৩০ দফা নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা ইসলামী আন্দোলনের
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ৩০ দফা ইশতেহার ঘোষণা করেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৩টায় রাজধানীর পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ ইশতেহার ঘোষণা করেন দলটির আমির মুফতি সৈয়দ মোহাম্মদ রেজাউল করীম (চরমোনাই পীর)। ইশতেহারটির নামকরণ করা হয়েছে ‘জনপ্রত্যাশার ইশতেহার’। মুফতি রেজাউল করীম বলেন, ‘ইশতেহারের নামকরণ করা হয়েছে ‘জনপ্রত্যাশার ইশতেহার’। কারণ মহান স্বাধীনতার যুদ্ধ এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মধ্যে দিয়ে যে জনপ্রত্যাশার উম্মেষ ঘটেছে, তা রাষ্ট্র পরিচালনায় প্রতিফলিত করার অঙ্গিকার নিয়েই আমাদের এই ইশতেহার।’ ৩০ দফার এই ইশতেহারকে ৩টি অধ্যায়ে উপস্থাপন করেছে ইসলামী আন্দোলন। সেগুলো হলো, রাষ্ট্র গঠনে দলের নীতিগত অবস্থান, রাষ্ট্র সংস্কারে দলের পরিকল্পনা এবং খাতভিত্তিক উন্নয়ন পরিকল্পনা। ইশতেহারের মৌলিক অংশগুলো কালবেলার পাঠকদের জন্য শিরোনাম আকারে তুলে ধরা হলো। ১. দেশের স্থায়ী শান্তি ও মানবতার সার্বিক মুক্তির লক্ষ্যে রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তন। ২. দুর্নীতি, দুঃশাসন, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, দখলবাজি, মাদকমুক্ত কল্যাণরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা। ৩. সাম্য, মান
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ৩০ দফা ইশতেহার ঘোষণা করেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৩টায় রাজধানীর পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ ইশতেহার ঘোষণা করেন দলটির আমির মুফতি সৈয়দ মোহাম্মদ রেজাউল করীম (চরমোনাই পীর)।
ইশতেহারটির নামকরণ করা হয়েছে ‘জনপ্রত্যাশার ইশতেহার’। মুফতি রেজাউল করীম বলেন, ‘ইশতেহারের নামকরণ করা হয়েছে ‘জনপ্রত্যাশার ইশতেহার’। কারণ মহান স্বাধীনতার যুদ্ধ এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মধ্যে দিয়ে যে জনপ্রত্যাশার উম্মেষ ঘটেছে, তা রাষ্ট্র পরিচালনায় প্রতিফলিত করার অঙ্গিকার নিয়েই আমাদের এই ইশতেহার।’
৩০ দফার এই ইশতেহারকে ৩টি অধ্যায়ে উপস্থাপন করেছে ইসলামী আন্দোলন। সেগুলো হলো, রাষ্ট্র গঠনে দলের নীতিগত অবস্থান, রাষ্ট্র সংস্কারে দলের পরিকল্পনা এবং খাতভিত্তিক উন্নয়ন পরিকল্পনা।
ইশতেহারের মৌলিক অংশগুলো কালবেলার পাঠকদের জন্য শিরোনাম আকারে তুলে ধরা হলো।
১. দেশের স্থায়ী শান্তি ও মানবতার সার্বিক মুক্তির লক্ষ্যে রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তন।
২. দুর্নীতি, দুঃশাসন, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, দখলবাজি, মাদকমুক্ত কল্যাণরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা।
৩. সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সুশাসন ও ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা।
৪. রাষ্ট্রপরিচালনায় সর্বত্র শরিয়াহ’র প্রধান্য।
৫. কৃষি ও শিল্পবিপ্লব ঘটিয়ে বেকার ও দারিদ্র্যমুক্ত এবং অর্থনৈতিক সমৃদ্ধশালী দেশ গঠন।
৬. নৈতিকতায় সমৃদ্ধ কর্মমুখী, বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থা।
৭. সার্বজনীন কর্মসংস্থান।
৮. পর্যায়ক্রমিক রাষ্ট্রসংস্কার।
৯. মহান মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রত্যাশার প্রতি দায়বদ্ধতা।
১০. আর্থিক, সামরিক ও কূটনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধি।
১১. নারী, শ্রমিক ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকারসহ সকল জনগোষ্ঠীর মৌলিক ও মানবাধিকারের সুরক্ষা।
১২. রাষ্ট্র-সমাজ ও অর্থনীতিতে বৈষম্য বিলোপ।
১৩. সকলের জন্য সাশ্রয়ী ও উন্নত স্বাস্থ্যব্যবস্থা।
১৪. পরিবেশ দূষণ রোধ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও জলবায়ু অভিঘাত মোকাবিলায় গুরুত্ব।
১৫. ধর্মীয় স্বাধীনতা, নিরাপত্তা ও পারস্পরিক সহাবস্থান।
১৬. শুধু দুর্নীতি-সন্ত্রাস দমন নয়; নির্মূলকরণ কর্মসূচিও গ্রহণ করা হবে।
১৭. শুধু আইনের শাসন নয়; ন্যায়ের শাসন প্রতিষ্ঠা।
১৮. জনমতের যথার্থ প্রতিফলন, সুষ্ঠু নির্বাচন ও কার্যকর সংসদ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে PR (Proportional Repesentation)পদ্ধতি বাস্তবায়ন।
১৯. মানুষের সার্বিক কল্যাণ প্রতিষ্ঠায় ধর্ম ও রাজনীতির সমন্বয় করা।
২০. দুর্নীতি, সন্ত্রাস, খুন ও অনৈতিক পেশার সাথে জড়িতদের রাজনীতিতে নিষিদ্ধকরণ।
২১. খুন, গুম, মিথ্যা, গায়েবি মামলা, জুলুম, নির্যাতন ও দুঃশাসনের বিলোপ।
২২. জনগণের বাক-স্বাধীনতা এবং গণমাধ্যমের নিরাপত্তা ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করা।
২৩. নারীদের শুধু সমঅধিকার নয়; অগ্রাধিকার প্রতিষ্ঠা করা হবে।
২৪. শিল্পোদ্যোক্তাদের ঋণ প্রদান, গ্যাস, বিদুৎ, পানি, স্যুয়ারেজ, আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে ওয়ানস্টপ সার্ভিস কর্মসূচি গ্রহণ।
২৫. সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে জাতীয়করণ করা।
২৬. কওমি মাদরাসায় ডিগ্রিধারীসহ দক্ষ ও যোগ্য ওলামায়ে কিরামকে সরকারি সুযোগের আওতাভূক্ত করা।
২৭. সড়ককে নিরাপদ করার জন্য প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
২৮. বাংলাদেশকে ১৫ বছরের মধ্যে উন্নত ও কল্যাণরাষ্ট্রে পরিণত করা।
২৯. শ্রমের মর্যাদা ও শ্রমিকের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা।
৩০. দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধকল্পে সকল সিন্ডিকেট ভেঙ্গে দেয়া।
What's Your Reaction?