‘হাসিনা যুগের অবসান’ প্রশ্নে জয় বললেন- ‘সম্ভবত তাই’

আওয়ামী লীগ আবার বাংলাদেশের রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার সুযোগ পেলে শেখ হাসিনাকে দলীয় নেতৃত্বে আর নাও দেখা যেতে পারে—এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে দেওয়া এক দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, শেখ হাসিনা রাজনীতি থেকে অবসর নেওয়ার কথা ভাবছেন। জয় বলেন, তার মা দেশে ফিরতে চান এবং বিদেশে থেকে রাজনৈতিক জীবন কাটাতে আগ্রহী নন। বয়সের কারণেই তিনি রাজনীতি থেকে সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন বলে জানান জয়। তার ভাষায়, এটি শেখ হাসিনার শেষ মেয়াদ হওয়ার কথা ছিল। আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্নের জবাবে জয় বলেন, দলটির ভিত্তি এখনও শক্ত। তার দাবি, আওয়ামী লীগের প্রতি দেশের প্রায় ৪০–৫০ শতাংশ ভোটারের সমর্থন রয়েছে এবং শেখ হাসিনা থাকুন বা না থাকুন, দলটি টিকে থাকবে। তিনি বলেন, “আওয়ামী লীগ ৭০ বছরের পুরোনো একটি রাজনৈতিক দল। কাউকে ছাড়া বা কাউকে নিয়ে দল চলবে—এটাই স্বাভাবিক।” সাংবাদিকের প্রশ্নে ‘হাসিনা যুগের অবসান’ প্রসঙ্গে জয় বলেন, সেটি সম্ভবত ঘটতে যাচ্ছে। অর্থাৎ ভবিষ্যতে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে শেখ হাসিনার সক্রিয় ভূমিকা নাও থাকতে পারে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্রজনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমত

‘হাসিনা যুগের অবসান’ প্রশ্নে জয় বললেন- ‘সম্ভবত তাই’

আওয়ামী লীগ আবার বাংলাদেশের রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার সুযোগ পেলে শেখ হাসিনাকে দলীয় নেতৃত্বে আর নাও দেখা যেতে পারে—এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে দেওয়া এক দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, শেখ হাসিনা রাজনীতি থেকে অবসর নেওয়ার কথা ভাবছেন।

জয় বলেন, তার মা দেশে ফিরতে চান এবং বিদেশে থেকে রাজনৈতিক জীবন কাটাতে আগ্রহী নন। বয়সের কারণেই তিনি রাজনীতি থেকে সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন বলে জানান জয়। তার ভাষায়, এটি শেখ হাসিনার শেষ মেয়াদ হওয়ার কথা ছিল।

আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্নের জবাবে জয় বলেন, দলটির ভিত্তি এখনও শক্ত। তার দাবি, আওয়ামী লীগের প্রতি দেশের প্রায় ৪০–৫০ শতাংশ ভোটারের সমর্থন রয়েছে এবং শেখ হাসিনা থাকুন বা না থাকুন, দলটি টিকে থাকবে। তিনি বলেন, “আওয়ামী লীগ ৭০ বছরের পুরোনো একটি রাজনৈতিক দল। কাউকে ছাড়া বা কাউকে নিয়ে দল চলবে—এটাই স্বাভাবিক।”

সাংবাদিকের প্রশ্নে ‘হাসিনা যুগের অবসান’ প্রসঙ্গে জয় বলেন, সেটি সম্ভবত ঘটতে যাচ্ছে। অর্থাৎ ভবিষ্যতে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে শেখ হাসিনার সক্রিয় ভূমিকা নাও থাকতে পারে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্রজনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতা হারানোর পর শেখ হাসিনা ভারতে নির্বাসনে আছেন। মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন। মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করায় আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলটি অংশ নিতে পারছে না। দলের অনেক শীর্ষ নেতা বিদেশে আত্মগোপনে এবং বহু নেতাকর্মী কারাবন্দী রয়েছেন।

আওয়ামী লীগের আমলে অনুষ্ঠিত তিনটি জাতীয় নির্বাচন নিয়েই অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। এই প্রসঙ্গে জয় দাবি করেন, দলটি কখনো কাউকে নিষিদ্ধ করেনি এবং জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন বাতিল আদালতের সিদ্ধান্ত ছিল।

নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ প্রসঙ্গে জয় বলেন, ২০১৮ সালের নির্বাচনের আগে দেশি-বিদেশি জরিপেই আওয়ামী লীগের বড় ব্যবধানে জয়ের পূর্বাভাস ছিল। তার দাবি, প্রশাসনের ভেতরের কিছু ব্যক্তি নিজেরাই অনিয়ম করেছে, এতে শেখ হাসিনা ও তিনি দুজনই ক্ষুব্ধ ছিলেন। ২০২৪ সালের নির্বাচনেও কারচুপি হয়নি বলে তিনি দাবি করেন।

সহিংসতা উসকে দেওয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে জয় বলেন, আওয়ামী লীগ সহিংসতা চায় না। তবে রাজনৈতিকভাবে সম্পূর্ণভাবে কোণঠাসা করা হলে সহিংস পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে—এ কথাই তিনি বোঝাতে চেয়েছিলেন। তিনি বলেন, “আমরা সহিংসতার হুমকি দিইনি, বরং দমন-পীড়নের ফল কী হতে পারে তা বলেছি।”

আওয়ামী লীগ কর্মীদের বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগও প্রত্যাখ্যান করেন জয়। ইনকিলাব মঞ্চের নেতা শরীফ ওসমান হাদি হত্যার ঘটনায় আওয়ামী লীগের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, দলটির বর্তমানে এমন কোনো সক্ষমতাই নেই যে তারা সহিংস কর্মকাণ্ড চালাতে পারে।

জয় আরও দাবি করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে শত শত আওয়ামী লীগ কর্মী নিহত হয়েছেন এবং বহু মানুষ হেফাজতে মারা গেছেন। তার মতে, আওয়ামী লীগ বর্তমানে সহিংসতার সঙ্গে নয়, বরং নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ না পেয়ে ভোট বর্জনের প্রচারণায় যুক্ত রয়েছে।

জুলাই হত্যাকাণ্ড ও দায় প্রশ্ন

আল জাজিরার সাংবাদিক শ্রীনিবাসন জৈন সজীব ওয়াজেদ জয়ের কাছে জানতে চান, ২০২৪ সালের অভ্যুত্থান দমনে ‘নির্মম’ প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় শেখ হাসিনাকে দেশ ছাড়তে হয়েছে—এ বিষয়ে তার বা তার পরিবারের কোনো অনুশোচনা আছে কি না।

জবাবে জয় অভিযোগটি প্রত্যাখ্যান করে বলেন, এটি সঠিক বর্ণনা নয়। তিনি দাবি করেন, তিনি আগেও বারবার বলেছেন যে আওয়ামী লীগ সরকার পরিস্থিতি যথাযথভাবে সামাল দিতে পারেনি এবং বিক্ষোভ মোকাবিলায় ভুল হয়েছে।

তবে সাংবাদিক পাল্টা প্রশ্ন তোলেন—যেখানে শেখ হাসিনার নির্দেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী শত শত নিরস্ত্র বিক্ষোভকারীকে হত্যার অভিযোগ রয়েছে, সেখানে ‘মিসহ্যান্ডেলড’ শব্দটি কি অত্যন্ত নমনীয় নয়?

এর জবাবে সজীব ওয়াজেদ জয় বলেন, এসব হত্যাকাণ্ড তার মায়ের নির্দেশে ঘটেনি। তার যুক্তি অনুযায়ী, শেখ হাসিনা যদি সত্যিই বিক্ষোভকারীদের হত্যার নির্দেশ দিতেন, তাহলে তিনি ক্ষমতায় টিকে থাকতেন। উদাহরণ হিসেবে জয় ইরানের সাম্প্রতিক পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করেন।

৫ আগস্ট সরকার পতনের দিনের প্রসঙ্গ টেনে জয় বলেন, সেদিন বিক্ষোভকারীরা প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের দিকে অগ্রসর হচ্ছিলেন। বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী ও দেহরক্ষীরা শেখ হাসিনাকে রক্ষায় প্রস্তুত থাকলেও তিনি রক্তপাত এড়াতে সংঘর্ষের পথে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। জয় দাবি করেন, শেখ হাসিনার বক্তব্য ছিল—এভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলা করলে শত শত মানুষ মারা যেত এবং তিনি সেই দায় নিতে চাননি।

জয় আরও বলেন, ওই দিন শত শত পুলিশ সদস্য ও আওয়ামী লীগ কর্মী নিহত হন। তার অভিযোগ, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার বিক্ষোভকারীদের হাতে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডগুলোর দায় এড়িয়ে যাচ্ছে।

তবে আল জাজিরা ও বিবিসির প্রতিবেদন, পাশাপাশি বিভিন্ন অডিও রেকর্ডের প্রসঙ্গ তুলে শ্রীনিবাসন জৈন প্রশ্ন করেন—এসব প্রমাণ কীভাবে অস্বীকার করা যায়? সেখানে শেখ হাসিনার কণ্ঠে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের অনুমোদনের কথা শোনা গেছে বলে দাবি করা হয়েছে, যেখানে তিনি বলেন, “আমি পুরোপুরি ওপেন অর্ডার দিয়ে দিয়েছি, যেখানে পাবে সেখানে গুলি করবে।”

জবাব দিতে গিয়ে জয় দাবি করেন, আল জাজিরা ও বিবিসি পুরো ক্লিপ শোনায়নি, ফলে সেখানে প্রেক্ষাপট স্পষ্ট হয়নি।

জয় বলেন, ‘আমি পুরো ক্লিপটি আমার ফেইসবুক পেজে দিয়েছিলাম। সেখানে তিনি বলেছেন, বিক্ষোভকারীদের গ্রেফতার এবং জানমাল ও সম্পত্তি রক্ষায় সশস্ত্র জঙ্গিদের বিরুদ্ধে প্রাণঘাতী শক্তি ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছেন। সেখানে জঙ্গিরা জড়িত ছিল। অনলাইনে এমন ভিডিও আছে, যেখানে বেসামরিক লোকদের অস্ত্রসহ দেখা যায়।’

শ্রীনিবাসন বলেন, জয়ের ফেইসবুক পেইজ খুঁজে ওইরকম কোনো অডিও ক্লিপ তিনি পাননি। জয় তখন তাকে বলেন, ওই অডিও ক্লিপ তিনি আবার প্রকাশ করবেন।

জয় যেখানে বলছেন, জানমাল রক্ষায় শেখ হাসিনা ওই নির্দেশ দিয়েছিলেন, তা সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের সঙ্গে মিলছে কিনা, সেই প্রশ্ন রাখেন আল জাজিরার সাংবাদিক।

উত্তরে জয় বলেন, ‘সেটা (ওই নির্দেশ) ছিল সহিংস বিক্ষোভকারী, সশস্ত্র বিক্ষোভকারী, সন্ত্রাসীদের জন্য। নিরস্ত্র বিক্ষোভকারীদের জন্য নয়। এখন বলুন তো, কোনো দেশে যদি সশস্ত্র বিক্ষোভকারীরা মানুষ ও পুলিশকে গুলি করতে থাকে, তাহলে আইনের দৃষ্টিতে সরকার কী করবে?’

সাক্ষাতকারের এ পর্যায়ে শ্রীনিবাসন জৈন প্রশ্ন করেন, তাহলে আবু সাঈদ, জোবায়েদ হোসেন ইমন, মীর রহমান মুগ্ধের মত নিরস্ত্র তরুণরা, যারা পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছেন, তারাও উগ্রবাদী কিনা।

উত্তরে জয় বলেন, ‘পরিস্থিতি তখন অত্যন্ত সহিংস ছিল। কিছু পুলিশ সদস্য অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগ করেছিলেন। আমাদের সরকারের আমলে সে সময় অনেক পুলিশ কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করা হয়েছিল। তদন্তের জন্য আমরা একটি বিচার বিভাগীয় কমিটি গঠন করেছিলাম। সেই তদন্তগুলো কেন আর এগোয়নি?’

জয় কিংবা তার মা শেখ হাসিনা নিহত বিক্ষোভকারীদের পরিবারের কাছে ক্ষমা চাইতে প্রস্তুত কিনা-সেই প্রশ্ন রাখা হয় সাক্ষাতকারে।

সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে সজীব ওয়াজেদ জয় বলেন, আবু সাঈদ নিহত হওয়ার পরপরই তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন। তিনি জানান, সরকারের পতনের আগে শেখ হাসিনা আরও কয়েকটি নিহত পরিবারের সঙ্গেও দেখা করেন এবং পূর্ণাঙ্গ তদন্ত ও জবাবদিহির আশ্বাস দেন।

জুলাই আন্দোলনে নিহতের সংখ্যা প্রসঙ্গে জয় বলেন, আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর প্রতিবেদনে প্রায় ১,৪০০ জন নিহত হওয়ার কথা বলা হলেও সরকারের নিজস্ব হিসাবে এই সংখ্যা ছিল প্রায় ৮০০।

তার দাবি, ১,৪০০ মৃত্যুর হিসাবটি ১৫ আগস্ট পর্যন্ত ধরা হয়েছে, অথচ আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতা হারায় ৫ আগস্ট। সে ক্ষেত্রে ৫ থেকে ১৫ আগস্টের মধ্যে নিহত প্রায় ৫০০ মানুষের মৃত্যুর দায় কার—সে প্রশ্নও তোলেন তিনি।

জয় বলেন, “আমাদের সরকার পতনের পর যে মানুষগুলো নিহত হয়েছে, তাদের কী হবে? তাদের কে হত্যা করেছে?”

বিচার সবার জন্য সমান হওয়া উচিত মন্তব্য করে তিনি বলেন, একতরফা বিচার প্রকৃত অর্থে বিচার হতে পারে না।

এ সময় শ্রীনিবাসন জৈন জানতে চান, জাতিসংঘের প্রতিবেদনে তৎকালীন রাজনৈতিক নেতৃত্বের নির্দেশনায় বিক্ষোভকারীদের ওপর গুরুতর নিপীড়নের কথা বলা হয়েছে—সেই রাজনৈতিক নেতৃত্বের মধ্যে শেখ হাসিনাও অন্তর্ভুক্ত। এই ক্ষেত্রে রাজনৈতিক নেতৃত্বও কি বিচারের আওতায় আসবে?

এর জবাবে জয় জাতিসংঘের প্রতিবেদনের সমালোচনা করে বলেন, এটি ভিত্তিহীন ও পক্ষপাতদুষ্ট। তার দাবি, প্রতিবেদনে সরকার পতনের পর সংঘটিত হত্যাকাণ্ডগুলোকেও অন্তর্ভুক্ত করে সেগুলোর দায় আওয়ামী লীগ সরকারের ওপর চাপানো হয়েছে, যা ন্যায্য নয়।

রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহারের জন্য শেখ হাসিনা দায়ী কি না—এমন প্রশ্নে জয় বলেন, তিনি কাউকে দায়মুক্তির কথা বলছেন না। তার বক্তব্য অনুযায়ী, যে কেউ যদি কোনো মৃত্যুর জন্য দায়ী হয়ে থাকে, তার বিচার হওয়া উচিত।

তবে শেখ হাসিনা নিজে সেই বিচারের আওতায় আসতেন কি না—এ প্রশ্নে জয় বলেন, শেখ হাসিনা কোনো হত্যার নির্দেশ দেননি এবং কোনো মৃত্যু চাননি।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow