হাম মোকাবিলায় সচেতনতা ও টিকা সম্প্রসারণ জরুরি

ভোরের ম্লান আলোয় ঢাকার শিশু হাসপাতালের করিডোরে বসে ছিলেন এক মা। কোলে তার তিন বছরের শিশু ছেলে। ছেলেটির গা জ্বরে পুড়ছে, সারা শরীরে লালচে দাগ। মাঝে মাঝে খিঁচুনির মতো কেঁপে উঠছে ছোট্ট শরীরটা। মা বারবার ভেজা কাপড় কপালে চেপে ধরছেন, আর ফিসফিস করে বলছেন, ‘বাবা, একটু চোখ খোল, মা এখানে আছে’। পাশেই দাঁড়িয়ে ছিলেন শিশুটির বাবা। দিনমজুর মানুষ। গত তিন দিন কাজে যেতে পারেননি। চিকিৎসার খরচ জোগাতে একমাত্র গাভিটাও বিক্রি করে দিয়েছেন। তবুও ডাক্তারদের মুখে আশার আলো কম। রাতভর হাসপাতালের বারান্দায় বসে তিনি শুধু একটি কথাই বারবার বলছিলেন—‘একটা টিকা যদি সময়মতো পাইতাম!’ হঠাৎ করিডোরজুড়ে কান্নার শব্দ। আরেকজন মা বুক চাপড়ে চিৎকার করছেন। তার শিশুটি আর নেই। কয়েক মিনিট আগেও যে ছোট্ট মুখটি নিঃশ্বাস নিচ্ছিল, এখন সেটি নিথর। হাসপাতালের দেয়াল যেন সেই আর্তনাদ শুনেও নীরব। চারপাশের মানুষ কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকে, তারপর আবার নিজ নিজ ব্যস্ততায় ফিরে যায়। যেন এই মৃত্যু এখন খুব স্বাভাবিক ঘটনা। এভাবেই প্রতিদিন দীর্ঘ হচ্ছে নিষ্পাপ শিশু মৃত্যুর মিছিল। প্রতিদিন কোনো না কোনো দরিদ্র মা তার প্রাণাধিক প্রিয় সন্তানকে বুকে নিয

হাম মোকাবিলায় সচেতনতা ও টিকা সম্প্রসারণ জরুরি

ভোরের ম্লান আলোয় ঢাকার শিশু হাসপাতালের করিডোরে বসে ছিলেন এক মা। কোলে তার তিন বছরের শিশু ছেলে। ছেলেটির গা জ্বরে পুড়ছে, সারা শরীরে লালচে দাগ। মাঝে মাঝে খিঁচুনির মতো কেঁপে উঠছে ছোট্ট শরীরটা। মা বারবার ভেজা কাপড় কপালে চেপে ধরছেন, আর ফিসফিস করে বলছেন, ‘বাবা, একটু চোখ খোল, মা এখানে আছে’।

পাশেই দাঁড়িয়ে ছিলেন শিশুটির বাবা। দিনমজুর মানুষ। গত তিন দিন কাজে যেতে পারেননি। চিকিৎসার খরচ জোগাতে একমাত্র গাভিটাও বিক্রি করে দিয়েছেন। তবুও ডাক্তারদের মুখে আশার আলো কম। রাতভর হাসপাতালের বারান্দায় বসে তিনি শুধু একটি কথাই বারবার বলছিলেন—‘একটা টিকা যদি সময়মতো পাইতাম!’

হঠাৎ করিডোরজুড়ে কান্নার শব্দ। আরেকজন মা বুক চাপড়ে চিৎকার করছেন। তার শিশুটি আর নেই। কয়েক মিনিট আগেও যে ছোট্ট মুখটি নিঃশ্বাস নিচ্ছিল, এখন সেটি নিথর।

হাসপাতালের দেয়াল যেন সেই আর্তনাদ শুনেও নীরব। চারপাশের মানুষ কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকে, তারপর আবার নিজ নিজ ব্যস্ততায় ফিরে যায়। যেন এই মৃত্যু এখন খুব স্বাভাবিক ঘটনা।

এভাবেই প্রতিদিন দীর্ঘ হচ্ছে নিষ্পাপ শিশু মৃত্যুর মিছিল। প্রতিদিন কোনো না কোনো দরিদ্র মা তার প্রাণাধিক প্রিয় সন্তানকে বুকে নিয়ে হাসপাতালের করিডোরে বসে থাকেন শেষ আশায়। কেউ সন্তান হারিয়ে নির্বাক হয়ে যান, কেউ বুকফাটা কান্নায় ভেঙে পড়েন, আবার কেউ নিঃশব্দে হাসপাতালের বারান্দা ছেড়ে বাড়ি ফিরে যান একটি ছোট্ট কাফনের বোঝা নিয়ে।

কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে—এই চোখের জলের কি কোনো মূল্য নেই? গরিব অসহায় মানুষের বুকফাটা আর্তনাদ কি আমাদের বিবেককে আর স্পর্শ করে না? কেন আমরা এত নির্লিপ্ত? কেন প্রতিদিনের এই মৃত্যু আমাদের কাঁপিয়ে দেয় না? মনে হয় যেন আমরা ধীরে ধীরে আবেগহীন এক সমাজে পরিণত হচ্ছি।

শিশু মৃত্যুর সংবাদ এখন আর আমাদের চমকে দেয় না। টেলিভিশনের স্ক্রল, পত্রিকার ছোট্ট কলাম কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কয়েকটি পোস্টে সীমাবদ্ধ হয়ে যাচ্ছে শত শত পরিবারের জীবনের সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডি। অথচ প্রতিটি মৃত্যুর পেছনে আছে একটি পরিবার, একটি মায়ের বুকভাঙা কান্না, একটি বাবার অসহায়ত্ব, একটি স্বপ্নের নির্মম সমাপ্তি।

আজ বাংলাদেশের হাম পরিস্থিতি শুধু একটি স্বাস্থ্য সংকট নয়; এটি আমাদের মানবিকতা, রাষ্ট্রচিন্তা এবং রাজনৈতিক দায়বদ্ধতারও কঠিন পরীক্ষা। কয়েক মাস ধরেই দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে শিশুদের হাম আক্রান্ত হওয়ার খবর আসছে। হাসপাতালগুলোতে শয্যা সংকট, টিকাদান ব্যবস্থায় বিশৃঙ্খলা, গ্রামাঞ্চলে আতঙ্ক এবং প্রতিদিন মৃত্যুর মিছিল—সবকিছু মিলিয়ে পরিস্থিতি এখন আর সাধারণ সংক্রামক রোগের পর্যায়ে নেই। এটি কার্যত একটি জাতীয় স্বাস্থ্য দুর্যোগে রূপ নিচ্ছে। 

কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে এখনো রাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে ‘মহামারি জরুরি অবস্থা’ ঘোষণা করেনি। প্রশ্ন হচ্ছে—কেন? হাম কোনো সাধারণ জ্বর নয়। এটি বিশ্বের সবচেয়ে সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগগুলোর একটি।

একজন আক্রান্ত ব্যক্তি গড়ে ১২ থেকে ১৮ জনকে সংক্রমিত করতে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বহু আগেই সতর্ক করেছিল, টিকাদানে সামান্য ঘাটতিও বড় বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। বাংলাদেশে আজ সেই আশঙ্কাই বাস্তবে পরিণত হয়েছে।

দেশের স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিভিন্ন তথ্য, হাসপাতাল সূত্র এবং আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সংস্থার পর্যবেক্ষণ বলছে, চলতি বছরে দেশে কয়েক হাজার শিশু হাম আক্রান্ত হয়েছে। মৃত্যুর সংখ্যাও উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। রাজধানী ঢাকা, চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ, রংপুর, বরিশাল, কুমিল্লা, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুরসহ ঘনবসতিপূর্ণ এলাকাগুলোতে সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রকৃত আক্রান্তের সংখ্যা সরকারি হিসাবের চেয়েও অনেক বেশি। কারণ গ্রামের বহু পরিবার এখনো হাসপাতালে আসে না, অনেক মৃত্যু নথিভুক্তও হয় না।

সবচেয়ে ভয়াবহ বিষয় হচ্ছে—এই সংকট হঠাৎ তৈরি হয়নি। দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা, টিকা সংগ্রহে অবহেলা, স্বাস্থ্যখাতে দুর্নীতি এবং রাজনৈতিক অদূরদর্শিতার ফলেই আজকের এই বিপর্যয়।

বাংলাদেশ একসময় টিকাদানে দক্ষিণ এশিয়ার রোল মডেল ছিল। হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত হয়েছিল। ইউনিসেফ ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও বাংলাদেশের অগ্রগতিকে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেছিল। অথচ কয়েক বছরের ব্যবধানে সেই সফলতা কোথায় হারিয়ে গেল?

এখানেই আসে বিগত ইউনুস সরকারের প্রসঙ্গ। স্বাস্থ্যখাতের বহু কর্মকর্তার অভ্যন্তরীণ অভিযোগ ছিল, সময়মতো পর্যাপ্ত এমআর টিকা সংগ্রহ করা হয়নি। আন্তর্জাতিক বাজারে টিকার সংকট শুরু হওয়ার আগেই প্রয়োজনীয় ক্রয়াদেশ দেওয়া যেত। কিন্তু রহস্যজনকভাবে তা করা হয়নি। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা উপেক্ষা করা হয়েছে। টিকা মজুদের পরিমাণ কমতে কমতে যখন বিপজ্জনক অবস্থায় পৌঁছায়, তখনও দৃশ্যমান কোনো জরুরি উদ্যোগ দেখা যায়নি।

এই অবহেলা কি শুধুই প্রশাসনিক ব্যর্থতা? নাকি এর পেছনে ছিল আরও গভীর কোনো রাজনৈতিক হিসাব?

অনেক বিশ্লেষকের মতে, এটি নিছক অদক্ষতা নয়। বরং একটি সুদূরপ্রসারী রাজনৈতিক কৌশলের অংশও হতে পারে। কারণ, একটি নির্বাচিত সরকারের সবচেয়ে বড় শক্তি হচ্ছে জনগণের আস্থা। আর স্বাস্থ্যখাতে বিপর্যয় তৈরি করা গেলে খুব সহজেই সেই আস্থাকে নষ্ট করা যায়। যখন শিশুমৃত্যু বাড়ে, স্বাস্থ্যসেবা ভেঙে পড়ে, মানুষ আতঙ্কিত হয়—তখন জনগণের ক্ষোভ সরাসরি সরকারের দিকে যায়। ফলে বর্তমান বিএনপি নেতৃত্বাধীন নির্বাচিত সরকারকে ব্যর্থ প্রমাণ করার একটি নীলনকশা হিসেবেও টিকা সংকটকে দেখা অমূলক নয়।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে প্রশাসনিক ষড়যন্ত্র নতুন কিছু নয়। অতীতেও দেখা গেছে, নির্বাচিত সরকারকে জনরোষের মুখে ঠেলে দিতে বিভিন্ন খাতে কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হয়েছে। কখনো জ্বালানি, কখনো খাদ্য, কখনো আইনশৃঙ্খলা, আবার কখনো স্বাস্থ্যখাতকে ব্যবহার করা হয়েছে রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে। হাম পরিস্থিতির ক্ষেত্রেও সেই আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

কারণ বাস্তবতা হলো—একটি রাষ্ট্রে হঠাৎ করে লাখ লাখ শিশুর টিকা কাভারেজ কমে যাওয়া কেবল ‘দুর্ঘটনা’ হতে পারে না। এর পেছনে পরিকল্পনাগত ব্যর্থতা ছিল, আর সেই ব্যর্থতার দায় রাজনৈতিকভাবেও এড়ানোর সুযোগ নেই।

বর্তমান পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ যে অনেক হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে। চিকিৎসকরা বলছেন, হাম আক্রান্ত শিশুদের বড় অংশ অপুষ্টিতে ভুগছে। ফলে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, শ্বাসকষ্ট এবং মস্তিষ্কে সংক্রমণের মতো জটিলতা বেড়ে যাচ্ছে। গ্রামীণ এলাকায় পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক। সেখানে স্বাস্থ্যসেবা দুর্বল হওয়ায় অনেক শিশু চিকিৎসা পাওয়ার আগেই মারা যাচ্ছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, হামে আক্রান্ত প্রতি হাজার শিশুর মধ্যে এক থেকে তিনজন মারা যেতে পারে। অপুষ্টি থাকলে সেই ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। বাংলাদেশের বাস্তবতায় যেখানে এখনো বহু শিশু অপুষ্টিতে ভোগে, সেখানে হাম মহামারি জাতীয় বিপর্যয়ে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা অত্যন্ত বাস্তব।

এই পরিস্থিতিতে সরকারের প্রথম কাজ হওয়া উচিত ছিল অবিলম্বে জাতীয় জরুরি স্বাস্থ্য অবস্থা ঘোষণা করা। কিন্তু এখনো সেই দৃঢ়তা দৃশ্যমান নয়। অথচ জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হলে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ দ্রুত বাস্তবায়ন সম্ভব হতো।

প্রথমত, জরুরি ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক উৎস থেকে টিকা আমদানি সহজ হতো। দ্বিতীয়ত, সেনাবাহিনী, স্থানীয় প্রশাসন ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সমন্বয়ে সারাদেশে বিশেষ টিকাদান অভিযান চালানো যেত। তৃতীয়ত, গণসচেতনতা কার্যক্রম আরও জোরদার করা সম্ভব হতো। চতুর্থত, সীমান্ত ও বিমানবন্দরে স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ বাড়ানো যেত। পঞ্চমত, ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম দ্রুত সরবরাহ নিশ্চিত করা যেত।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে—জরুরি অবস্থা ঘোষণা জনগণকে একটি স্পষ্ট বার্তা দিত যে সরকার পরিস্থিতিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে মোকাবিলা করছে।
এখনো সময় আছে। সরকার চাইলে দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারে।

বাংলাদেশের টিকাদান অবকাঠামো এখনো পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যায়নি। মাঠপর্যায়ে দক্ষ স্বাস্থ্যকর্মী রয়েছে। সেনাবাহিনী ও প্রশাসনের সক্ষমতাও আছে। প্রয়োজন শুধু রাজনৈতিক সদিচ্ছা, দ্রুত সিদ্ধান্ত এবং কঠোর সমন্বয়।

এই মুহূর্তে কিছু জরুরি পদক্ষেপ অপরিহার্য—
প্রথমত, সারাদেশে বিশেষ ‘হাম জরুরি টিকাদান সপ্তাহ’ ঘোষণা করতে হবে।
দ্বিতীয়ত, স্কুল, মাদ্রাসা ও গ্রামভিত্তিক স্বাস্থ্য ক্যাম্প চালু করতে হবে।
তৃতীয়ত, টিকা ঘাটতির জন্য দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে তদন্ত করতে হবে।
চতুর্থত, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া তথ্য ও টিকাবিরোধী প্রচারণা কঠোরভাবে দমন করতে হবে।
পঞ্চমত, আক্রান্ত পরিবারগুলোর জন্য বিশেষ চিকিৎসা সহায়তা ও আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে।
ষষ্ঠত, সীমান্তবর্তী এলাকায় স্বাস্থ্য নজরদারি বাড়াতে হবে।
সপ্তমত, জাতীয়ভাবে স্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে সব মন্ত্রণালয়কে সমন্বিতভাবে কাজে নামাতে হবে।

একটি রাষ্ট্রের শক্তি বোঝা যায় সংকট মোকাবিলার সক্ষমতায়। আজ বাংলাদেশ সেই পরীক্ষার মুখোমুখি। যদি এখনো অবহেলা করা হয়, তাহলে এই হাম সংকট ভবিষ্যতে আরও বড় মানবিক বিপর্যয়ে রূপ নিতে পারে।

ইতিহাস সাক্ষী, মহামারি কখনো শুধু স্বাস্থ্য সংকট থাকে না; এটি অর্থনীতি, শিক্ষা, সামাজিক স্থিতি এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাকেও ধ্বংস করে দেয়।
বাংলাদেশ ইতোমধ্যে বহু চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেছে। বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, করোনা—সবকিছু পেরিয়ে এই জাতি ঘুরে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু সেই অভিজ্ঞতা থেকেও যদি শিক্ষা না নেওয়া হয়, তাহলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম আমাদের ক্ষমা করবে না।

হাম পরিস্থিতি এখন আর শুধু চিকিৎসকদের উদ্বেগ নয়; এটি জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্ন। শিশুর জীবন রক্ষা করা রাষ্ট্রের প্রথম দায়িত্ব। কোনো রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র, প্রশাসনিক অবহেলা কিংবা ক্ষমতার হিসাব-নিকাশের কাছে শিশুদের জীবন জিম্মি হতে পারে না।

সুতরাং সময় এসেছে কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়ার। অবিলম্বে জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে হাম মোকাবিলায় সর্বাত্মক যুদ্ধ শুরু করতে হবে। কারণ আজকের বিলম্ব আগামীকালের হাজারো শিশুর মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। আর একটি দায়িত্বশীল রাষ্ট্র কখনো সেই অপরাধের বোঝা বহন করতে পারে না।

লেখক : সাংবাদিক, কলামিস্ট, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সম্পাদক। 

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow