১৪ বছর বয়সেই ছুঁয়ে ফেললেন আইসিসি ট্রফি, কে এই সূর্যবংশী?
এবার আফ্রিকার মাটিতেও দেখা গেল সূর্যের তেজ! যে তেজে ঝলসে গেল ক্রিকেট দুনিয়া। ঝলসে গেল প্রতিপক্ষ। ব্যাটটা তুলে চৌদ্দ বছরের এক কিশোর স্বদর্পে ঘোষণা করল— আমি এসে গেছি। সত্যিই এসে গেছে বৈভব সূর্যবংশী। গত এক বছর ধরে বিশ্ব ক্রিকেটের আঙিনায় তার নামটা উঠে এসেছে বহুবার। ছয় মারার দক্ষতার জন্য বয়স ভিত্তিক ক্রিকেট থেকে আইপিএল, সব মাতিয়েছে বৈভব। কিন্তু এই রকম ব্যাটিং শৌর্য তার কাছ থেকে আগে দেখা যায়নি। আজ দেখা গেল একেবারে শ্রেষ্ঠত্বের চূড়ান্ত পরীক্ষায়। অনূর্ধ-১৯ বিশ্বকাপ ফাইনালের মঞ্চে। বৈভবের এই ব্যাটিংয়ের পরে একটা ব্যাপার নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল। ষষ্ঠবার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিততে চলেছে ভারত। শেষ পর্যন্ত সেটাই হল। ৫০ ওভারে ভারতর ৪১১ রানের বিশাল স্কোর তাড়া করে ইংল্যান্ড অনূর্ধ্ব-১৯ দল থেমে গেল ৩১১ রানে। ভারতের জয় ১০০ রানের বড় ব্যবধানে। শুক্রবার হারারেতে ঠিক কী করল বৈভব সূর্যবংশী? চোখটা ভাল করে মুছে এক বার দেখে নেওয়া যাক। ৮০ বলে ১৭৫! ১৫টি ছয়, ১৫টি চার! আরও একটা ব্যাপার মাথায় রাখতে হবে। প্রথম ২৪ বলে কিন্তু মাত্র ২৪ রান করেছিল বৈভব। তার পরে শুরু হয় তাণ্ডব। শেষ ৫১ বলে বৈভবের ব্যাট থেকে এসেছে ১৫৬ রান। শ
এবার আফ্রিকার মাটিতেও দেখা গেল সূর্যের তেজ! যে তেজে ঝলসে গেল ক্রিকেট দুনিয়া। ঝলসে গেল প্রতিপক্ষ। ব্যাটটা তুলে চৌদ্দ বছরের এক কিশোর স্বদর্পে ঘোষণা করল— আমি এসে গেছি। সত্যিই এসে গেছে বৈভব সূর্যবংশী। গত এক বছর ধরে বিশ্ব ক্রিকেটের আঙিনায় তার নামটা উঠে এসেছে বহুবার। ছয় মারার দক্ষতার জন্য বয়স ভিত্তিক ক্রিকেট থেকে আইপিএল, সব মাতিয়েছে বৈভব। কিন্তু এই রকম ব্যাটিং শৌর্য তার কাছ থেকে আগে দেখা যায়নি। আজ দেখা গেল একেবারে শ্রেষ্ঠত্বের চূড়ান্ত পরীক্ষায়।
অনূর্ধ-১৯ বিশ্বকাপ ফাইনালের মঞ্চে। বৈভবের এই ব্যাটিংয়ের পরে একটা ব্যাপার নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল। ষষ্ঠবার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিততে চলেছে ভারত। শেষ পর্যন্ত সেটাই হল। ৫০ ওভারে ভারতর ৪১১ রানের বিশাল স্কোর তাড়া করে ইংল্যান্ড অনূর্ধ্ব-১৯ দল থেমে গেল ৩১১ রানে। ভারতের জয় ১০০ রানের বড় ব্যবধানে।
শুক্রবার হারারেতে ঠিক কী করল বৈভব সূর্যবংশী? চোখটা ভাল করে মুছে এক বার দেখে নেওয়া যাক। ৮০ বলে ১৭৫! ১৫টি ছয়, ১৫টি চার! আরও একটা ব্যাপার মাথায় রাখতে হবে। প্রথম ২৪ বলে কিন্তু মাত্র ২৪ রান করেছিল বৈভব। তার পরে শুরু হয় তাণ্ডব। শেষ ৫১ বলে বৈভবের ব্যাট থেকে এসেছে ১৫৬ রান। শতরান এসেছে ৫৫ বলে। কোনও আইসিসি ট্রফির ফাইনালে এটাই সেরা ইনিংস বলে দাবি করছেন কেউ কেউ। আবার বৈভবের এই ইনিংসের সঙ্গে বাকিরা তুলনায় টেনে আনছেন ভারতীয় ক্রিকেট ইতিহাসের এক অমর ইনিংসকে। ১৯৮৩ সালের বিশ্বকাপে জ়িম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে খেলা কপিল দেবের সেই ১৭৫ রানের ইনিংস! যে ইনিংস কপিল খেলেছিলেন ইংল্যান্ডের মাঠে, জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে। আর বৈভব খেললেন ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জিম্বাবুয়ের মাঠে!
সাধারণ দর্শক থেকে সাবেক ক্রিকেটাররা— কেউ যেন বিশ্বাস করতে পারছিলেন না কী দেখেছেন এ দিন। ভারতের সাবেক তারকা ক্রিকেটার বীরেন্দ্র শেবাগ যেমন যোগাযোগ মাধ্যমে লিখেই দিয়েছেন যে, সূর্যকে থামানো সম্ভব নয়। বীরু লিখেছেন, ‘৮০ বলে ১৭৫। ১৫টা চার, ১৫টা ছয়। সমপরিমান চার-ছয়, সমপরিমান ধ্বংস।’
এর পরে বিস্ফোরক এই প্রাক্তন ব্যাটসম্যান লিখেছেন, ‘সূর্যবংশী— সূর্য-সাম্রাজ্যের ছেলে। আজ সে ভাবেই খেলল। একে থামানো যায় না। ইংল্যান্ড বোলাররা সব রকম চেষ্টা করেছে। কিন্তু সূর্যকে থামাবে কে? ভারতীয় ক্রিকেটে সূর্যোদয়। ভবিষ্যতের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।’
ডেল স্টেইন লিখেছেন, ‘সবাই টুইট করছে ছেলেটাকে নিয়ে। আমিও করি। মনে হয় স্কুল জীবন শেষ করার আগেই আইপিএল জিতে নেবে বৈভব।’ বিরাট কোহলি থেকে গৌতম গম্ভীর— বিশ্বকাপ জেতার জন্য ভারতীয় অনূর্ধ্ব-১৯ দলকে অভিনন্দন জানিয়েছেন সবাই। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদবের মন্তব্য, ‘অবিশ্বাস্য ইনিংস। ছেলেটার কী মানসিকতা, ফাইনালেই এই রকম ইনিংস খেলল।’
বিহারের সমস্তিপুরে জন্ম বৈভব সূর্যবংশীর। নজর কেড়েছে আরও অনেক আগেই। কিন্তু আজ নিজেকেও ছাপিয়ে গেল সে? ম্যাচ আর প্রতিযোগিতার সেরা ক্রিকেটার হওয়ার পর সংবাদ সম্মেলনে বৈভব বলেন, ‘নিজের ব্যাটিং দক্ষতার উপরে আস্থা ছিল আমার। জানতাম, বড় ম্যাচে ঠিক অবদান রাখতে পারব। আজ সেটাই হল। আমরা নিজেদের উপরে কোনও চাপই নিইনি।’
তার ব্যাটে মুগ্ধ ইউসুফ পাঠানও। এক্স হ্যান্ডেলে লিখেছেন, ‘১৪ বছর বয়স। কোনও ভয় নেই, কোনও চাপ নেই। নিখাদ প্রতিভা। বৈভব সূর্যবংশী শুধু একটা ইনিংস খেলেনি, ভারতীয় ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ যেন লিখে দিল।’ ইরফান পাঠানের মন্তব্য, ‘বিশ্বকাপ ফাইনালে রাজকীয় ইনিংস। বৈভব শুধু ধারাবাহিকতাই দেখাচ্ছে না, প্রয়োজনের সময় সেরাটা দিচ্ছে।’
১৪ বছরের বাঁ-হাতি ওপেনার ইতিমধ্যেই নিজের নামের পাশে যে পরিসংখ্যান বসিয়ে ফেলেছে, তা অনেক ক্রিকেটার সারা জীবনে বসাতে পারে না। আইপিএলে শতরান, অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপে শতরান, মুস্তাক আলি ট্রফিতে শতরান, বিজয় হজারেতে শতরান, ভারতীয় এ দলের হয়ে শতরান, যুব ভারতের হয়ে এক দিনের ম্যাচে শতরান, যুব টেস্টে শতরান, যুব এশিয়া কাপে শতরান। ১৪ বছর বয়সে অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপ জয়, ফাইনালে ম্যাচের সেরা ক্রিকেটার এবং প্রতিযোগিতার সেরা ক্রিকেটারের পুরস্কার। সিনিয়র, জুনিয়র, পুরুষ, মহিলা মিলিয়ে কোনও আইসিসি প্রতিযোগিতার ফাইনালে ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের মধ্যে এটাই সর্বোচ্চ স্কোর। বারবার তুলনায় উঠে আসছে কপিল দেবের ওই রূপকথার ইনিংস। যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখাচ্ছেন একটা দিক— কপিলের মতো বৈভবের শতরানের মঞ্চও বিশ্বকাপ, যদিও তা অনূর্ধ্ব-১৯। কপিল ইংল্যান্ডের মাঠে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওই ১৭৫ রানের ইনিংস খেলেছিলেন। বৈভব খেলল জিম্বাবুয়ের মাঠে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে।
এদিকে, কিশোর বয়সেই আইসিসির ট্রফি জেতা বৈভব সূর্যবংশীকে এবার সিনিয়র দলে দেখতে চাইছেন তার কোচ সৌরভ কুমার। ভারতীয় দলের অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ জয়ের দিন বাড়িতে ছিলেন না বৈভবের কোচ। শনিবার থেকে শুরু হচ্ছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। সেই প্রতিযোগিতায় ধারাভাষ্য দেবেন তিনি। প্লেন ধরার ব্যস্ততার মধ্যেই কথা বলেন তিনি। সৌরভ বলেন, ‘বৈভব ভারতের সিনিয়র দলে খেললে, ২০ ওভারে ৩০০ রান উঠবে।’ অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের মাঝে কয়েকবার বৈভবের সঙ্গে কথা হয়েছে তার। তবে কোনও বড় প্রতিযোগিতা চলার মাঝে ছাত্রের সঙ্গে খুব বেশি কথা বলতে পছন্দ করেন না তিনি।
সৌরভ বলেন, ‘ভারতীয় দলের একজন কোচ রয়েছেন। তিনি বৈভবকে গাইড করছেন। এর মাঝে আমি কথা বললে বৈভবের অসুবিধা হবে। ও বিভ্রান্ত হয়ে যাবে। তাই আমি খুব বেশি কথা বলি না। তবে রঞ্জি ট্রফিতে বিহারের খেলা দেখেছে বৈভব। আমাকে এক দিন ফোন করে বিহারের দল নিয়ে জানতে চাইছিল।’
What's Your Reaction?