হাসি-কান্নায় নবীজির শিক্ষা

মানুষের জীবনে সুখ-দুঃখ ও হাসি-কান্না দুটো অবস্থাই আসে। তবে এতে ইসলামের আদর্শ স্মরণ রাখা জরুরি। নবীজি (সা.)-ও হাসিখুশি থাকতে পছন্দ করতেন। তবে অতিরিক্ত হাসি ইসলামে অপছন্দনীয়। নবীজি (সা.) অতিরিক্ত হাসি পরিহার করতে বলেছেন। অনর্থক হাসার মধ্যে কোনো সুফল বা সফলতা নেই। পক্ষান্তরে কান্নায় রয়েছে সফলতা, আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের সন্তুষ্টি। আল্লাহ চান মানুষ কম হাসুক, পরিমিত হাসুক। কেননা, বেশি হাসলে অন্তর মরে যায়। আল্লাহ বলেন, ‘অতএব তারা সামান্য হেসে নিক এবং তারা তাদের কৃতকর্মের বদৌলতে অনেক বেশি কাঁদবে।’ (সুরা তওবা: ৮২)। এ আয়াতের তাফসিরে ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, ‘দুনিয়া সামান্য কয়েকদিনের আবাসস্থল। এতে যত ইচ্ছা হেসে নাও। অতঃপর দুনিয়া যখন শেষ হয়ে যাবে এবং আল্লাহর সান্নিধ্যে উপস্থিত হবে, তখনই কান্নার পালা শুরু হবে, যা আর নিবৃত্ত হবে না।’ (তাফসিরে মাজহারি) আল্লাহর অনুমতিক্রমে জিবরাইল (আ.) রাসুল (সা.)কে অনেক গোপন রহস্যের সংবাদ দিয়েছেন। তাকে দুনিয়ার জীবনে জান্নাত-জাহান্নাম দেখানো হয়েছে। তার জন্যই জান্নাতের সৃষ্টি। তিনি পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ মানব। তার আগে-পরের সব গোনাহ মাফ করা হয়েছে। তবুও তিনি কম হাসতেন, কাঁদতেন

হাসি-কান্নায় নবীজির শিক্ষা
মানুষের জীবনে সুখ-দুঃখ ও হাসি-কান্না দুটো অবস্থাই আসে। তবে এতে ইসলামের আদর্শ স্মরণ রাখা জরুরি। নবীজি (সা.)-ও হাসিখুশি থাকতে পছন্দ করতেন। তবে অতিরিক্ত হাসি ইসলামে অপছন্দনীয়। নবীজি (সা.) অতিরিক্ত হাসি পরিহার করতে বলেছেন। অনর্থক হাসার মধ্যে কোনো সুফল বা সফলতা নেই। পক্ষান্তরে কান্নায় রয়েছে সফলতা, আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের সন্তুষ্টি। আল্লাহ চান মানুষ কম হাসুক, পরিমিত হাসুক। কেননা, বেশি হাসলে অন্তর মরে যায়। আল্লাহ বলেন, ‘অতএব তারা সামান্য হেসে নিক এবং তারা তাদের কৃতকর্মের বদৌলতে অনেক বেশি কাঁদবে।’ (সুরা তওবা: ৮২)। এ আয়াতের তাফসিরে ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, ‘দুনিয়া সামান্য কয়েকদিনের আবাসস্থল। এতে যত ইচ্ছা হেসে নাও। অতঃপর দুনিয়া যখন শেষ হয়ে যাবে এবং আল্লাহর সান্নিধ্যে উপস্থিত হবে, তখনই কান্নার পালা শুরু হবে, যা আর নিবৃত্ত হবে না।’ (তাফসিরে মাজহারি) আল্লাহর অনুমতিক্রমে জিবরাইল (আ.) রাসুল (সা.)কে অনেক গোপন রহস্যের সংবাদ দিয়েছেন। তাকে দুনিয়ার জীবনে জান্নাত-জাহান্নাম দেখানো হয়েছে। তার জন্যই জান্নাতের সৃষ্টি। তিনি পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ মানব। তার আগে-পরের সব গোনাহ মাফ করা হয়েছে। তবুও তিনি কম হাসতেন, কাঁদতেন বেশি। মানুষকেও কম হাসতে ও বেশি করে কাঁদতে উপদেশ দিতেন। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুল (সা.) বলেছেন—‘আমি যা জানি তোমরা যদি তা জানতে তবে তোমরা খুব কমই হাসতে এবং খুব বেশি কাঁদতে।’ (বুখারি: ৬৪৮৫; তিরমিজি: ২৩১৩) কান্না অন্তরকে নরম করে। হৃদয়ে প্রশান্তি আনে। দুঃখকে হালকা করে। মানুষের মন রোদনকারীর প্রতি খুব সহজে আকর্ষিত হয়। আল্লাহর ভয়ে ক্রন্দনকারীকে তিনি ভালোবাসেন। তার দরবারে গোনাহ মাফে ক্রন্দনকারীকে মাফ করে দেন। তার ভয়ে রোদনকারীর জন্য তিনি চির সুখ ও আরামের জায়গা জান্নাতের ফায়সালা চূড়ান্ত করেন। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেন—‘আল্লাহর ভয়ে ক্রন্দনকারী ব্যক্তি জাহান্নামে প্রবেশ করবে না। যে রূপ দোহনকৃত দুধ আবার স্তনে ফিরিয়ে নেওয়া যায় না।’ (তিরমিজি: ২৩১১) হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে শুনেছি, তিনি বলেছেন—‘সাত ব্যক্তিকে আল্লাহতায়ালা সেদিন তার (আরশের) ছায়া দান করবেন; যেদিন তার ছায়া ব্যতীত অন্য কোনো ছায়া থাকবে না। তন্মধ্যে ওই ব্যক্তি একজন, যে নির্জনে আল্লাহতায়ালাকে স্মরণ করে আর তার চোখ থেকে পানি ঝরে।’ (বুখারি ও মুসলিম)। মানুষ সব কথাবার্তায় হাসে না। অনেক সময় হাসির রঙ্গমঞ্চ সাজানো যায় মিথ্যা বলে। অথচ হাসানোর উদ্দেশ্যে মিথ্যা বলা গোনাহের কাজ। ধ্বংসের কারণ। ইবনে হাকিম (রহ.) বর্ণনা করেছেন তার দাদা থেকে; তার দাদা বলেন, আমি মুহাম্মদ (সা.)কে বলতে শুনেছি, ‘সেই লোক ধ্বংস হোক, যে মানুষদের হাসানোর উদ্দেশ্যে কথা বলতে গিয়ে মিথ্যা বলে। সে নিপাত যাক। সে নিপাত যাক।’ (তিরমিজি: ২৩১৫)। তাই আমাদের উচিত অধিক ও অনর্থক হাসার চেয়ে আল্লাহর ভয়ে বেশি বেশি কান্নাকাটি করা। আল্লাহতায়ালা তওফিক দান করুন। লেখক: মাদ্রাসা শিক্ষক

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow