২৮ বছর পর পুরোনো ঐতিহ্যে ফিরল ব্রাজিল, নেপথ্যে যে কারণ

বিশ্বকাপের আগে মারাকানা স্টেডিয়ামে ব্রাজিল জাতীয় দলের বিদায়ী ম্যাচ—এক সময় এটা ছিল নিয়মিত দৃশ্য। ১৯৫৪ থেকে ১৯৯৮ সালের মধ্যে সাতবার বিশ্বকাপ অভিযানে যাওয়ার আগে দেশের সবচেয়ে ঐতিহ্যবাহী এই মাঠে সমর্থকদের সামনে শেষবারের মতো খেলেছিল সেলেসাওরা। এরপর কেটে গেছে ২৮ বছর। অবশেষে কার্লো আনচেলত্তির ইচ্ছায় সেই পুরোনো ঐতিহ্য ফিরছে আবার। রোববার দিবাগত রাত ৩টা ৩০ মিনিটে পানামার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে মাঠে নামবে ব্রাজিল। মারাকানায় এই ম্যাচ খেলেই যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে রওনা হবে দল। এবারের ব্রাজিল দলকে অনেকেই ‘রিওর দল’ বলছেন। ২৬ সদস্যের দলে রিও ডি জেনেইরো রাজ্যে জন্ম নেওয়া খেলোয়াড় মাত্র পাঁচজন। তবে দলের নয়জন ফুটবলারের সঙ্গে রিওর ক্লাব ফুটবলের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। কেউ বর্তমানে রিওর ক্লাবে খেলেছেন, আবার কেউ এখনো সেই ক্লাবগুলোর সমর্থকদের আবেগের বড় অংশ হয়ে আছেন। এই তালিকায় অন্যতম নাম রায়ান। বর্তমানে ইংল্যান্ডের বোর্নমাউথে খেললেও ভাস্কো দা গামার সমর্থকেরা এখনো তাঁকে নিজেদের সন্তান বলেই মনে করেন। মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই বোর্নমাউথের গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় হয়ে ওঠা এই তরুণ ফরোয়ার্ড বিশ্বকাপ দলে জায়গা করে নিয়েছেন দুর্

২৮ বছর পর পুরোনো ঐতিহ্যে ফিরল ব্রাজিল, নেপথ্যে যে কারণ

বিশ্বকাপের আগে মারাকানা স্টেডিয়ামে ব্রাজিল জাতীয় দলের বিদায়ী ম্যাচ—এক সময় এটা ছিল নিয়মিত দৃশ্য। ১৯৫৪ থেকে ১৯৯৮ সালের মধ্যে সাতবার বিশ্বকাপ অভিযানে যাওয়ার আগে দেশের সবচেয়ে ঐতিহ্যবাহী এই মাঠে সমর্থকদের সামনে শেষবারের মতো খেলেছিল সেলেসাওরা। এরপর কেটে গেছে ২৮ বছর। অবশেষে কার্লো আনচেলত্তির ইচ্ছায় সেই পুরোনো ঐতিহ্য ফিরছে আবার।

রোববার দিবাগত রাত ৩টা ৩০ মিনিটে পানামার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে মাঠে নামবে ব্রাজিল। মারাকানায় এই ম্যাচ খেলেই যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে রওনা হবে দল। এবারের ব্রাজিল দলকে অনেকেই ‘রিওর দল’ বলছেন। ২৬ সদস্যের দলে রিও ডি জেনেইরো রাজ্যে জন্ম নেওয়া খেলোয়াড় মাত্র পাঁচজন। তবে দলের নয়জন ফুটবলারের সঙ্গে রিওর ক্লাব ফুটবলের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। কেউ বর্তমানে রিওর ক্লাবে খেলেছেন, আবার কেউ এখনো সেই ক্লাবগুলোর সমর্থকদের আবেগের বড় অংশ হয়ে আছেন।

এই তালিকায় অন্যতম নাম রায়ান। বর্তমানে ইংল্যান্ডের বোর্নমাউথে খেললেও ভাস্কো দা গামার সমর্থকেরা এখনো তাঁকে নিজেদের সন্তান বলেই মনে করেন। মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই বোর্নমাউথের গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় হয়ে ওঠা এই তরুণ ফরোয়ার্ড বিশ্বকাপ দলে জায়গা করে নিয়েছেন দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের সুবাদে।

রিওর আবেগের সঙ্গে জড়িয়ে আছেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়রও। রিয়াল মাদ্রিদের এই তারকা এখনো ফ্লামেঙ্গোর প্রতি নিজের টান লুকান না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্লাবের সাফল্য উদ্‌যাপন থেকে শুরু করে সুযোগ পেলেই মারাকানায় হাজির হওয়া—সবকিছুতেই ফুটে ওঠে সেই সম্পর্ক।

ভিনি, রায়ান, ওয়েসলি ও লুইজ হেনরিকের মতো ফুটবলারদের ঘিরে মারাকানার দর্শকদের উচ্ছ্বাস থাকবেই। একইভাবে বোটাফোগো সমর্থকেরা দানিলো সান্তোসকে এবং ফ্লামেঙ্গো সমর্থকেরা দানিলো লুইজ, লেও পেরেইরা, আলেক্স সান্দ্রো ও লুকাস পাকেতাকে নিজেদের প্রতিনিধি হিসেবে দেখবেন।

মারাকানায় বিদায়ী ম্যাচের ঐতিহ্য বন্ধ হওয়ার পেছনে রয়েছে এক তিক্ত স্মৃতি। ১৯৯৮ বিশ্বকাপের আগে আর্জেন্টিনার কাছে ১-০ গোলে হেরেছিল ব্রাজিল। সেই ম্যাচে প্রতিপক্ষের পাসিং ফুটবলে গ্যালারি থেকে উঠেছিল ‘ওলে’ ধ্বনি, এমনকি ব্রাজিলকে ‘ছোট দল’ বলেও বিদ্রূপ করা হয়েছিল। সেই অভিজ্ঞতার পর আর আয়োজন করা হয়নি বিদায়ী ম্যাচ।

এবার প্রেক্ষাপট ভিন্ন। জাতীয় দলের সঙ্গে সমর্থকদের আবেগের সংযোগ আরও দৃঢ় করতেই গত বছর এই ম্যাচ আয়োজনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়। শুরুতে এটি সূচিতে ছিল না। এমনকি ম্যাচটি হওয়ার কথা ছিল পোর্তো আলেগ্রেতে। কিন্তু মারাকানার পরিবেশে মুগ্ধ হয়ে সেটিকে রিওতে নেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন আনচেলত্তি।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow