২৫ বছরের কৃষি পরিকল্পনা ঠিক করেছে সরকার
২৫ বছরের কৃষি পরিকল্পনা ঠিক করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। এই পরিকল্পনার মূল উদ্দেশ্য হলো ২০৫০ সালের মধ্যে বাংলাদেশের কৃষি খাতকে একটি টেকসই, জলবায়ু সহনশীল, উদ্ভাবনভিত্তিক, বাজারমুখী এবং অধিক উৎপাদনশীল খাতে পরিণত করা। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) Transforming Bangladesh Agriculture: Outlook 2050 শীর্ষক National Validation Workshop রাজধানী ঢাকার হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে অনুষ্ঠিত হয়। কৃষি মন্ত্রণালয় এবং জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) যৌথভাবে এ কর্মশালাটি আয়োজন করে। বাংলাদেশে কৃষি খাতের দীর্ঘমেয়াদি রূপান্তরের লক্ষ্যে Transforming Bangladesh Agriculture: Outlook 2050 প্রণয়ন করা হয়েছে। এই পরিকল্পনার মূল উদ্দেশ্য হলো ২০৫০ সালের মধ্যে বাংলাদেশের কৃষি খাতকে একটি টেকসই, জলবায়ু সহনশীল, উদ্ভাবনভিত্তিক, বাজারমুখী এবং অধিক উৎপাদনশীল খাতে পরিণত করা। ২৫ বছরমেয়াদি দিকনির্দেশনামূলক এ পরিকল্পনাটি শুধু কৃষি খাতের উৎপাদন বৃদ্ধিতে সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি জাতির পুষ্টি নিরাপত্তা, খাদ্য নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে অভিযোজন, উদ্ভাবন ও লাগসই প্রযুক্তি গ্রহণ ও কৃষি শিল্পের অগ্রগতিতে সহায়ক হবে। জাতীয় ও আঞ্চলিক
২৫ বছরের কৃষি পরিকল্পনা ঠিক করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। এই পরিকল্পনার মূল উদ্দেশ্য হলো ২০৫০ সালের মধ্যে বাংলাদেশের কৃষি খাতকে একটি টেকসই, জলবায়ু সহনশীল, উদ্ভাবনভিত্তিক, বাজারমুখী এবং অধিক উৎপাদনশীল খাতে পরিণত করা।
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) Transforming Bangladesh Agriculture: Outlook 2050 শীর্ষক National Validation Workshop রাজধানী ঢাকার হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে অনুষ্ঠিত হয়। কৃষি মন্ত্রণালয় এবং জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) যৌথভাবে এ কর্মশালাটি আয়োজন করে।
বাংলাদেশে কৃষি খাতের দীর্ঘমেয়াদি রূপান্তরের লক্ষ্যে Transforming Bangladesh Agriculture: Outlook 2050 প্রণয়ন করা হয়েছে। এই পরিকল্পনার মূল উদ্দেশ্য হলো ২০৫০ সালের মধ্যে বাংলাদেশের কৃষি খাতকে একটি টেকসই, জলবায়ু সহনশীল, উদ্ভাবনভিত্তিক, বাজারমুখী এবং অধিক উৎপাদনশীল খাতে পরিণত করা। ২৫ বছরমেয়াদি দিকনির্দেশনামূলক এ পরিকল্পনাটি শুধু কৃষি খাতের উৎপাদন বৃদ্ধিতে সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি জাতির পুষ্টি নিরাপত্তা, খাদ্য নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে অভিযোজন, উদ্ভাবন ও লাগসই প্রযুক্তি গ্রহণ ও কৃষি শিল্পের অগ্রগতিতে সহায়ক হবে।
জাতীয় ও আঞ্চলিক পর্যায়ে মতবিনিময় ও অংশীদারিত্বমূলক প্রক্রিয়ায় এই Outlook 2050 প্রণয়ন করা হয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগ, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, নীতিনির্ধারক, গবেষক, শিক্ষাবিদ, পেশাজীবী সংগঠন, ব্যবসায়ী সংগঠন, কৃষি উদ্যোক্তা, সুশীল সমাজ, গণমাধ্যমকর্মী, কৃষক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা প্রতিনিধির সঙ্গে মতবিনিময়ের মাধ্যমে প্রণীত হয়েছে। স্থানীয় বিশেষজ্ঞদের সহায়তায় একাধিক কর্মশালা ও আলোচনা সভার মাধ্যমে বিভিন্ন অঞ্চল ও জাতীয় চাহিদা এবং চ্যালেঞ্জগুলোকে এটিতে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।
এই Outlook 2050 প্রণয়নে গৃহীত পদ্ধতির মধ্যে একটি সমন্বিত এবং বহুপক্ষীয় দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে। প্রাথমিকভাবে, ১৩টি থিম্যাটিক এরিয়ায় (পুষ্টি নিরাপত্তা, জলবায়ু সহনশীলতা, কৃষি মূল্য সংযোজন, কৃষি প্রযুক্তি, কৃষি শিক্ষা ও দক্ষতা বৃদ্ধি, কৃষি বাজার ব্যবস্থাপনা ইত্যাদি) ভাগ করে ব্যাকগ্রাউন্ড স্টাডি করা হয়েছে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) এবং UNDP এই সকল ব্যাকগ্রাউন্ড স্টাডিতে কারিগরি সহায়তা প্রদান করে। প্রতিটি থিমের জন্য বিস্তারিত কৌশল এবং লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
বাংলাদেশের কৃষির অগ্রগতিতে Outlook 2050 এর গুরুত্ব অপরিসীম। দীর্ঘমেয়াদি এই পরিকল্পনাটি কৃষি খাতকে এটি সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা প্রদান করবে। বাংলাদেশের বৃহত্তম কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী খাত কৃষি। এই পরিকল্পনার সফল বাস্তবায়ন দেশব্যাপী কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দারিদ্র্য হ্রাস এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতে সহায়ক হবে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় টেকসই কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তোলা, কৃষকদের জন্য নিরাপদ এবং লাভজনক বাজার সৃষ্টি, নতুন প্রযুক্তি ও আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতি গ্রহণ এ সব কিছুই এই Outlook 2050 এর অন্তর্ভুক্ত বিষয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কৃষি উপদেষ্টা লে. জে. (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীবলেন, এটি আমাদের জন্য একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত, আমরা আমাদের দেশের কৃষি খাতের ভবিষ্যৎ গঠনের জন্য এ পরিকল্পনাটি প্রণয়ন করছি। আগামী ২৫ বছরে বাংলাদেশের কৃষির রূপান্তর আমাদের জীবনের মানোন্নয়ন, খাদ্য নিরাপত্তা, এবং গ্রামীণ উন্নয়নে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তিনি আরও বলেন, এই পরিকল্পনার সফল বাস্তবায়ন শুধু কৃষি খাতের জন্য নয়; বরং দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক অগ্রগতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ হবে।
এ ছাড়া, সম্মানিত বিশেষ অতিথি ও বিশেষজ্ঞগণ Outlook 2050 এর বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন এবং কৃষির উন্নয়ন ও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় একত্রে কাজ করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।
এ কর্মশালার মাধ্যমে কৃষি খাতের ভবিষ্যত নিয়ে আরও মতামত গ্রহণের সুযোগ মিলবে, যা Transforming Bangladesh Agriculture: Outlook 2050 কে আরও সমৃদ্ধ করবে এবং তা বাংলাদেশকে একটি উন্নত, সমৃদ্ধ, এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক কৃষি ব্যবস্থার দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।
কর্মশালার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাননীয় উপদেষ্টা, কৃষি ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় লে. জে. (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ড. মো. মোস্তাফিজুর রহমান, সদস্য (সচিব), কৃষি, পানিসম্পদ ও পল্লী প্রতিষ্ঠান বিভাগ, পরিকল্পনা কমিশন, ড. মনজুর হোসেন, সদস্য (সচিব), সাধারণ অর্থনীতি বিভাগ, পরিকল্পনা কমিশন এবং ড. জিয়াকুন শি, জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) এর প্রতিনিধি। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোহাম্মদ এমদাদ উল্লাহ মিয়ান। ওয়ার্কশপে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কূটনীতিকবৃন্দ, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার সম্মানিত প্রতিনিধিগণ, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সরকারি সংস্থার কর্মকর্তাগণ, নীতিনির্ধারক, গবেষক, শিক্ষাবিদ, পেশাজীবী সংগঠনগুলোর প্রতিনিধি, ব্যবসায়ী সংগঠন, কৃষি উদ্যোক্তা, সুশীল সমাজের প্রতিনিধিগণ, গণমাধ্যমকর্মী এবং কৃষক প্রতিনিধি।
What's Your Reaction?