৪-২-৩-১, ৪-৩-৩ নাকি ৪-৪-২? এবারের বিশ্বকাপে বাজিমাত করছে কোন ফর্মেশন
৪-৪-২, ৪-২-৩-১, ৪-৩-৩ কিংবা ৫-৩-২—ফুটবলের ধারাভাষ্যে এই সংখ্যাগুলো প্রায়ই শোনা যায়। অনেকের কাছে এগুলো ধাঁধা। যদিও জটিল কিছু নয়। সহজ বাংলায়, গোলরক্ষক বাদ দিয়ে মাঠের ১০ ফুটবলারকে কোন ছকে সাজানো হচ্ছে, সেটাই বোঝায় এই বিন্যাস। বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে এমন ফর্মেশন অনেক সময় ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয়। কোচেরা সাধারণত নিজেদের পছন্দের ফর্মেশন নিয়ে মাঠে নামলেও প্রতিপক্ষ, ম্যাচের পরিস্থিতি কিংবা নির্দিষ্ট কোনও ফুটবলারের সামর্থ্য মাথায় রেখে পরিকল্পনা বদলে ফেলেন। অনেক দল এক ছকে ম্যাচ শুরু করেন, শেষ করেন অন্য ছকে। সবচেয়ে জনপ্রিয় দুই ছক গ্রুপ পর্বের প্রথম ২৪ ম্যাচে সবচেয়ে বেশি ব্যবহার হয়েছে ৪-৪-২ ফর্মেশন। ৪৮টি দলের মধ্যে ১২টি দল এই সিস্টেমে খেলেছে। চার ডিফেন্ডার, চার মিডফিল্ডার ও দুই ফরোয়ার্ডের এই ঐতিহ্যবাহী ফর্মুলা ভারসাম্যের জন্য পরিচিত। তবে সাফল্যের নিরিখে খুব একটা এগিয়ে নেই। মাত্র দু’টি জয় এসেছে এই ছকে—স্কটল্যান্ডের হাইতির বিপক্ষে এবং ইকুয়েডরকে হারিয়েছে আইভরি কোস্ট। অন্যদিকে আধুনিক ফুটবলের সবচেয়ে জনপ্রিয় ফর্মেশন ৪-২-৩-১ ব্যবহার করেছে ১০টি দল। এখানে দুই রক্ষণাত্মক মিডফি
৪-৪-২, ৪-২-৩-১, ৪-৩-৩ কিংবা ৫-৩-২—ফুটবলের ধারাভাষ্যে এই সংখ্যাগুলো প্রায়ই শোনা যায়। অনেকের কাছে এগুলো ধাঁধা। যদিও জটিল কিছু নয়। সহজ বাংলায়, গোলরক্ষক বাদ দিয়ে মাঠের ১০ ফুটবলারকে কোন ছকে সাজানো হচ্ছে, সেটাই বোঝায় এই বিন্যাস। বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে এমন ফর্মেশন অনেক সময় ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয়। কোচেরা সাধারণত নিজেদের পছন্দের ফর্মেশন নিয়ে মাঠে নামলেও প্রতিপক্ষ, ম্যাচের পরিস্থিতি কিংবা নির্দিষ্ট কোনও ফুটবলারের সামর্থ্য মাথায় রেখে পরিকল্পনা বদলে ফেলেন। অনেক দল এক ছকে ম্যাচ শুরু করেন, শেষ করেন অন্য ছকে।
সবচেয়ে জনপ্রিয় দুই ছক
গ্রুপ পর্বের প্রথম ২৪ ম্যাচে সবচেয়ে বেশি ব্যবহার হয়েছে ৪-৪-২ ফর্মেশন। ৪৮টি দলের মধ্যে ১২টি দল এই সিস্টেমে খেলেছে। চার ডিফেন্ডার, চার মিডফিল্ডার ও দুই ফরোয়ার্ডের এই ঐতিহ্যবাহী ফর্মুলা ভারসাম্যের জন্য পরিচিত। তবে সাফল্যের নিরিখে খুব একটা এগিয়ে নেই। মাত্র দু’টি জয় এসেছে এই ছকে—স্কটল্যান্ডের হাইতির বিপক্ষে এবং ইকুয়েডরকে হারিয়েছে আইভরি কোস্ট।
অন্যদিকে আধুনিক ফুটবলের সবচেয়ে জনপ্রিয় ফর্মেশন ৪-২-৩-১ ব্যবহার করেছে ১০টি দল। এখানে দুই রক্ষণাত্মক মিডফিল্ডার ডিফেন্সকে সুরক্ষা দেন, তাদের সামনে তিন আক্রমণভাগের ফুটবলার একমাত্র স্ট্রাইকারকে সাহায্য করেন। এই ছকে জিতেছে আমেরিকা, ইংল্যান্ড, ফ্রান্স ও অস্ট্রিয়া।
আক্রমণাত্মক ফুটবলে এগিয়ে ৪-১-২-৩
বিশ্বকাপের প্রথম পর্বে সবচেয়ে সফল ফর্মেশনগুলোর একটি ৪-১-২-৩। চার ডিফেন্ডার, এক রক্ষণাত্মক মিডফিল্ডার, দুই মিডফিল্ডার এবং তিন ফরোয়ার্ড নিয়ে গড়া এই ছকে খেলেছে আটটি দল। মেক্সিকো, নরওয়ে, ঘানা এবং কলম্বিয়া নিজেদের প্রথম ম্যাচ জিতেছে এই ফর্মেশন ব্যবহার করে। একমাত্র রক্ষণাত্মক মিডফিল্ডার থাকায় আক্রমণে বাড়তি ফুটবলার পাওয়া যায়। দুই উইঙ্গার ও একজন সেন্টার ফরোয়ার্ডকে ঘিরে তৈরি হয় দ্রুত উপরে ওঠার সুযোগ। বিশ্বকাপের অন্যতম দাবিদার স্পেন ও নেদারল্যান্ডসও এই ছক বেছে নিয়েছে।
পুরনো ছক, নতুন ভাবনা
লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা খেলছে ৪-৩-৩ ফর্মেশনে। আলজেরিয়ার বিপক্ষে ৩-০ জয়ে মেসির হ্যাটট্রিকের পিছনেও ছিল এই পরিচিত ছকের কার্যকারিতা। তিন মিডফিল্ডার সামনে দুই প্রান্তের আক্রমণভাগের ফুটবলার ও স্ট্রাইকারকে বল জোগান দেন। ১৯৭০ সালের পেলের ব্রাজিল এই ফর্মেশন কাজে লাগায়। আর্জেন্টিনা ২০২২ বিশ্বকাপও জিতেছিল একই ছকে।
অন্যদিকে ৫-৩-২ ফর্মেশন ব্যবহার করে এখনও কোনও দল জিততে পারেনি। তবে পর্তুগালের বিপক্ষে ১-১ ড্র করে চমক দেখিয়েছে কঙ্গো। চেক প্রজাতন্ত্র একমাত্র দল হিসেবে খেলেছে ৫-২-৩ ছকে। অস্ট্রেলিয়া ৫-৪-১ ফর্মেশন ব্যবহার করে তুরস্ককে ঘোল খাইয়েছে।
৩-৪-১-২ ফর্মেশনে তিউনিসিয়াকে ৫-১ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে সুইডেন। জার্মানি ও দক্ষিণ কোরিয়া খেলেছে ৩-৪-৩ ছকে। জার্মানি এই বিন্যাসেই এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ সাত গোল করেছে।
What's Your Reaction?