১৯ বছর পর বেতার যন্ত্রপাতি ফেরত পেলেন সাবেক এমপি লালু
দীর্ঘ ১৯ বছর পর যৌথ বাহিনীর জব্দ করা বেতার (ওয়ারলেস) যন্ত্রপাতি ফেরত পেয়েছেন বগুড়া-৭ (গাবতলী-শাহজাহানপুর) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপি নেতা হেলালুজ্জামান তালুকদার লালু। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বিকেলে বগুড়ার চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের মালখানা থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এসব মালামাল বুঝে নেন তার ছেলে আইনজীবী সাহেদুজ্জামান সিরাজ বিজয়। মালামাল ফেরত পেতে আইনি সহায়তা করেছেন অ্যাডভোকেট মিন্টু কুমার সরকার। তবে দীর্ঘদিন অযত্ন-অবহেলায় পড়ে থাকায় জব্দ করা যন্ত্রপাতির অধিকাংশ অকেজো হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। আরও পড়ুন নকল ঘি উৎপাদন করে ৩ লাখ জরিমানা গুনলেন কারিগর মামলার বিবরণ ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০০৭ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে যৌথ বাহিনীর সদস্যরা হেলালুজ্জামান তালুকদার লালুর বগুড়ার বাড়িতে অভিযান চালান। এসময় বাড়ি থেকে বেতার টাওয়ার, রিপিটার, বেস স্টেশন ও ছয়টি ওয়াকিটকিসহ অন্যান্য সরঞ্জাম জব্দ করা হয়। পরবর্তী সময়ে ১৫ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন পুলিশ বাদী হয়ে হেলালুজ্জামান তালুকদার লালুকে আসামি করে বগুড়া সদর থানায় টেলিযোগাযোগ আইন ও বিশেষ ক্ষমতা আইনে একটি মামলা করে। তদন
দীর্ঘ ১৯ বছর পর যৌথ বাহিনীর জব্দ করা বেতার (ওয়ারলেস) যন্ত্রপাতি ফেরত পেয়েছেন বগুড়া-৭ (গাবতলী-শাহজাহানপুর) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপি নেতা হেলালুজ্জামান তালুকদার লালু।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বিকেলে বগুড়ার চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের মালখানা থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এসব মালামাল বুঝে নেন তার ছেলে আইনজীবী সাহেদুজ্জামান সিরাজ বিজয়।
মালামাল ফেরত পেতে আইনি সহায়তা করেছেন অ্যাডভোকেট মিন্টু কুমার সরকার। তবে দীর্ঘদিন অযত্ন-অবহেলায় পড়ে থাকায় জব্দ করা যন্ত্রপাতির অধিকাংশ অকেজো হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
মামলার বিবরণ ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০০৭ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে যৌথ বাহিনীর সদস্যরা হেলালুজ্জামান তালুকদার লালুর বগুড়ার বাড়িতে অভিযান চালান। এসময় বাড়ি থেকে বেতার টাওয়ার, রিপিটার, বেস স্টেশন ও ছয়টি ওয়াকিটকিসহ অন্যান্য সরঞ্জাম জব্দ করা হয়। পরবর্তী সময়ে ১৫ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন পুলিশ বাদী হয়ে হেলালুজ্জামান তালুকদার লালুকে আসামি করে বগুড়া সদর থানায় টেলিযোগাযোগ আইন ও বিশেষ ক্ষমতা আইনে একটি মামলা করে। তদন্ত শেষে একই বছরের ২৪ মার্চ আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করে পুলিশ। বিচারাধীন থাকার পর ২০০৮ সালে ওই বিএনপি নেতা হাইকোর্টে আপিল করেন। দীর্ঘ শুনানির পর ২০১৫ সালের ২৯ মে মামলা থেকে তাকে অব্যাহতি দেন উচ্চ আদালত।
পরবর্তীতে জব্দকৃত মালামাল ফেরত পাওয়ার জন্য সাবেক এই সংসদ সদস্যের পক্ষে বগুড়ার অতিরিক্ত দায়রা জজ-২ আদালতে আবেদন করা হয়। শুনানি শেষে চলতি বছরের ১১ মে আদালতের বিচারক গোলাম মাহফুজ জব্দকৃত মালামাল জিম্মায় দেওয়ার আদেশ দেন। পাশাপাশি হাইকোর্ট বিভাগ মামলাটি চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি করায় নিম্ন আদালতে মামলাটি নথিজাত করার নির্দেশ দেওয়া হয়।
আদালতের সেই আদেশের প্রেক্ষিতেই মঙ্গলবার বিকেলে মালামাল হস্তান্তর করা হয়। মালামাল গ্রহণ শেষে সাবেক এমপি লালুর ছেলে অ্যাডভোকেট সাহেদুজ্জামান সিরাজ বলেন, তৎকালীন বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেসন্স কোম্পানি লিমিটেড (বিটিসিএল) ও বিটিআরসির পূর্ণ অনুমোদন নিয়ে আমরা এসব বেতার যন্ত্র ব্যবহার করতাম। কিন্তু যৌথ বাহিনী সম্পূর্ণ বৈধ এসব সরঞ্জাম জব্দ করেছিল। দীর্ঘদিন আদালতের মালখানার খোলা জায়গায় ও মাটিতে পড়ে থাকায় এসব সরঞ্জাম এখন সম্পূর্ণ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। একেকটি ওয়াকিটকি ও টাওয়ারের মূল্য ছিল লাখ টাকার ওপরে। এগুলো এখন ঝাঁঝরা ও অকেজো। জব্দকৃত কিছু টাওয়ারের পাইপ এখনো তোলার কাজ চলছে।
তিনি আরও বলেন, সব মালামাল বুঝে পাওয়ার পর এই ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ চেয়ে আদালতের কাছে আবেদন করবেন তারা। এ ঘটনায় দুটি পৃথক মামলা হয়েছিল। একটির মালামাল ফেরত দেওয়া হলেও অপর মামলার সরঞ্জামাদি ফেরতের আইনি প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
এফএ/এএসএম
What's Your Reaction?

