হালান্ডের জোড়া গোল, ইরাকের জালে এক হালি নরওয়ের

আরলিং হালান্ড তার নাম রাখলেন প্রথম ম্যাচেই। করলেন জোড়া গোল। ইরাক লড়াই করেও নরওয়ের কাছে হারলো ৪-১ গোলের বড় ব্যবধানে। পুরো ম্যাচে ইরাক দারুণ লড়েছে। কিন্তু সুযোগ কাজে লাগিয়েছে নরওয়ে। কাছাকাছি শট (নরওয়ে ১৩, ইরাক ১১) নিয়েও তাই হারতে হয়েছে ইরাককে। ইরাকের একটি শট ছিল কেবল লক্ষ্যে, নরওয়ের ৭টি। বোস্টন স্টেডিয়ামে ম্যাচের প্রথম বড় সুযোগটি তৈরি করে ইরাক! পঞ্চম মিনিটে লম্বা ফ্রি-কিক বক্সের ভেতরে পেলে হাশিম বল হালকা ছোঁয়ায় এগিয়ে দেন হুসেইনের দিকে। কিন্তু স্ট্রাইকার খুব কাছ থেকে হেড নিলেও বলটি ক্রসবারের অনেক ওপর দিয়ে চলে যায়! সুযোগ নষ্ট হয় ইরাকের। হালান্ড ম্যাচের শুরু থেকেই গোলের জন্য মরিয়া হয়ে ছিলেন। বেশ কয়েকটি আক্রমণে চেষ্টা করেন তিনি। ২০ মিনিটে নরওয়ে একটি কর্নার আদায় করে, এবং বাম দিক থেকে রাইয়ারসন বলটি বক্সে ভাসিয়ে দেন। কোনো মার্কিং ছাড়াই বল পেয়ে যান হালান্ড, কিন্তু তার হেডটি অনেক উঁচু দিয়ে গ্যালারিতে চলে যায়! চার মিনিট পর অল্পের জন্য রক্ষা পায় ইরাক। রাইয়ারসনের ফ্রি কিক থেকে সোরলথ হেড দিয়ে বলের সংযোগ করতে সক্ষম হন। কিন্তু হাশিমের গায়ে লেগে বলের দিক বদলে যায় এবং ইরাকের গোলরক্ষক হা

হালান্ডের জোড়া গোল, ইরাকের জালে এক হালি নরওয়ের

আরলিং হালান্ড তার নাম রাখলেন প্রথম ম্যাচেই। করলেন জোড়া গোল। ইরাক লড়াই করেও নরওয়ের কাছে হারলো ৪-১ গোলের বড় ব্যবধানে।

পুরো ম্যাচে ইরাক দারুণ লড়েছে। কিন্তু সুযোগ কাজে লাগিয়েছে নরওয়ে। কাছাকাছি শট (নরওয়ে ১৩, ইরাক ১১) নিয়েও তাই হারতে হয়েছে ইরাককে। ইরাকের একটি শট ছিল কেবল লক্ষ্যে, নরওয়ের ৭টি।

বোস্টন স্টেডিয়ামে ম্যাচের প্রথম বড় সুযোগটি তৈরি করে ইরাক! পঞ্চম মিনিটে লম্বা ফ্রি-কিক বক্সের ভেতরে পেলে হাশিম বল হালকা ছোঁয়ায় এগিয়ে দেন হুসেইনের দিকে। কিন্তু স্ট্রাইকার খুব কাছ থেকে হেড নিলেও বলটি ক্রসবারের অনেক ওপর দিয়ে চলে যায়! সুযোগ নষ্ট হয় ইরাকের।

হালান্ড ম্যাচের শুরু থেকেই গোলের জন্য মরিয়া হয়ে ছিলেন। বেশ কয়েকটি আক্রমণে চেষ্টা করেন তিনি। ২০ মিনিটে নরওয়ে একটি কর্নার আদায় করে, এবং বাম দিক থেকে রাইয়ারসন বলটি বক্সে ভাসিয়ে দেন। কোনো মার্কিং ছাড়াই বল পেয়ে যান হালান্ড, কিন্তু তার হেডটি অনেক উঁচু দিয়ে গ্যালারিতে চলে যায়!

চার মিনিট পর অল্পের জন্য রক্ষা পায় ইরাক। রাইয়ারসনের ফ্রি কিক থেকে সোরলথ হেড দিয়ে বলের সংযোগ করতে সক্ষম হন। কিন্তু হাশিমের গায়ে লেগে বলের দিক বদলে যায় এবং ইরাকের গোলরক্ষক হাসানের হাতে গিয়ে জমা পড়ে।

তবে নরওয়ের জাল খুঁজতে আর বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়নি। ২৯ মিনিটে মোলার উলফ গোলমুখে কাট-ব্যাক করেন। আর পেছনের পোস্টে স্লাইড করে এসে সহজ ট্যাপ-ইনে বল জালে জড়িয়ে দেন আরলিং হালান্ড। ১-০ গোলে এগিয়ে যায় নরওয়ে।

৩৯ মিনিটে দারুণ এক গোলে সমতায় ফেরে ইরাক। আল আম্মারির বক্সে ভাসানো ক্রস থেকে বল পেয়ে লাফিয়ে উঠে হেড করেন আয়মান হোসেন। তার শক্তিশালী হেড সোজা নিচের ডান কোণে জালে জড়িয়ে যায় (১-১)! গোলরক্ষকের কোনো সুযোগই ছিল না!

কিন্তু চার মিনিটের মধ্যেই ফের এগিয়ে যায় নরওয়ে। এবারও হালান্ড। ইরাকের গোলরক্ষক হাসান বল পাস দেওয়ার চেষ্টা করলে হালান্ড দুর্দান্ত প্রেসিং করে তাকে চাপে ফেলেন। সেই চাপের মুখে বলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যায়, আর হালান্ড সুযোগটি লুফে নিয়ে বল জালে পাঠিয়ে দেন (২-১)!

প্রথমার্ধের শেষদিকে জোড়া সুযোগ নষ্ট হয় ইরাকের। একবার গোলরক্ষক এগিয়ে এলেও পোস্টের পাশ দিয়ে বল গড়িয়ে চলে যায়। আরেকবার দুর্দান্তভাবে লাফিয়ে উঠে হাশিমের জোরালো ভলি বাইরে বের করে দেন নরওয়ে গোলরক্ষক নাইল্যান্ড।

দ্বিতীয়ার্ধে ধীর শুরু করে নরওয়ে। ৫৩ মিনিটে সমতা ফেরানোর কাছাকাছি চলে এসেছিল ইরাক। বায়েশ বক্সের কিনারায় চমৎকারভাবে কিছুটা জায়গা বের করে ডান দিক থেকে বিপজ্জনক একটি ক্রস ভাসিয়ে দেন। আয়মেন হুসেন দক্ষতার সঙ্গে হেগেমের মার্কিং এড়িয়ে বলের নাগাল পান এবং হেড করেন। কিন্তু তার হেডটি অল্পের জন্য বাম পোস্টের বাইরে দিয়ে চলে যায়। ৬৩ মিনিটে আরও একটি সুযোগ নষ্ট করে ইরাক।

৭৬ মিনিটে ব্যবধান ৩-১ করে ফেলেন নরওয়ের লিও অস্টিগার্ড। মার্টিন ওডেগার্ড ডান দিক থেকে একটি দুর্দান্ত কর্নার কিক বিপজ্জনক এলাকায় তুলে দেন। সেখানে কোনো মার্কিং ছাড়াই ছিলেন অস্টিগার্ড, যিনি চমৎকারভাবে মাথা ছুঁইয়ে বলের দিক পরিবর্তন করে অসহায় হাসানের পাশ কাটিয়ে জালে পাঠিয়ে দেন।

৮৩ মিনিটে ইরাকের রক্ষণের বড় ভুলে হ্যাটট্রিক হয়ে যেতে পারতো হালান্ডের। ইকবাল নিজের গোলরক্ষকের কাছে বল ফেরত দেওয়ার চেষ্টা করেন, কিন্তু মাঝপথেই বলটি নিয়ে নেন হালান্ড। এরপর ম্যানচেস্টার সিটির এই স্ট্রাইকার দ্রুত শট নেন গোলের দিকে। কিন্তু হাসান নিচে ঝাঁপিয়ে দুর্দান্ত সেভে হালান্ডের হ্যাটট্রিক রুখে দেন।

তবে শেষ সময়ে এসে ইনজুরি টাইমের সপ্তম মিনিটে আরও এক গোল হজম করে ইরাক। বক্সে জটলার মধ্য থেকে আয়মান হোসেনের গায়ে লেগে বল ঢুকে যায় জালে, আত্মঘাতী গোল। শেষ পর্যন্ত ৪-১ গোলের বড় জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে নরওয়ে।

এমএমআর

 

 

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow