১৮০ টাকার মোবাইল সেবায় ১০০ টাকা ভ্যাট নেয় সরকার
গ্রাহকের কেনা ডাটা প্যাকেজ থেকে মোবাইল অপারেটররা যেভাবে অর্থ কেটে নেওয়া হয়, তা নজিরবিহীন। টেলিযোগাযোগ খাতে সেবার মান, মূল্য বৈষম্য, অস্বচ্ছ প্যাকেজ ও গ্রাহক হয়রানি এখন বড় সংকটে পরিণত হয়েছে। ১৮০ টাকার মোবাইল সেবার মধ্যে প্রায় ১০০ টাকাই সরকার ভ্যাট হিসেবে আদায় করে। রোববার (১৭ মে) সকালে কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) কার্যালয়ে এক আলোচনা সভায় বক্তারা এমন অভিযোগ তুলেন। ‘বিশ্ব টেলিযোগাযোগ ও তথ্য সংঘ দিবস’ উপলক্ষে এ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। এর আগে দিবসটি উপলক্ষে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে থেকে একটি র্যালি বের করা হয়। বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে আয়োজিত র্যালিটি ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে গিয়ে শেষ হয়। পরে ক্যাব কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা। সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি এএইচএম সফিকুজ্জামান বলেন, ‘আমি যখন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ছিলেন, তখন গ্রাহকের অভিযোগ নিয়ে মোবাইল অপারেটরদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা করেছিলেন। কিন্তু পরে অপারেটরগুলো হাইকোর্টে রিট করে ভোক্তা অধিদপ্তরের কার্যক্রম বন্ধ
গ্রাহকের কেনা ডাটা প্যাকেজ থেকে মোবাইল অপারেটররা যেভাবে অর্থ কেটে নেওয়া হয়, তা নজিরবিহীন। টেলিযোগাযোগ খাতে সেবার মান, মূল্য বৈষম্য, অস্বচ্ছ প্যাকেজ ও গ্রাহক হয়রানি এখন বড় সংকটে পরিণত হয়েছে। ১৮০ টাকার মোবাইল সেবার মধ্যে প্রায় ১০০ টাকাই সরকার ভ্যাট হিসেবে আদায় করে।
রোববার (১৭ মে) সকালে কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) কার্যালয়ে এক আলোচনা সভায় বক্তারা এমন অভিযোগ তুলেন। ‘বিশ্ব টেলিযোগাযোগ ও তথ্য সংঘ দিবস’ উপলক্ষে এ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
এর আগে দিবসটি উপলক্ষে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে থেকে একটি র্যালি বের করা হয়। বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে আয়োজিত র্যালিটি ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে গিয়ে শেষ হয়। পরে ক্যাব কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা।
সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি এএইচএম সফিকুজ্জামান বলেন, ‘আমি যখন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ছিলেন, তখন গ্রাহকের অভিযোগ নিয়ে মোবাইল অপারেটরদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা করেছিলেন। কিন্তু পরে অপারেটরগুলো হাইকোর্টে রিট করে ভোক্তা অধিদপ্তরের কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়।’
তিনি বলেন, ‘গ্রাহকের কেনা ডাটা প্যাকেজ থেকে যেভাবে অর্থ কেটে নেওয়া হয়, তা নজিরবিহীন। ডিজিটাল জীবনযাত্রা মানুষের কাজ সহজ করলেও মানুষকে অনেক দূরে সরিয়ে দিয়েছে।’
তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, নাগরিকদের ওপর নজরদারি করা সম্ভব হলেও অনলাইন জুয়া কেন বন্ধ করা যাচ্ছে না, তা বোধগম্য নয়।’
সফিকুজ্জামান আরও বলেন, ১৮০ টাকার মোবাইল সেবার মধ্যে প্রায় ১০০ টাকাই সরকার ভ্যাট হিসেবে আদায় করে। কিন্তু সেই অর্থ কোথায় ব্যয় হয়, তা জানার অধিকার নাগরিকদের রয়েছে।
বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশনের সাবেক পরিচালক খালিদ আবু নাসের বলেন, ‘টেলিকম খাতে প্রতিযোগিতায় আইনের কোনো ব্যবহার হচ্ছে না। একমাত্র গ্রামীণফোনকে যেভাবে সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হচ্ছে, তাতে রাষ্ট্রীয় অপারেটরের পাশাপাশি আরেকটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানও দ্রুত বন্ধ হয়ে যাবে।’
তিনি জুলাই আন্দোলনের সময় ইন্টারনেট বন্ধের ঘটনায় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।
সিপিবির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, ‘প্যাকেজের নামে নৈরাজ্য চলতে দেওয়া যাবে না। সরকারকে ৫৬ শতাংশ ভ্যাট আদায় করতে দেয়া উচিত হবে না।’
তিনি সাইবার নিরাপত্তা ও নাগরিকের ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষায় সরকারের আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা চান।
বাসদের সাধারণ সম্পাদক রাজেকুজ্জামান রতন বলেন, আমরা ডিজিটাল উন্নতির কথা বলি অথচ আমরা নিজেরা উন্নত হতে চাই না। আমরা যদি প্রযুক্তির বান্ধব শ্রমিক বিদেশে পাঠাতে পারে তাহলে বাংলাদেশ আরও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে পারে। এ আই আমাদেরকে যতটা না সুবিধা দিচ্ছে তার চাইতে বেশি করে ভাবিয়ে তুলছে।
আরও বক্তব্য রাখেন জাতীয়তাবাদী আইসিটি ফোরামের ভাইস প্রেসিডেন্ট সামিউল ইসলাম, বাংলাদেশ মোবাইল ফোন রিচার্জ ব্যবসায়ী অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আমনুল ইসলাম বুলু, সংগঠনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সাহিদা বেগম, কেন্দ্রীয় সদস্য মাহফুজ প্রমুখ।
অনুষ্ঠানের সভাপতির বক্তব্যে সংগঠনের সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, বর্তমান বিশ্বে টেলিযোগাযোগ আর বিলাসিতা নয়, এটি এখন মৌলিক অধিকার ও ডিজিটাল লাইফলাইন। একটি নিরাপদ, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও নিরবচ্ছিন্ন ডিজিটাল ব্যবস্থা গড়ে তোলাই এখন সময়ের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
তিনি বলেন, দেশে মোবাইল ফোন ও ইন্টারনেটের বিস্তার ঘটলেও এখনও গ্রাহকরা দুর্বল নেটওয়ার্ক, উচ্চমূল্যের ইন্টারনেট, অযৌক্তিক চার্জ, সেবার মানের বৈষম্য ও অভিযোগ নিষ্পত্তির দুর্বলতার মতো সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন।
মহিউদ্দিন আহমেদ আরও বলেন, স্মার্ট বাংলাদেশ গড়তে হলে সাশ্রয়ী, মানসম্মত ও নির্ভরযোগ্য টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। ডিজিটাল সংযোগ কেবল প্রযুক্তি নয়, এটি মানুষের জীবনরেখা বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
What's Your Reaction?