৪ রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে জমা বাড়লেও চ্যালেঞ্জ ছুড়েছে খেলাপি ঋণ
রাষ্ট্রায়ত্ত ৪ ব্যাংকে আমানত ও রেমিট্যান্স আয় বাড়লেও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে খেলাপি ঋণ। বিপুল অঙ্কের মন্দ ঋণের চাপ সামাল দিয়েই ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে সোনালী, অগ্রণী, জনতা ও রূপালী ব্যাংক। ব্যাংকাররা বলছেন, সুশাসন ও কার্যকর ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে এই অগ্রগতি টেকসই হবে। তবে অর্থনীতিবিদদের মতে, রাজনৈতিক সদিচ্ছা ছাড়া বড় খেলাপিদের কাছ থেকে অর্থ উদ্ধার সম্ভব নয়।
ব্যাংক সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০২৫ সালে চার রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে মোট আমানত বেড়েছে ৫০ হাজার ৪৩০ কোটি টাকা। একই সময়ে নগদ অর্থ আদায় (ক্যাশ রিকভারি) হয়েছে ৪ হাজার ২৫৫ কোটি টাকা এবং রেমিট্যান্স এসেছে প্রায় ৬৫ হাজার কোটি টাকা। এতে গ্রাহকদের আস্থা কিছুটা ফিরেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
তবে দীর্ঘদিনের অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার কারণে সৃষ্ট খেলাপি ঋণ এখনো বড় বোঝা হয়ে আছে। রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার ভেতর দিয়েই ঋণের নামে বিপুল অর্থ আত্মসাতের ঘটনা আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। এরপর নবগঠিত পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনার উদ্যোগে ব্যাংকগুলো ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা শুরু করে।
তথ্য অনুযায়ী, সোনালী ব্যাংকের আমানত বেড়েছে ১৪ হাজার ৮৫৮ কোটি টাক
রাষ্ট্রায়ত্ত ৪ ব্যাংকে আমানত ও রেমিট্যান্স আয় বাড়লেও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে খেলাপি ঋণ। বিপুল অঙ্কের মন্দ ঋণের চাপ সামাল দিয়েই ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে সোনালী, অগ্রণী, জনতা ও রূপালী ব্যাংক। ব্যাংকাররা বলছেন, সুশাসন ও কার্যকর ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে এই অগ্রগতি টেকসই হবে। তবে অর্থনীতিবিদদের মতে, রাজনৈতিক সদিচ্ছা ছাড়া বড় খেলাপিদের কাছ থেকে অর্থ উদ্ধার সম্ভব নয়।
ব্যাংক সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০২৫ সালে চার রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে মোট আমানত বেড়েছে ৫০ হাজার ৪৩০ কোটি টাকা। একই সময়ে নগদ অর্থ আদায় (ক্যাশ রিকভারি) হয়েছে ৪ হাজার ২৫৫ কোটি টাকা এবং রেমিট্যান্স এসেছে প্রায় ৬৫ হাজার কোটি টাকা। এতে গ্রাহকদের আস্থা কিছুটা ফিরেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
তবে দীর্ঘদিনের অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার কারণে সৃষ্ট খেলাপি ঋণ এখনো বড় বোঝা হয়ে আছে। রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার ভেতর দিয়েই ঋণের নামে বিপুল অর্থ আত্মসাতের ঘটনা আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। এরপর নবগঠিত পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনার উদ্যোগে ব্যাংকগুলো ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা শুরু করে।
তথ্য অনুযায়ী, সোনালী ব্যাংকের আমানত বেড়েছে ১৪ হাজার ৮৫৮ কোটি টাকা। দুই হাজার কোটি টাকা কমে খেলাপি ঋণ নেমে এসেছে ১৬ হাজার ২৫০ কোটি টাকায়। এ সময়ে ব্যাংকটি থেকে নগদ আদায় হয়েছে ১ হাজার ২০৩ কোটি এবং রেমিট্যান্স এসেছে ১ হাজার ৮৪২ কোটি টাকা।
এক বছরে অগ্রণী ব্যাংকের আমানত বেড়েছে ১৩ হাজার ৮৩৬ কোটি টাকা। ব্যাংকটির শ্রেণিকৃত ঋণের হার ২ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৩৮ দশমিক ৬৫ শতাংশে। নগদ আদায় হয়েছে ১ হাজার ৩৭ কোটি টাকা। চার ব্যাংকের মধ্যে সর্বোচ্চ ৩৩ হাজার ৯৬১ কোটি টাকা রেমিট্যান্স এসেছে এই ব্যাংকের মাধ্যমে।
জনতা ব্যাংক ২০২৫ সালে সর্বোচ্চ আমানত সংগ্রহ করেছে। ব্যাংকটির আমানত বেড়েছে ১৫ হাজার ৭৪০ কোটি টাকা। পুনঃতফসিল করা হয়েছে ৪ হাজার ৮০০ কোটি টাকা এবং নগদ আদায় হয়েছে ৯১৫ কোটি টাকা। এ ছাড়া প্রবাসী আয় এসেছে ২৭ হাজার ৫৫৫ কোটি ৯০ লাখ টাকা।
রূপালী ব্যাংকের আমানত বেড়েছে ৬ হাজার কোটি টাকা। খেলাপি ঋণ ৬ শতাংশ কমে বর্তমানে মোট ঋণের ৩৬ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। ব্যাংকটির মাধ্যমে রেমিট্যান্স এসেছে ১ হাজার ৪৭৬ কোটি টাকা।
সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শওকত আলী বলেন, খেলাপি ঋণ আদায়ের হার বাড়ায় আগামী মার্চের মধ্যে মন্দ ঋণের পরিমাণ আশানুরূপ পর্যায়ে নেমে আসবে বলে তারা আশাবাদী।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাংকিং ও ইনস্যুরেন্স বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. শহীদুল জাহীদ বলেন, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর সবচেয়ে বড় সমস্যা বড় অঙ্কের খেলাপি ঋণ। রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী খেলাপিদের কাছ থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা উদ্ধার রাজনৈতিক সরকারের সক্রিয় সহযোগিতা ছাড়া সম্ভব নয়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ও সামাজিক দায়িত্ব রয়েছে। দেশের যেকোনো সংকটে এসব প্রতিষ্ঠান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই বৃহত্তর স্বার্থে আর্থিক খাতে নিরাপত্তা নিশ্চিতের পাশাপাশি ব্যাংক পরিচালনায় স্বচ্ছতা ও স্বাধীনতা বজায় রাখা জরুরি।