৫০ বছরের পথচলার ইতি, বন্ধ হচ্ছে অস্ট্রেলিয়ার জনপ্রিয় বারবিকিউ চেইন

অর্থনৈতিক সংকট কাটিয়ে উঠতে ব্যর্থ হয়ে প্রায় পাঁচ দশকের পুরোনো অস্ট্রেলীয় খুচরা বিক্রেতা বারবিকিউ গ্যালোর ব্যবসা গুটিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। এর ফলে প্রতিষ্ঠানটির প্রায় ৫০০ কর্মী চাকরি হারাচ্ছেন। ১৯৭৭ সালে ম্যাক্স ম্যাসন প্রতিষ্ঠিত বারবিকিউ গ্যালোর বারবিকিউ সরঞ্জাম ও আউটডোর আসবাবপত্র বিক্রির জন্য অস্ট্রেলিয়াজুড়ে পরিচিত ছিল। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে প্রতিষ্ঠানটি স্বেচ্ছা প্রশাসনের আওতায় যায় এবং ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে উদ্ধার পরিকল্পনা নিয়ে কাজ চলছিল। তবে চলতি সপ্তাহে কোম্পানি জানিয়েছে, পুনরুদ্ধারের সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। ফলে আগামী সপ্তাহ থেকে কোম্পানির মালিকানাধীন ৬২টি স্টোর ধাপে ধাপে বন্ধ করা হবে। এছাড়া ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিকানাধীন ২৭টি স্টোরের জন্যও বিশেষ রূপান্তর পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। কোম্পানির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সব কর্মচারীর বেতন, ভাতা ও অন্যান্য প্রাপ্য সম্পূর্ণ পরিশোধ করা হবে। এক বিবৃতিতে প্রতিষ্ঠানটি জানায়, ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে বাড়িওয়ালা ও সরবরাহকারীদের সঙ্গে নতুন বাণিজ্যিক শর্তে সমঝোতার চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক আলোচনায় কোনো কার্যকর সমাধান না আসায় প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ করে

৫০ বছরের পথচলার ইতি, বন্ধ হচ্ছে অস্ট্রেলিয়ার জনপ্রিয় বারবিকিউ চেইন

অর্থনৈতিক সংকট কাটিয়ে উঠতে ব্যর্থ হয়ে প্রায় পাঁচ দশকের পুরোনো অস্ট্রেলীয় খুচরা বিক্রেতা বারবিকিউ গ্যালোর ব্যবসা গুটিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। এর ফলে প্রতিষ্ঠানটির প্রায় ৫০০ কর্মী চাকরি হারাচ্ছেন।

১৯৭৭ সালে ম্যাক্স ম্যাসন প্রতিষ্ঠিত বারবিকিউ গ্যালোর বারবিকিউ সরঞ্জাম ও আউটডোর আসবাবপত্র বিক্রির জন্য অস্ট্রেলিয়াজুড়ে পরিচিত ছিল। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে প্রতিষ্ঠানটি স্বেচ্ছা প্রশাসনের আওতায় যায় এবং ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে উদ্ধার পরিকল্পনা নিয়ে কাজ চলছিল।

তবে চলতি সপ্তাহে কোম্পানি জানিয়েছে, পুনরুদ্ধারের সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। ফলে আগামী সপ্তাহ থেকে কোম্পানির মালিকানাধীন ৬২টি স্টোর ধাপে ধাপে বন্ধ করা হবে। এছাড়া ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিকানাধীন ২৭টি স্টোরের জন্যও বিশেষ রূপান্তর পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।

কোম্পানির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সব কর্মচারীর বেতন, ভাতা ও অন্যান্য প্রাপ্য সম্পূর্ণ পরিশোধ করা হবে।

এক বিবৃতিতে প্রতিষ্ঠানটি জানায়, ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে বাড়িওয়ালা ও সরবরাহকারীদের সঙ্গে নতুন বাণিজ্যিক শর্তে সমঝোতার চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক আলোচনায় কোনো কার্যকর সমাধান না আসায় প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আগামী ১৬ জুন থেকে কোম্পানির সম্পদ বিক্রির প্রক্রিয়া শুরু হবে।

এদিকে গ্রাহকদের জন্য গিফট ভাউচার ব্যবহারের সুযোগ জুন মাসের শেষ পর্যন্ত রাখা হয়েছে। তবে একটি বিশেষ শর্ত রয়েছে—প্রতি ১ অস্ট্রেলীয় ডলার ভাউচারের বিপরীতে গ্রাহককে নিজের পকেট থেকে ২ ডলার খরচ করতে হবে।

উদাহরণ হিসেবে, ৫০ ডলারের একটি ভাউচার ব্যবহার করতে হলে গ্রাহককে অতিরিক্ত ১০০ ডলার ব্যয় করে মোট ১৫০ ডলারের কেনাকাটা করতে হবে।

উজ্জ্বল লাল লোগোর জন্য পরিচিত এই ব্র্যান্ডের পতনকে অস্ট্রেলিয়ার খুচরা বাজারের জন্য একটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

বিশ্লেষক রোজার মনটগোমারি বলেন, বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে দুর্বল অবস্থায় থাকা কোনো ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে টিকিয়ে রাখা অত্যন্ত কঠিন।

তার ভাষায়, এটি একটি আইকনিক অস্ট্রেলীয় ব্র্যান্ডের জন্য দুঃখজনক শেষ অধ্যায়। যদি অস্ট্রেলিয়ানদের কাছেই বারবিকিউ বিক্রি করা না যায়, তাহলে আর কার কাছে বিক্রি করা সম্ভব?

বিশ্লেষকদের মতে, উচ্চ জীবনযাত্রার ব্যয়, ভোক্তা ব্যয় কমে যাওয়া এবং খুচরা বাজারের প্রতিযোগিতা বৃদ্ধির কারণে অস্ট্রেলিয়ার অনেক ঐতিহ্যবাহী ব্যবসা এখন কঠিন সময় পার করছে। বারবিকিউ গ্যালোর বন্ধ হয়ে যাওয়া সেই সংকটেরই আরেকটি উদাহরণ।

সূত্র: বিবিসি

এমএসএম

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow