হারিয়েছেন হাত-পা, গাজার মানুষের কণ্ঠে একটাই নাম- স্পেন

বিশ্বকাপ ফাইনালে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে স্পেনকে সমর্থন করছেন গাজার অনেক ফিলিস্তিনি। তাদের মতে, ফিলিস্তিনের পক্ষে অবস্থান নেওয়া এবং গাজার মানুষের প্রতি সংহতি প্রকাশ করায় স্পেনের প্রতি তাদের বিশেষ সমর্থন তৈরি হয়েছে। গাজার বাসিন্দা ৩৩ বছর বয়সী আহমেদ আল-বোজম বলেন, “আমি পুরোপুরি স্পেনের পক্ষেই আছি, কারণ তারা ফিলিস্তিনের পাশে দাঁড়িয়েছে।” তিনি স্পেনের তরুণ তারকা লামিন ইয়ামালের উদ্দেশে বলেন, “আমরা ফিলিস্তিন থেকে তোমাদের ভালোবাসি। আশা করি, তোমরা বিশ্বকাপ জিতবে এবং ফিলিস্তিনের পতাকাও উঁচিয়ে ধরবে।” গাজার সাবেক ফুটবলার ও ফিলিস্তিন স্টেডিয়ামের ব্যবস্থাপক আদনান আল-আফিফি জানান, দীর্ঘদিনের যুদ্ধ, বিদ্যুৎ সংকট ও জ্বালানির অভাবে বিশ্বকাপের ম্যাচ দেখা এখন অনেক কঠিন। তবুও ফুটবলের আবহ ধরে রাখতে গাজা সিটির একমাত্র সচল ফুটবল ক্লাব প্যালেস্টাইন স্পোর্টস ক্লাব-এ স্পেনকে উৎসর্গ করে প্রদর্শনী ম্যাচের আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে রেফারি ও প্রতীকী ভিএআর (VAR) ব্যবস্থাও রাখা হয়। ২০২৪ সালের মে মাসে স্পেন সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেয়। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ গাজায় যুদ্ধবিরতি, মানবিক সহ

হারিয়েছেন হাত-পা, গাজার মানুষের কণ্ঠে একটাই নাম- স্পেন

বিশ্বকাপ ফাইনালে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে স্পেনকে সমর্থন করছেন গাজার অনেক ফিলিস্তিনি। তাদের মতে, ফিলিস্তিনের পক্ষে অবস্থান নেওয়া এবং গাজার মানুষের প্রতি সংহতি প্রকাশ করায় স্পেনের প্রতি তাদের বিশেষ সমর্থন তৈরি হয়েছে।

গাজার বাসিন্দা ৩৩ বছর বয়সী আহমেদ আল-বোজম বলেন, “আমি পুরোপুরি স্পেনের পক্ষেই আছি, কারণ তারা ফিলিস্তিনের পাশে দাঁড়িয়েছে।” তিনি স্পেনের তরুণ তারকা লামিন ইয়ামালের উদ্দেশে বলেন, “আমরা ফিলিস্তিন থেকে তোমাদের ভালোবাসি। আশা করি, তোমরা বিশ্বকাপ জিতবে এবং ফিলিস্তিনের পতাকাও উঁচিয়ে ধরবে।”

গাজার সাবেক ফুটবলার ও ফিলিস্তিন স্টেডিয়ামের ব্যবস্থাপক আদনান আল-আফিফি জানান, দীর্ঘদিনের যুদ্ধ, বিদ্যুৎ সংকট ও জ্বালানির অভাবে বিশ্বকাপের ম্যাচ দেখা এখন অনেক কঠিন। তবুও ফুটবলের আবহ ধরে রাখতে গাজা সিটির একমাত্র সচল ফুটবল ক্লাব প্যালেস্টাইন স্পোর্টস ক্লাব-এ স্পেনকে উৎসর্গ করে প্রদর্শনী ম্যাচের আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে রেফারি ও প্রতীকী ভিএআর (VAR) ব্যবস্থাও রাখা হয়।

২০২৪ সালের মে মাসে স্পেন সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেয়। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ গাজায় যুদ্ধবিরতি, মানবিক সহায়তা এবং দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের পক্ষে অবস্থান নেন। এছাড়া লামিন ইয়ামালসহ স্পেনের কয়েকজন ক্রীড়াবিদ প্রকাশ্যে ফিলিস্তিনের প্রতি সংহতি জানানোয় গাজার মানুষের কাছে তারা আরও জনপ্রিয় হয়ে উঠেছেন।

গাজার প্রতিবন্ধী ফুটবল দলের কোচ হাতেম আল-মাগরিবি বলেন, “আমাদের খেলোয়াড়রা হাত-পা হারিয়েছে, কিন্তু যারা ফিলিস্তিনের পাশে দাঁড়িয়েছে তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা হারায়নি।” তিনি স্পেনের পাশাপাশি ফিলিস্তিনের প্রতি সমর্থন জানানো মিসরের কোচ হোসাম হাসানকেও ধন্যবাদ জানান।

তবে স্পেনকে সমর্থন করলেও আর্জেন্টিনার প্রতি কোনো বিদ্বেষ নেই বলে জানান আদনান আল-আফিফি। তিনি বলেন, “আর্জেন্টিনা একটি মহান ফুটবল জাতি। স্পেনকে সমর্থন করার অর্থ এই নয় যে আমরা আর্জেন্টিনার শত্রু।”

বিশ্বকাপ ফাইনাল নিয়ে গাজার মানুষের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ রয়েছে। যুদ্ধ, ধ্বংসযজ্ঞ ও মানবিক সংকটের মধ্যেও ফুটবল তাদের কাছে অন্তত ৯০ মিনিটের জন্য বাস্তবতার কঠিন পরিস্থিতি ভুলে থাকার একটি উপলক্ষ হয়ে উঠেছে।

সূত্র: আল জাজিরা।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow