাতগুলো এক সময় দক্ষতার সঙ্গে কবর খুঁড়েছে, সেই হাতগুলোই আজ কাঁপছিল শেষ মাটিটুকু দিতে।

মুজিবুরের কণ্ঠে ছিল কেবল করুণ এক প্রার্থনা, এমন দৃশ্য যেন আর কাউরে দেখতে না হয়। এই শোক সহ্য করার শক্তি খোদা পরিবারটারে দিক। 

আশপাশের ৯টি মসজিদ থেকে আনা ৯টি খাটিয়া আর পাশাপাশি ৯টি কবরের এই দৃশ্য মোংলার ইতিহাসে এক বেদনাবিধুর অধ্যায় হিসেবে চিরস্থায়ী হয়ে রইল মুজিবুর ফকিরের স্মৃতিতে।

প্রসঙ্গত, বুধবার (১১ মার্চ) রাতে খুলনার কয়রা উপজেলার নাকসা গ্রামের বাসিন্দা আবদুস সালাম মোড়লের মেয়ে মার্জিয়া আক্তারের (মিতু) সঙ্গে বিয়ে হয় মোংলা পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আবদুর রাজ্জাকের ছোট ছেলে আহাদুর রহমানের (সাব্বির)। বিয়ের পর বর-কনেসহ দুই পরিবারের সদস্যরা মাইক্রোবাসে ফিরছিলেন। এরপর মাইক্রোবাসটি রামপাল উপজেলার বেলাইবিজ এলাকায় বিপরীত দিক দিয়ে আসা বাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে মাইক্রোবাসের চালকসহ ১৪ জন নিহত হন। 

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow