হিথ্রো বিমানবন্দরের চমকপ্রদ ইতিহাস

যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দর বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত ও গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। প্রতিদিন হাজারো যাত্রী, শত শত ফ্লাইট এবং নিরবচ্ছিন্ন বিমান চলাচলের মধ্য দিয়ে এটি বৈশ্বিক যোগাযোগের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের লাখো প্রবাসী ও পর্যটকের যাতায়াতের অন্যতম প্রবেশদ্বারও এই বিমানবন্দর। বর্তমানে হিথ্রো বিমানবন্দরে মাত্র দুটি সমান্তরাল রানওয়ে ব্যবহার করেই প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১ হাজার ৩০০টি ফ্লাইট পরিচালনা করা হয়। বছরে প্রায় ৪ লাখ ৮০ হাজার বিমান ওঠানামার আইনি সীমার কাছাকাছি পরিচালিত হয় এর কার্যক্রম। ব্যস্ততম সময়ে গড়ে প্রতি ৪৫ সেকেন্ডে একটি বিমান উড্ডয়ন বা অবতরণ করে, যা বিশ্বের অন্যতম দক্ষ বিমান চলাচল ব্যবস্থার উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত। প্রতি বছর প্রায় ৮৫ মিলিয়ন বা সাড়ে ৮ কোটি যাত্রী হিথ্রো বিমানবন্দর ব্যবহার করেন। এখান থেকে বিশ্বের প্রায় ৯০টি দেশের ২৩০টিরও বেশি গন্তব্যে নিয়মিত ফ্লাইট পরিচালনা করে প্রায় ৯০টি আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্স। ইউরোপের অন্যতম প্রধান এভিয়েশন হাব হিসেবে হিথ্রো বৈশ্বিক বিমান যোগাযোগে গুরুত্বপূর্ণ ভ

হিথ্রো বিমানবন্দরের চমকপ্রদ ইতিহাস

যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দর বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত ও গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। প্রতিদিন হাজারো যাত্রী, শত শত ফ্লাইট এবং নিরবচ্ছিন্ন বিমান চলাচলের মধ্য দিয়ে এটি বৈশ্বিক যোগাযোগের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের লাখো প্রবাসী ও পর্যটকের যাতায়াতের অন্যতম প্রবেশদ্বারও এই বিমানবন্দর।

বর্তমানে হিথ্রো বিমানবন্দরে মাত্র দুটি সমান্তরাল রানওয়ে ব্যবহার করেই প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১ হাজার ৩০০টি ফ্লাইট পরিচালনা করা হয়। বছরে প্রায় ৪ লাখ ৮০ হাজার বিমান ওঠানামার আইনি সীমার কাছাকাছি পরিচালিত হয় এর কার্যক্রম। ব্যস্ততম সময়ে গড়ে প্রতি ৪৫ সেকেন্ডে একটি বিমান উড্ডয়ন বা অবতরণ করে, যা বিশ্বের অন্যতম দক্ষ বিমান চলাচল ব্যবস্থার উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত।

প্রতি বছর প্রায় ৮৫ মিলিয়ন বা সাড়ে ৮ কোটি যাত্রী হিথ্রো বিমানবন্দর ব্যবহার করেন। এখান থেকে বিশ্বের প্রায় ৯০টি দেশের ২৩০টিরও বেশি গন্তব্যে নিয়মিত ফ্লাইট পরিচালনা করে প্রায় ৯০টি আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্স। ইউরোপের অন্যতম প্রধান এভিয়েশন হাব হিসেবে হিথ্রো বৈশ্বিক বিমান যোগাযোগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

বিমানবন্দরের আশপাশে বসবাসকারী মানুষের জীবনযাত্রার মান বিবেচনায় রাত ১১টা থেকে সকাল ৬টার মধ্যে সাধারণত নতুন কোনো উড্ডয়নের সময়সূচি রাখা হয় না। একই সঙ্গে গভীর রাতে বিমান ওঠানামার সংখ্যাও কঠোরভাবে সীমিত রাখা হয়, যাতে শব্দদূষণের প্রভাব কমানো যায়।

হিথ্রো বিমানবন্দরের ইতিহাস 

বর্তমানের বিশ্বখ্যাত এই বিমানবন্দরের যাত্রা শুরু হয় ১৯৩০ সালে ‘লন্ডন এয়ারপোর্ট’ নামে একটি ছোট বিমানক্ষেত্র হিসেবে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ১৯৪৬ সালের ২৫ মার্চ এটি আনুষ্ঠানিকভাবে বেসামরিক বিমানবন্দর হিসেবে চালু হয়।

১৯৬৯ সালে চালু হয় প্রথম আধুনিক যাত্রী টার্মিনাল টার্মিনাল ১। এরপর ১৯৮৬ সালে উদ্বোধন করা হয় টার্মিনাল ৪। ২০০৮ সালে চালু হয় অত্যাধুনিক ও বৃহত্তম টার্মিনাল ৫, যা হিথ্রোর সক্ষমতাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যায়। ২০১৪ সালে রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের নামে উদ্বোধন করা হয় আধুনিক টার্মিনাল ২।

ধাপে ধাপে সম্প্রসারণের মাধ্যমে বর্তমানে চারটি সক্রিয় টার্মিনাল ও দুটি সমান্তরাল রানওয়ে নিয়ে পরিচালিত হচ্ছে হিথ্রো বিমানবন্দর। আধুনিক প্রযুক্তি, দক্ষ ব্যবস্থাপনা এবং সময়ানুবর্তিতার কারণে এটি বিশ্বের অন্যতম সুশৃঙ্খল ও ব্যস্ত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে।

২০২৫ সালে হিথ্রো বিমানবন্দর প্রায় ৮৪ দশমিক ৫ মিলিয়ন যাত্রী পরিবহন করে ইতিহাসের সর্বোচ্চ বার্ষিক যাত্রীসংখ্যার রেকর্ড গড়ে। বৈশ্বিক বিমান চলাচলের ক্রমবর্ধমান চাহিদা মোকাবিলায় বিমানবন্দরটির সম্প্রসারণ ও সক্ষমতা বৃদ্ধির পরিকল্পনাও চলমান রয়েছে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow