১০ বছর বয়সী খাদিজার মৃত্যু, ডাক্তারের বিরুদ্ধে ভুল চিকিৎসার অভিযোগ
চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে ডাক্তারের ভুল চিকিৎসায় খাদিজা আক্তার (১০) নামে চতুর্থ শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (২০ জুলাই) ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। নিহত খাদিজা উপজেলার দেশগাঁও আদর্শ অ্যাকাডেমির চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী এবং দেশগাঁও পশ্চিম আটিয়া বাড়ি এলাকার বাসিন্দা মন্টু মিয়ার মেয়ে। পরিবারের অভিযোগ, অসুস্থ হওয়ার পর গত ১২ জুলাই খাদিজাকে হাজীগঞ্জ হলি কেয়ার ডিজিটাল মেডিকেল সেন্টার অ্যান্ড হসপিটালে চিকিৎসক ডা. মিনহাজুর রহমানের কাছে নেওয়া হয়। এ সময় চিকিৎসক টাইফয়েডের জ্বর হয়েছে বলে চিকিৎসা দেন। তবে স্বজনদের দাবি, তখন ডেঙ্গু বা নিউমোনিয়াজনিত সমস্যা শনাক্ত করতে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করা হয়নি। চিকিৎসা নেওয়ার পরও খাদিজার শারীরিক অবস্থার উন্নতি না হয়ে ধীরে ধীরে অবনতি হতে থাকে। একপর্যায়ে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া হয়। গত ১৯ জুলাই শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। পরে ২০ জুলাই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুসনদে উল্লেখিত তথ্য অনুযায়ী, খাদিজার মৃত্যুর কারণ হিসেবে ‘কার্ডিও-রেসপিরেটরি ফেইলিউর (হৃদ্যন্ত্র
চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে ডাক্তারের ভুল চিকিৎসায় খাদিজা আক্তার (১০) নামে চতুর্থ শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (২০ জুলাই) ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
নিহত খাদিজা উপজেলার দেশগাঁও আদর্শ অ্যাকাডেমির চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী এবং দেশগাঁও পশ্চিম আটিয়া বাড়ি এলাকার বাসিন্দা মন্টু মিয়ার মেয়ে।
পরিবারের অভিযোগ, অসুস্থ হওয়ার পর গত ১২ জুলাই খাদিজাকে হাজীগঞ্জ হলি কেয়ার ডিজিটাল মেডিকেল সেন্টার অ্যান্ড হসপিটালে চিকিৎসক ডা. মিনহাজুর রহমানের কাছে নেওয়া হয়। এ সময় চিকিৎসক টাইফয়েডের জ্বর হয়েছে বলে চিকিৎসা দেন। তবে স্বজনদের দাবি, তখন ডেঙ্গু বা নিউমোনিয়াজনিত সমস্যা শনাক্ত করতে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করা হয়নি।
চিকিৎসা নেওয়ার পরও খাদিজার শারীরিক অবস্থার উন্নতি না হয়ে ধীরে ধীরে অবনতি হতে থাকে। একপর্যায়ে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া হয়। গত ১৯ জুলাই শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। পরে ২০ জুলাই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
মৃত্যুসনদে উল্লেখিত তথ্য অনুযায়ী, খাদিজার মৃত্যুর কারণ হিসেবে ‘কার্ডিও-রেসপিরেটরি ফেইলিউর (হৃদ্যন্ত্র ও শ্বাসপ্রশ্বাসের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে যাওয়া) ডিউ টু নিউমোনিয়া, সাসপেক্টেড এআরডিএস, থ্রম্বোসাইটোপেনিয়া ও সেপটিসেমিয়া’ উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ নিউমোনিয়ার জটিলতার সঙ্গে শ্বাসপ্রশ্বাস ও হৃদ্যন্ত্রের ক্রিয়া ব্যর্থতা, রক্তে প্লেটলেট কমে যাওয়া এবং গুরুতর সংক্রমণজনিত জটিলতার কথা মৃত্যুসনদে উল্লেখ রয়েছে।
স্বজনদের দাবি, প্রাথমিক পর্যায়ে সঠিক রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা না পাওয়ার কারণেই খাদিজার অবস্থার অবনতি হয়েছে। তারা এ ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং চিকিৎসায় কোনো গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন।
তবে ভুল চিকিৎসার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন চিকিৎসক ডা. মিনহাজুর রহমান। তিনি জানান, রোগী তার কাছে আসার পর প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও রিপোর্টের ভিত্তিতে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তার পক্ষ থেকে কোনো ভুল চিকিৎসা দেওয়া হয়নি।
এ বিষয়ে হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আহমেদ তানভীর বলেন, পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পাওয়া গেলে বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে। ভুল চিকিৎসার অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
What's Your Reaction?