১০ বছর বয়সে গুলিবিদ্ধ, ৪ বছর শরীরে বুলেট, এবার মাতালেন বিশ্বকাপ ফুটবল
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে কলম্বিয়ার অন্যতম সেরা পারফরমার ছিলেন গুস্তাভো পুয়ের্তা। মাঝমাঠে দুর্দান্ত নৈপুণ্যে নজর কাড়েন ২৩ বছর বয়সী এই ফুটবলার। তবে অন্য আর আট-দশজন ফুটবলারের মত ছিল গুস্তাবো পুয়ের্তার উঠে আসার গল্প। কলম্বিয়ার জার্সিতে বিশ্বকাপের আলোয় উঠে আসার পেছনে লুকিয়ে ছিল তার এক অবিশ্বাস্য সংগ্রামের গল্প। সম্প্রতি ‘আন ব্রেক’ অনুষ্ঠানে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পুয়ের্তা জানিয়েছেন, মাত্র ১০ বছর বয়সে তিনি গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন। শুধু তাই নয়, চার বছর ধরে তার পায়ের ভেতরেই আটকে ছিল সেই গুলি। তীব্র যন্ত্রণা নিয়েই খেলেছেন ফুটবল, লড়াই করেছেন নিজের স্বপ্নের জন্য। কিভাবে শিকার হয়েছিলেন সেই ভয়াবহ ঘটনার? ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে পুয়ের্তা বলেন, সেদিন বাবার একটি কাজে টাকা আনতে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন তিনি। কাজ শেষে সাইকেলে করে বাড়ি ফিরছিলেন। ঠিক তখনই তার সামনে ঘটে যায় ভয়াবহ একটি ঘটনা। একদল সশস্ত্র দুর্বৃত্ত একজন যুবককে ধাওয়া করছিল। মুহূর্তের মধ্যে শুরু হয় গোলাগুলি। সেই গুলির একটি এসে লাগে ছোট্ট পুয়ের্তার পায়ে। তিনি বলেন, ‘আমি সাইকেলে করে যাচ্ছিলাম। হঠাৎ দেখি একজনকে ধাওয়া করা হচ্ছে। এরপরই গুলি চলতে শুরু করে। আমি সাইকে
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে কলম্বিয়ার অন্যতম সেরা পারফরমার ছিলেন গুস্তাভো পুয়ের্তা। মাঝমাঠে দুর্দান্ত নৈপুণ্যে নজর কাড়েন ২৩ বছর বয়সী এই ফুটবলার। তবে অন্য আর আট-দশজন ফুটবলারের মত ছিল গুস্তাবো পুয়ের্তার উঠে আসার গল্প। কলম্বিয়ার জার্সিতে বিশ্বকাপের আলোয় উঠে আসার পেছনে লুকিয়ে ছিল তার এক অবিশ্বাস্য সংগ্রামের গল্প।
সম্প্রতি ‘আন ব্রেক’ অনুষ্ঠানে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পুয়ের্তা জানিয়েছেন, মাত্র ১০ বছর বয়সে তিনি গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন। শুধু তাই নয়, চার বছর ধরে তার পায়ের ভেতরেই আটকে ছিল সেই গুলি। তীব্র যন্ত্রণা নিয়েই খেলেছেন ফুটবল, লড়াই করেছেন নিজের স্বপ্নের জন্য।
কিভাবে শিকার হয়েছিলেন সেই ভয়াবহ ঘটনার?
ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে পুয়ের্তা বলেন, সেদিন বাবার একটি কাজে টাকা আনতে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন তিনি। কাজ শেষে সাইকেলে করে বাড়ি ফিরছিলেন। ঠিক তখনই তার সামনে ঘটে যায় ভয়াবহ একটি ঘটনা।
একদল সশস্ত্র দুর্বৃত্ত একজন যুবককে ধাওয়া করছিল। মুহূর্তের মধ্যে শুরু হয় গোলাগুলি। সেই গুলির একটি এসে লাগে ছোট্ট পুয়ের্তার পায়ে।
তিনি বলেন, ‘আমি সাইকেলে করে যাচ্ছিলাম। হঠাৎ দেখি একজনকে ধাওয়া করা হচ্ছে। এরপরই গুলি চলতে শুরু করে। আমি সাইকেল ফেলে ঘাসের ওপর লুটিয়ে পড়ি। কয়েক সেকেন্ড পর দেখি আমার শর্টসে বড় একটি ছিদ্র। তখনই বুঝতে পারি গুলি লেগেছে।’
গুলির আঘাতে প্রচণ্ড ব্যথায় অজ্ঞান হয়ে যান পুয়ের্তা। হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকরা তার চিকিৎসা শুরু করেন। কিন্তু মাত্র ১০ বছরের সেই শিশুর মাথায় তখনও ঘুরছিল একটাই চিন্তা- তিনি কি আর কখনও ফুটবল খেলতে পারবেন?
পুয়ের্তার ভাষায়, ‘গুলিটি আমার পা ভেদ করে বেরিয়ে যায়নি। ভেতরেই আটকে ছিল। মনে হচ্ছিল পায়ের ভেতরটা যেন আগুনে পুড়ে যাচ্ছে। ব্যথায় আমি অজ্ঞান হয়ে গিয়েছিলাম। হাসপাতালে পৌঁছেই প্রথম প্রশ্ন করেছিলাম, আমি কি আবার ফুটবল খেলতে পারব? সেটাই ছিল আমার সবচেয়ে বড় উদ্বেগ।’
চিকিৎসকরা প্রথমদিকে গুলিটি বের করার ঝুঁকি নেননি। কারণ সেটি মহাধমনির (অর্টা) খুব কাছাকাছি অবস্থান করছিল। অস্ত্রোপচার করলে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের আশঙ্কা ছিল।
২০১৫ সালে একবার অস্ত্রোপচারের চেষ্টা করা হলেও শেষ মুহূর্তে সেটি বাতিল করা হয়। চিকিৎসকদের মতে, ঝুঁকি তখনও অনেক বেশি ছিল। অবশেষে ২০১৮ সালে আরেকটি সফল অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে শরীর থেকে গুলিটি বের করা সম্ভব হয়।
অর্থাৎ, প্রায় চার বছর ধরে পায়ের ভেতরে গুলি নিয়েই অনুশীলন এবং প্রতিযোগিতামূলক ফুটবল খেলেছেন এই মিডফিল্ডার।
শরীরে গুলি নিয়ে খেলাটা মোটেও সহজ ছিল না বলে জানান পুয়ের্তা। তার ভাষায়, ‘সৃষ্টিকর্তার কৃপায় গুলিটি আগে মাটিতে এবং পরে সাইকেলে লেগেছিল। যদি সরাসরি আরও জোরে লাগত, তাহলে আমার ফিমার হাড় ভেঙে যেতে পারত। সেক্ষেত্রে হয়তো আজকের চিত্রটা অন্যরকম হতে পারতো।’
তিনি আরও বলেন, ‘২০১৮ সাল পর্যন্ত গুলিটি আমার শরীরেই ছিল। ওই অবস্থায় প্রতিযোগিতামূলক ফুটবল খেলা খুব কঠিন ছিল। বিশেষ করে শীতের সময় কিংবা পূর্ণিমার রাতে পায়ে প্রচণ্ড ব্যথা অনুভব করতাম।’
সংগ্রাম পেরিয়ে বিশ্বকাপের মঞ্চে
যে ছেলেটি ১০ বছর বয়সে হাসপাতালে শুয়ে শুধু জানতে চেয়েছিল, সে আবার ফুটবল খেলতে পারবে কি না- সেই ছেলেই আজ কলম্বিয়ার জাতীয় দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। ২০২৬ বিশ্বকাপে নিজের পারফরম্যান্স দিয়ে তিনি শুধু কলম্বিয়ার মাঝমাঠই সামলাননি, বিশ্ব ফুটবলের নজরও কেড়েছেন।
শৈশবের সেই গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনা হয়তো তার ক্যারিয়ার শেষ করে দিতে পারত। কিন্তু গুস্তাভো পুয়ের্তা হার মানেননি। চার বছর শরীরে গুলি নিয়েই নিজের স্বপ্নকে আঁকড়ে রেখেছিলেন। আর সেই অদম্য মানসিক শক্তিই আজ তাকে বিশ্বকাপের মঞ্চে কলম্বিয়ার অন্যতম বড় তারকায় পরিণত করেছে।
আইএইচএস/
What's Your Reaction?