হামের টিকা নিয়ে কী বলেছিলেন? যে ব্যাখ্যা দিলেন শায়খ আহমাদুল্লাহ
সারাদেশে হামের প্রকোপে অনেক শিশু মারা যাচ্ছে। অনেকে এর জন্য টিকা কিংবা ভ্যাকসিনের অভাবকে দায়ী করছেন। আবার অনেকে রোগ প্রতিরোধক ভ্যাকসিন গ্রহণ করাকে পশ্চিমাদের ষড়যন্ত্র বলে মনে করে থাকে। এই প্রেক্ষাপটে সম্প্রতি আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহর কিছু খণ্ডিত বক্তব্যের ভিডিও, ফটোকার্ড প্রচার করা হয় যেগুলোতে তিনি টিকার বিরুদ্ধে বলছেন বলে মনে হচ্ছে। তিনি কি আসলেই রোগ প্রতিরোধক টিকা বা ভ্যাকসিন নেওয়ার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন? হাম, রুবেলাসহ অন্যান্য রোগ প্রতিরোধের আগাম ব্যবস্থা হিসেবে ভ্যাকসিন বা টিকা নেওয়াকে তিনি কি ইসলামের দৃষ্টিতে নিষিদ্ধ মনে করেন? অবশেষে এ ব্যাপারে নিজের অবস্থান পরিস্কার করে বক্তব্য দিয়েছেন শায়খ আহমাদুল্লাহ। নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক চ্যানেলে শনিবার (১৮ এপ্রিল ২০২৬) প্রকাশ করা এই ভিডিওতে শায়খ আহমাদুল্লাহ তার খণ্ডিত বক্তব্য নিয়ে বিভ্রান্তি, কোরআন ও সুন্নাহর আলোকে চিকিৎসার গুরুত্ব এবং রোগ প্রতিরোধের আগাম ব্যবস্থা (Vaccination) সম্পর্কে ইসলামের নির্দেশনা তুলে ধরেন। শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, “ইসলাম রোগ প্রতিরোধের আগাম ব্যবস্থা বা ভ্যাকসিন গ্রহণকে সমর্থন করে। গত
সারাদেশে হামের প্রকোপে অনেক শিশু মারা যাচ্ছে। অনেকে এর জন্য টিকা কিংবা ভ্যাকসিনের অভাবকে দায়ী করছেন। আবার অনেকে রোগ প্রতিরোধক ভ্যাকসিন গ্রহণ করাকে পশ্চিমাদের ষড়যন্ত্র বলে মনে করে থাকে। এই প্রেক্ষাপটে সম্প্রতি আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহর কিছু খণ্ডিত বক্তব্যের ভিডিও, ফটোকার্ড প্রচার করা হয় যেগুলোতে তিনি টিকার বিরুদ্ধে বলছেন বলে মনে হচ্ছে। তিনি কি আসলেই রোগ প্রতিরোধক টিকা বা ভ্যাকসিন নেওয়ার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন? হাম, রুবেলাসহ অন্যান্য রোগ প্রতিরোধের আগাম ব্যবস্থা হিসেবে ভ্যাকসিন বা টিকা নেওয়াকে তিনি কি ইসলামের দৃষ্টিতে নিষিদ্ধ মনে করেন?
অবশেষে এ ব্যাপারে নিজের অবস্থান পরিস্কার করে বক্তব্য দিয়েছেন শায়খ আহমাদুল্লাহ। নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক চ্যানেলে শনিবার (১৮ এপ্রিল ২০২৬) প্রকাশ করা এই ভিডিওতে শায়খ আহমাদুল্লাহ তার খণ্ডিত বক্তব্য নিয়ে বিভ্রান্তি, কোরআন ও সুন্নাহর আলোকে চিকিৎসার গুরুত্ব এবং রোগ প্রতিরোধের আগাম ব্যবস্থা (Vaccination) সম্পর্কে ইসলামের নির্দেশনা তুলে ধরেন।
শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন,
“ইসলাম রোগ প্রতিরোধের আগাম ব্যবস্থা বা ভ্যাকসিন গ্রহণকে সমর্থন করে। গত দুই পাঁচ বা সাত বছর আগেরও আমার একাধিক বক্তব্যের ভিডিও আছে যেখানে আমি স্পষ্ট করে বলেছি, ইসলাম চিকিৎসা গ্রহণ করাকে অনুপ্রাণিত করে। নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) অসুস্থ হলে চিকিৎসা গ্রহণ করার নির্দেশনা দিয়েছেন। রোগ হওয়ার আগেই রোগ যেন না হয় তার জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করার ধারণাও শরিয়তে রয়েছে। কালোজিরা বা আজওয়া খেজুর খাওয়ার যে ফজিলত হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, সেটি কিন্তু প্রমাণ করে যে অসুখ হওয়ার আগেই এগুলো গ্রহণ করার মাধ্যমে অসুখ যেন না হয় সেজন্য প্রতিরোধক বা আগাম ব্যবস্থাপনা গ্রহণ করা শরিয়সম্মত। তাই মৌলিকভাবে টিকার কনসেপ্ট ইসলামি শরিয়তের সাথে সাংঘর্ষিক কোনো বিষয় নয়।
কোভিড-১৯-এর সময় যতটুকু মনে পড়ে আমি বলেছিলাম পরিষ্কার করে এবং এ বিষয়ে অনলাইনে নিশ্চয়ই আপনি ভিডিও পাবেন, তখনও পর্যন্ত যেহেতু কোভিড-১৯-এর টিকার তেমন কোনো ক্ষতিকর সাইড ইফেক্ট প্রকাশিত হয়নি, আমি বলেছিলাম, যেহেতু আত্মরক্ষার একটা ব্যবস্থা হয়েছে এবং আমাদের কাছে এর ক্ষতিকর কোনো প্রভাব এখনও স্পষ্ট নয়, তাই আত্মরক্ষার জন্য এটি গ্রহণ করা শরিয়তসম্মত।
তাই মৌলিকভাবে টিকার পুরো কনসেপ্টটা বিরোধিতা আমি করেছি এটা অসত্য। বিশেষত হামের টিকার বিষয়ে অনেকে আমার নামে মিথ্যাচার করেছেন। আল্লাহ তাদেরকে হেদায়েত দান করুন। হামের টিকার ব্যাপারে এর আগে আলাদা করে কোনো বক্তব্যই আমি দিইনি।
তবে হ্যাঁ, একবার মেয়েদের একটা বিশেষ টিকা দেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়, সেই টিকা গ্রহণ করার পর বাচ্চারা অসুস্থ হয়ে পড়ছে এ রকম প্রচুর খবর গণমাধ্যমগুলোতে প্রচারিত হয়, তখন আমি বলেছিলাম, যে কোনো ওষুধ বা ভ্যাকসিন যথাযথ পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে মানুষের জন্য উপযোগী প্রমাণিত হওয়ার পরই সেটা ব্যাপকভাবে প্রয়োগ করা উচিত। যথাযথ পরীক্ষা-নিরীক্ষার আগে কেউ যদি কোনো বিশেষ টিকা গ্রহণ করতে না চায়, সেই অধিকার তো তার আছে।
এটা তো এখন ওপেন সিক্রেট ব্যাপার যে, দরিদ্র দেশগুলো বা দরিদ্র দেশের মানুষগুলো সঙ্গে উন্নত দেশগুলো সবসময় ইনসাফের আচরণ করে না। কথা অনেক সুন্দর সুন্দর বলে, ভালো ভালো কথা বলে, কিন্তু ইনসাফপূর্ণ আচরণ করে না। সে বিষয়টিকে মূলত আমি তুলে ধরেছিলাম। আমি পুরো টিকা গ্রহণ করার প্রক্রিয়াটার বিরুদ্ধে অথবা পুরো টিকা-ব্যবস্থাকেই পশ্চিমা ষড়যন্ত্র বলে আখ্যায়িত করিনি। তাই এ ব্যাপারে যদি কেউ কোনো ফটোকার্ড তৈরি করে, সেটা তার অবশ্যই বিভ্রান্তি ছড়ানোর প্রচেষ্টা।
একজন সচেতন অভিভাবক বা একজন সচেতন মানুষ হিসেবে আমাদের কর্তব্য যে কোনো ওষুধ বা টিকা গ্রহণ করার আগে বা শিশুদের শরীরে প্রয়োগ করার আগে এগুলোর ক্ষতিকর দিক ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ব্যাপারে ওয়াকিবহাল থাকা। কিন্তু বাচ্চাদের টিকা গ্রহণের পুরো প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে আমার বক্তব্য দাঁড় করানোর যে চেষ্টা কেউ কেউ করেছেন এটা খুবই দুর্ভাগ্যজনক এবং অসঙ্গত। কোনো ওষুধ বা ভ্যাকসিনের ক্ষতিকর কোনো দিক প্রমাণিত না হওয়া সত্ত্বেও সেটাকে ক্ষতিকর বলা অবশ্যই অসঙ্গত এবং এ রকম কথা আমি বলিনি। আমি যেটুকু বলেছি সেটুকু পরিষ্কার করবার চেষ্টা করলাম।”
ওএফএফ
What's Your Reaction?