হেয়ার এক্সটেনশন ব্যবহারে ক্যানসার ও বন্ধ্যাত্বের ঝুঁকি

চুলের বাহারি সাজসজ্জা এখন শুধু ফ্যাশন নয়, অনেকের দৈনন্দিন রূপে পরিণত হয়েছে। নিজেকে আকর্ষণীয় দেখানোর জন্য নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছেন ত্বক ও চুলের ওপর। ঘন ঘন চুলের রং পরিবর্তন, হিট স্টাইলিং, স্ট্রেটনার ব্যবহার হেয়ার এক্সটেনশন এগুলোতে ব্যবহার করেন কমবয়সি থেকে মধ্যবয়সি অনেকেই। চুল লম্বা ও ঘন দেখাতে বা তারকাদের মতো ঢেউখেলানো ফোলা চুলের লুক পেতে হেয়ার এক্সটেনশন এখন জনপ্রিয়। কিন্তু এই পদ্ধতি কতটা বিপজ্জনক, তা সম্প্রতি গবেষকেরা প্রকাশ করেছেন। হেয়ার এক্সটেনশন মূলত চুলের দৈর্ঘ্য বা ঘনত্ব বাড়ানোর কৃত্রিম পদ্ধতি। এতে নকল চুল আঠা, ক্লিপ বা বিশেষ টেপ ব্যবহার করে নিজের চুলের সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হয়। কখনো কখনো পাতলা চুল ঘন দেখাতে প্রাকৃতিক চুলের মাঝখানে নকল চুল বসিয়ে দেওয়া হয়। এক্সটেনশন স্থায়ী বা অস্থায়ী-উভয়ভাবেই করা যায়। কেউ কয়েক দিনের জন্য আবার কেউ মাসের পর মাস এই রাসায়নিক ব্যবহার করে এক্সটেনশন ধরে রাখেন। এখানেই স্বাস্থ্যঝুঁকি আসে। ‘আমেরিকান কেমিক্যাল সোসাইটি জার্নাল’-এ প্রকাশিত গবেষণাপত্রে দেখা গেছে, হেয়ার এক্সটেনশনে যে ধরনের রাসায়নিক ব্যবহার হয়, তা ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। গবেষকেরা ৪৩ রকম

হেয়ার এক্সটেনশন ব্যবহারে ক্যানসার ও বন্ধ্যাত্বের ঝুঁকি

চুলের বাহারি সাজসজ্জা এখন শুধু ফ্যাশন নয়, অনেকের দৈনন্দিন রূপে পরিণত হয়েছে। নিজেকে আকর্ষণীয় দেখানোর জন্য নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছেন ত্বক ও চুলের ওপর। ঘন ঘন চুলের রং পরিবর্তন, হিট স্টাইলিং, স্ট্রেটনার ব্যবহার হেয়ার এক্সটেনশন এগুলোতে ব্যবহার করেন কমবয়সি থেকে মধ্যবয়সি অনেকেই।

চুল লম্বা ও ঘন দেখাতে বা তারকাদের মতো ঢেউখেলানো ফোলা চুলের লুক পেতে হেয়ার এক্সটেনশন এখন জনপ্রিয়। কিন্তু এই পদ্ধতি কতটা বিপজ্জনক, তা সম্প্রতি গবেষকেরা প্রকাশ করেছেন।

হেয়ার এক্সটেনশন মূলত চুলের দৈর্ঘ্য বা ঘনত্ব বাড়ানোর কৃত্রিম পদ্ধতি। এতে নকল চুল আঠা, ক্লিপ বা বিশেষ টেপ ব্যবহার করে নিজের চুলের সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হয়। কখনো কখনো পাতলা চুল ঘন দেখাতে প্রাকৃতিক চুলের মাঝখানে নকল চুল বসিয়ে দেওয়া হয়। এক্সটেনশন স্থায়ী বা অস্থায়ী-উভয়ভাবেই করা যায়। কেউ কয়েক দিনের জন্য আবার কেউ মাসের পর মাস এই রাসায়নিক ব্যবহার করে এক্সটেনশন ধরে রাখেন। এখানেই স্বাস্থ্যঝুঁকি আসে।

cg

‘আমেরিকান কেমিক্যাল সোসাইটি জার্নাল’-এ প্রকাশিত গবেষণাপত্রে দেখা গেছে, হেয়ার এক্সটেনশনে যে ধরনের রাসায়নিক ব্যবহার হয়, তা ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। গবেষকেরা ৪৩ রকম এক্সটেনশন প্রোডাক্ট পরীক্ষা করে প্রায় ৯০০ রকম রাসায়নিক চিহ্নিত করেছেন। এগুলো শরীরে ঢুকলে ক্যানসার ছাড়াও হরমোনে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে, যা পরবর্তীতে বন্ধ্যাত্বের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

হেয়ার এক্সটেনশন চুলের গোড়া দুর্বল করে দেয়। দিনের পর দিন নকল চুল মাথার আসল চুলে রাখার ফলে মাথার ত্বকে চাপ পড়ে এবং রক্ত সঞ্চালনে ক্ষতি হয়। চুলের স্বাভাবিক মেলানিনও ধীরে ধীরে নষ্ট হতে থাকে।

এক্সটেনশনকে আকর্ষণীয় রাখার জন্য হেয়ার ডাই, কন্ডিশনার এবং অন্যান্য পণ্য ব্যবহার করা হয়, যা চুলের কেরাটিন ক্ষতি করে।

গবেষণাপত্রে উল্লেখিত কিছু রাসায়নিক হলো অর্গানোটিন, যা শিল্পকারখানার রঙে ব্যবহৃত হয় এবং মানুষের দেহে প্রবেশ করলে ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়। বেঞ্জিনও একটি হুমকিস্বরূপ রাসায়নিক, যা রক্তের ক্যানসারের সম্ভাবনা বৃদ্ধি করতে পারে। এছাড়া থ্যালেট, যা প্লাস্টিকজাত পণ্যে পাওয়া যায়, হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে এবং প্রজনন ক্ষমতা ক্ষতি করতে পারে। টেট্রাক্লোরোইথিলিন শ্বাসনালির ক্ষতি ঘটায় এবং ফুসফুসের ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়।

এই গবেষণার আলোকে বলা যায়, চুলের বাহারি সাজের জন্য হেয়ার এক্সটেনশন ব্যবহার করা এখন শুধুই ফ্যাশন নয়, বরং স্বাস্থ্যের জন্য বড় ঝুঁকি। তাই চুল লম্বা বা ঘন দেখাতে চাইলে প্রাকৃতিক পদ্ধতি, সঠিক পুষ্টি, নিয়মিত হেয়ার কেয়ার এবং ঘরে বানানো হেয়ার মাস্কের দিকে মনোযোগ দেওয়াই নিরাপদ।

সূত্র: হেলথলাইন, ইন্ডিয়া টুডে, আমেরিকান লাইব্রেরি অব মেডিসিন ও অন্যান্য

আরও পড়ুন:
নারীদের ক্যানসার প্রতিরোধে জরুরি যেসব পরীক্ষা 
বিয়ের আগে বর-কনের যেসব স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা উচিত 

এসএকেওয়াই/

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow