৫০০ টাকার কাছে হার মানল জীবন

কিশোরগঞ্জে মাত্র ৫০০ টাকার জন্য অ্যাম্বুলেন্স না পাওয়ায় চিকিৎসার অভাবে এক নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেটের কারণে এমন মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। হৃদয়বিদারক এ ঘটনায় ক্ষোভে ফেটে পড়েছে স্বজনরা। শুক্রবার (২৭ মার্চ) গভীর রাতে শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ঘটে এ ঘটনা। শনিবার (২৮ মার্চ) সকাল থেকে নবজাতকের মৃত্যুর খবরে হাসপাতালে ভিড় করেন স্বজনরা। নবজাতক কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার যশোদল ইউনিয়নের মীরপাড়া গ্রামের মো. রোহানের ছেলে। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার রাত ১১টার দিকে একটি বেসরকারি ক্লিনিকে সিজারের মাধ্যমে শিশুটির জন্ম হয়। জন্মের পরপরই সে শ্বাসকষ্টে ভুগতে শুরু করলে জরুরি ভিত্তিতে তাকে শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। রাত সাড়ে ১২টার দিকে হাসপাতালে ভর্তি করার পর অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকরা উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহে রেফার করেন। কিন্তু সেখানেই শুরু হয় দুর্ভোগ। হাসপাতালের গেটে গিয়ে সরকারি অ্যাম্বুলেন্স না পেয়ে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স খোঁজেন স্বজনরা। চালকরা ময়মনসিংহ যাওয়ার জন্য ভাড়া দাবি করেন সাড়ে ৪ হাজার টাকা। স্বজনর

৫০০ টাকার কাছে হার মানল জীবন

কিশোরগঞ্জে মাত্র ৫০০ টাকার জন্য অ্যাম্বুলেন্স না পাওয়ায় চিকিৎসার অভাবে এক নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেটের কারণে এমন মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। হৃদয়বিদারক এ ঘটনায় ক্ষোভে ফেটে পড়েছে স্বজনরা।

শুক্রবার (২৭ মার্চ) গভীর রাতে শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ঘটে এ ঘটনা। শনিবার (২৮ মার্চ) সকাল থেকে নবজাতকের মৃত্যুর খবরে হাসপাতালে ভিড় করেন স্বজনরা। নবজাতক কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার যশোদল ইউনিয়নের মীরপাড়া গ্রামের মো. রোহানের ছেলে।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার রাত ১১টার দিকে একটি বেসরকারি ক্লিনিকে সিজারের মাধ্যমে শিশুটির জন্ম হয়। জন্মের পরপরই সে শ্বাসকষ্টে ভুগতে শুরু করলে জরুরি ভিত্তিতে তাকে শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। রাত সাড়ে ১২টার দিকে হাসপাতালে ভর্তি করার পর অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকরা উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহে রেফার করেন। কিন্তু সেখানেই শুরু হয় দুর্ভোগ। হাসপাতালের গেটে গিয়ে সরকারি অ্যাম্বুলেন্স না পেয়ে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স খোঁজেন স্বজনরা। চালকরা ময়মনসিংহ যাওয়ার জন্য ভাড়া দাবি করেন সাড়ে ৪ হাজার টাকা।

স্বজনরা জানান, সরকারি ভাড়া ১ হাজার ৬০০ টাকা হলেও তারা প্রথমে ৩ হাজার ৫০০ এবং পরে ৪ হাজার টাকা দিতে রাজি হন। তবুও চালকরা অনড় থাকেন। সিন্ডিকেটের কারণে অন্য কোনো গাড়িকেও রোগী নিতে দেওয়া হয়নি। এই দরকষাকষির মধ্যেই রাত ৩টার দিকে নবজাতকটি মারা যায়। ঘটনার পর অভিযুক্ত চালক ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।

নিহত শিশুর নানি কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, অনেক অনুরোধ করেছি, কেউ নেয়নি। আমার নাতিকে বাঁচতে দিল না।

দাদা জুয়েল মিয়া বলেন, চোখের সামনে আমার নাতি মারা গেল, শুধু গাড়ি না পাওয়ার কারণে। 

শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. সাইফুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি জানতাম না। কেউ জানালে ব্যবস্থা নেওয়া যেত। এখন খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow