৩ বছর সময় দিন, রেল-সড়ক যোগাযোগে বড় পরিবর্তন দেখবেন
সড়ক পরিবহন ও সেতু, নৌপরিবহন এবং রেলপথ মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেছেন, রেল ও সড়ক যোগাযোগ খাতে ব্যাপক উন্নয়ন পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য অন্তত ৩ বছর সময় দিলে দৃশ্যমান পরিবর্তন দেখতে পাবে দেশবাসী। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সচিবালয়ের গণমাধ্যম কেন্দ্রে বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরাম (বিএসআরএফ) আয়োজিত ‘বিএসআরএফ সংলাপ’-এ তিনি এসব কথা বলেন। ভাঙ্গা-বরিশাল মহাসড়ক প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, সড়কটি ফোর লেন করার জন্য জমি অধিগ্রহণ কার্যক্রম চলমান। তবে এখনও অধিগ্রহণ শেষ হয়নি। তিনি বলেন, \'বড় অবকাঠামো করতে গিয়ে আমাদের সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধকতা হচ্ছে জমি অধিগ্রহণ। তিন বছর, চার বছরও জমি অধিগ্রহণ শেষ করা যায় না। কীভাবে দ্রুততম সময়ের মধ্যে জমিটা অধিগ্রহণ করা যায়, ডিপিপি অনুমোদন করা যায়, ডিটেইল ডিজাইন চূড়ান্ত করা যায়, অল্প সময়ের মধ্যে সেই জায়গায় আমরা কাজ করছি।\' মন্ত্রী জানান, ভাঙ্গা থেকে ২৮ কিলোমিটার অংশ ইতোমধ্যে ফোর লেন ও দুই সার্ভিস লেনসহ ছয় লেনে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে। তিনি বলেন, বাকি যেখানে আছে, সেখানে স্ট্যান্ডার্ড টু লেন নেই। এখন দুই পাশে ছয় ফুট করে এক্সটেনশ
সড়ক পরিবহন ও সেতু, নৌপরিবহন এবং রেলপথ মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেছেন, রেল ও সড়ক যোগাযোগ খাতে ব্যাপক উন্নয়ন পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য অন্তত ৩ বছর সময় দিলে দৃশ্যমান পরিবর্তন দেখতে পাবে দেশবাসী।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সচিবালয়ের গণমাধ্যম কেন্দ্রে বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরাম (বিএসআরএফ) আয়োজিত ‘বিএসআরএফ সংলাপ’-এ তিনি এসব কথা বলেন।
ভাঙ্গা-বরিশাল মহাসড়ক প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, সড়কটি ফোর লেন করার জন্য জমি অধিগ্রহণ কার্যক্রম চলমান। তবে এখনও অধিগ্রহণ শেষ হয়নি।
তিনি বলেন, 'বড় অবকাঠামো করতে গিয়ে আমাদের সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধকতা হচ্ছে জমি অধিগ্রহণ। তিন বছর, চার বছরও জমি অধিগ্রহণ শেষ করা যায় না। কীভাবে দ্রুততম সময়ের মধ্যে জমিটা অধিগ্রহণ করা যায়, ডিপিপি অনুমোদন করা যায়, ডিটেইল ডিজাইন চূড়ান্ত করা যায়, অল্প সময়ের মধ্যে সেই জায়গায় আমরা কাজ করছি।'
মন্ত্রী জানান, ভাঙ্গা থেকে ২৮ কিলোমিটার অংশ ইতোমধ্যে ফোর লেন ও দুই সার্ভিস লেনসহ ছয় লেনে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে।
তিনি বলেন, বাকি যেখানে আছে, সেখানে স্ট্যান্ডার্ড টু লেন নেই। এখন দুই পাশে ছয় ফুট করে এক্সটেনশন দিয়ে রাস্তা ওয়াইডেন করা হচ্ছে। এই কাজ শেষ হলে টু লেন রাস্তা দিয়েও মানুষ নিরাপদে একটি স্ট্যান্ডার্ড গতিতে ভাঙ্গা থেকে বরিশাল পর্যন্ত যেতে পারবে।
তার ভাষ্য, প্রায় ৩০ কিলোমিটার অংশের কাজ বাকি রয়েছে। আপাতত স্ট্যান্ডার্ড টু লেনের কাজ সম্পন্ন করা গেলে ভাঙ্গা-বরিশাল রুটে যাত্রীদের দুর্ভোগ অনেকটাই কমবে।
রেলের টিকিট বিক্রি নিয়ে মন্ত্রী বলেন, অনলাইন টিকিটিংয়ে স্বচ্ছতা থাকলেও দেশের সব মানুষ এখনও অনলাইনে টিকিট কাটতে অভ্যস্ত নয়।
তিনি বলেন, 'এক শ্রেণির যাত্রীদের দাবি ৫০ শতাংশ অনলাইনে দেন আর ৫০ শতাংশ ম্যানুয়ালি স্টেশনে দেন। আমাদের দেশের সব মানুষ কিন্তু অনলাইনে হ্যাবিচুয়াল না। অনেক মানুষ আছেন, যাদের সামর্থ্য আছে, ভালো সার্ভিস চান, কিন্তু অনলাইনে টিকিট কাটার পুরো প্রক্রিয়া জানেন না বা উৎসাহী না।'
মন্ত্রী বলেন, স্টেশনে গিয়ে টিকিট কিনতে চান এমন যাত্রীদের চাহিদাও বিবেচনায় নিতে হয়। তবে ম্যানুয়াল টিকিট সংরক্ষণ করতে গেলেই নানা ধরনের সমালোচনা তৈরি হয়।
তিনি বলেন, এখন যদি আমি ম্যানুয়ালি কিছু টিকিট রিজার্ভ করতে চাই, বলবে কালোবাজারি করার জন্য মন্ত্রী নিজের লোকজনের জন্য করছে। অনলাইনে স্বচ্ছতার সঙ্গে হয়, এতে কোনো সন্দেহ নেই।
মেট্রোরেলের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, অনলাইন ও কাউন্টারভিত্তিক উভয় ধরনের সেবা একসঙ্গে চালুর বিষয়টি বিবেচনার সুযোগ রয়েছে। থাইল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশেও কাউন্টার থেকে টিকিট কেনার সুযোগ রয়েছে।
মন্ত্রী আরও জানান, সম্প্রতি ভূমিমন্ত্রীও রাজশাহীর জন্য স্টেশনভিত্তিক টিকিটের সংখ্যা বাড়ানোর অনুরোধ জানিয়েছেন, কারণ অনেক যাত্রী অনলাইনে টিকিট সংগ্রহ করতে না পেরে ভোগান্তিতে পড়ছেন।
তিনি বলেন, 'আমরা যখন একটা অবস্থান থেকে একটা উন্নত অবস্থানে যেতে চাই, তখন কিছু জটিলতা হয়। ধীরে ধীরে মানুষ অ্যাডজাস্ট করে নেয়। যেহেতু আমরা ই-বেজড সিস্টেমে চলে যাচ্ছি, তাই এই পরিবর্তনের সময় কিছু সমস্যা আসবেই। আমার মনে হয় সেটার সমাধান হবে।'
ডিসেম্বরের মধ্যে আসছে ১৫০ বগি
রেলের সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, জুলাই থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে প্রায় ১৫০টি নতুন বগি পাওয়ার আশা করছে সরকার।
তিনি বলেন, 'এটা যদি আসে, আমরা বেশ কিছু ট্রেনের বগির মান এবং ট্রেনের সংখ্যা বৃদ্ধি করতে সক্ষম হব।'
তবে বর্তমানে একটি কারিগরি সমস্যার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। মিটারগেজ বগি আসলেও অনেক ক্ষেত্রে লোকোমোটিভ রয়েছে ব্রডগেজের।
মন্ত্রী বলেন, এ সমস্যা সমাধানে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) সহায়তায় আরও ব্রডগেজ কোচ আনার চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে ৬০ থেকে ৭০টি মিটারগেজ লোকোমোটিভ সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তার মতে, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা গেলে দেশের রেল যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে।
রাজধানী ও আশপাশের জেলার যাতায়াত সহজ করতে কমিউটার ট্রেন সেবা সম্প্রসারণের পরিকল্পনার কথাও জানান মন্ত্রী।
তিনি বলেন, ঢাকা-ময়মনসিংহ, টঙ্গী-জয়দেবপুর, ঢাকা-নরসিংদী, ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ এবং ঢাকা-ভাঙ্গা রুটে কমিউটার ট্রেনের ব্যাপক সম্প্রসারণ করা হবে। পাশাপাশি মানিকগঞ্জকেও রেল নেটওয়ার্কের আওতায় আনার উদ্যোগ রয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা এমন কোচ আনতে চাই, যেগুলো হবে মেট্রোরেলের কোচের মতো। মানুষ ৪০ মিনিট বা এক ঘণ্টা দাঁড়িয়ে যাতায়াত করতে পারবে। কিছু মানুষ বসবে, অধিক মানুষ দাঁড়িয়ে থাকবে। এতে বেশি যাত্রী বহন করা সম্ভব হবে।’
তিনি বলেন, নরসিংদী বা ভাঙ্গা থেকে সকালে ঢাকায় এসে অফিস করে আবার একই দিনে বাড়ি ফেরা সম্ভব হবে। এতে সড়কের ওপর চাপ কমবে এবং যানজটও হ্রাস পাবে।
নিজের মন্ত্রণালয়ের প্রকল্প বাস্তবায়ন প্রসঙ্গে শেখ রবিউল আলম বলেন, একনেক, ক্রয়সংক্রান্ত কমিটি ও অন্যান্য অনুমোদনকারী সংস্থা থেকে তিনি একের পর এক প্রকল্পের অনুমোদন পেয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘এ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী একটি প্রকল্পও বলেননি যে, এটা দেওয়া হবে না বা পরে দেওয়া হবে। উনি সবই দিয়েছেন। আর বাস্তবায়ন করার জন্য আমাকে একটু সময় দেন।’
আরএমএম/জেএইচ
What's Your Reaction?