হাম সংক্রমণ কমলেও টিকাদান বন্ধ হবে না: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

দেশে হাম নির্মূলে টিকার লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, বিশেষ ক্যাম্পেইনের মেয়াদ ২০ মে শেষ হলেও টিকাদান কার্যক্রম কোনোভাবেই বন্ধ হবে না। ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব রেড ক্রস অ্যান্ড রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিজের (আইএফআরসি) পক্ষ থেকে দেওয়া জরুরি স্বাস্থ্যসামগ্রী আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, আমাদের প্রাথমিক লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ কোটি ৮০ লাখ ১৫ হাজার ৬৪ শিশুকে টিকার আওতায় আনা। এরই মধ্যে ২০ মে পর্যন্ত আমরা ১ কোটি ৮৪ লাখ ৩১ হাজার ১৪৯ শিশুকে টিকা দিয়েছি। এটি নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২ শতাংশ বেশি। তিনি পরিসংখ্যানের বিষয়ে উল্লেখ করে বলেন, এত বড় একটি কর্মযজ্ঞে শতভাগ নিখুঁত পরিসংখ্যান অনেক উন্নত দেশেও সম্ভব হয় না। তবে আমাদের মাঠপর্যায়ের কর্মীরা অক্লান্ত পরিশ্রম করে এই সফলতা এনেছেন। শনিবার (২৩ মে ) দুপুরে সচিবালয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে চিকিৎসা সরঞ্জামাদি হস্তান্তর করা হয়। আইএফআরসি-এর পক্ষ থেকে দেওয়া স্বাস্থ্যসামগ্রীর মধ্যে রয়েছে ১১ সেট ভেন্টিলেটর, ২৭ সেট নেবুলাইজার,

হাম সংক্রমণ কমলেও টিকাদান বন্ধ হবে না: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

দেশে হাম নির্মূলে টিকার লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, বিশেষ ক্যাম্পেইনের মেয়াদ ২০ মে শেষ হলেও টিকাদান কার্যক্রম কোনোভাবেই বন্ধ হবে না।

ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব রেড ক্রস অ্যান্ড রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিজের (আইএফআরসি) পক্ষ থেকে দেওয়া জরুরি স্বাস্থ্যসামগ্রী আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, আমাদের প্রাথমিক লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ কোটি ৮০ লাখ ১৫ হাজার ৬৪ শিশুকে টিকার আওতায় আনা। এরই মধ্যে ২০ মে পর্যন্ত আমরা ১ কোটি ৮৪ লাখ ৩১ হাজার ১৪৯ শিশুকে টিকা দিয়েছি। এটি নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২ শতাংশ বেশি।

তিনি পরিসংখ্যানের বিষয়ে উল্লেখ করে বলেন, এত বড় একটি কর্মযজ্ঞে শতভাগ নিখুঁত পরিসংখ্যান অনেক উন্নত দেশেও সম্ভব হয় না। তবে আমাদের মাঠপর্যায়ের কর্মীরা অক্লান্ত পরিশ্রম করে এই সফলতা এনেছেন।

শনিবার (২৩ মে ) দুপুরে সচিবালয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে চিকিৎসা সরঞ্জামাদি হস্তান্তর করা হয়।

আইএফআরসি-এর পক্ষ থেকে দেওয়া স্বাস্থ্যসামগ্রীর মধ্যে রয়েছে ১১ সেট ভেন্টিলেটর, ২৭ সেট নেবুলাইজার, ২৭ সেট অক্সিজেন ফ্লো মিটার এবং ১ লাখ পিস নরমাল স্যালাইন।

স্বাস্থ্যসামগ্রী গ্রহণ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে দেশের চলমান হাম পরিস্থিতি, টিকাদান কর্মসূচির অভূতপূর্ব সফলতা এবং আগামী দিনের পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত বক্তব্য রাখেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

বিশেষ ক্যাম্পেইনের মেয়াদ ২০ মে শেষ হলেও টিকাদান কার্যক্রম কোনোভাবেই বন্ধ হবে না বলে স্পষ্ট ঘোষণা দেন মন্ত্রী। তিনি জানান, গত পরশু (বৃহস্পতিবার) আমরা দেশের সব সিভিল সার্জন, হাসপাতালের পরিচালক ও তত্ত্বাবধায়কদের সঙ্গে জুম মিটিং করেছি। আমি নির্দেশ দিয়েছি, ২১ মে থেকে আমাদের নতুন পর্যায়ের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। যতদিন না দেশের একটি শেষ শিশুও টিকার বাইরে থাকবে, ততদিন খুঁজে খুঁজে টিকাদান এবং মাইকিং কার্যক্রম চলমান থাকবে। এটি এখন একটি নিয়মিত ও চলমান প্রক্রিয়া।

সিলেটে সম্প্রতি হামে আক্রান্ত হয়ে ৫টি শিশুর মৃত্যুতে গভীর দুঃখ প্রকাশ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আমি সিলেটের সিভিল সার্জন ও পরিচালকের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেছি। অত্যন্ত কষ্টের বিষয় হলো, মৃত শিশুদের মধ্যে প্রায় কেউই ভ্যাকসিন বা টিকা নেয়নি। ৬ মাস, ৯ মাস এবং ১ বছর বয়সী এই শিশুরা টিকার আওতার বাইরে ছিল।

তিনি চিকিৎসকদের বরাতে ব্যাখ্যা করেন যে, টিকা দেওয়ার পর শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বা অ্যান্টিবডি তৈরি হতে ৩ থেকে ৪ সপ্তাহ সময় লাগে। তাই এই অন্তর্বর্তী সময়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। তবে স্বস্তির কথা হলো, দৈনিক সংক্রমণের গ্রাফ এখন নিচের দিকে। দৈনিক আক্রান্তের সংখ্যা যেখানে ১৪০০ বা ১২০০ ছিল, তা বর্তমানে ৯০০-এর ঘরে নেমে এসেছে।

এসইউজে/এমআইএইচএস

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow