৫০ বছর ধরে মহাকাশে বাজছে যে নারীর কণ্ঠ
আজ থেকে প্রায় বছর পঞ্চাশেক আগে পৃথিবী থেকে মহাকাশে যাত্রা করেছিল ভয়েজার ১ ও ভয়েজার ২ নামক মহাকাশযান। ইতিহাস বলে, এই যাত্রায় নাকি সঙ্গী হয়েছিল এক অতিক্ষুদ্র গ্রামের এক কোকিলকণ্ঠী! অথচ সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মানুষ তার নাম প্রায় ভুলতেই বসেছে। ১৯৭৭ সাল, নাসার উদ্যোগে ভয়েজার ১ ও ২ মহাকাশযাত্রা করে। এই যানে কোনো অভিযাত্রী ছিলেন না। অচেনা গ্রহগুলো সম্পর্কে আরও জানার উদ্দেশ্য নিয়ে মহাকাশে লঞ্চ করা হয়েছিল সেটিকে। এ সময় পৃথিবীর সভ্যতা ও সংস্কৃতির বাহক হিসেবে এই দুই মহাকাশযানের সঙ্গে পাঠান হয় এক তামার ডিস্ক, যা ‘ভয়েজার গোল্ডেন রেকর্ড’ (Voyager Golden Record) নামে পরিচিত। এ যানটির উৎসস্থল যে পৃথিবী, ডিস্কটি তারই বার্তাবাহক। ডিস্কটিতে ভরা ছিল ১১৫টি ছবি, পৃথিবীর নানান প্রাকৃতিক শব্দ, ৫৫টি ভিন্ন ভাষায় জানানো শুভেচ্ছাবার্তা ও মোট ২৭টি গান। জ্যোতির্বিজ্ঞানী কার্ল সেগানের নেতৃত্বে গঠিত একটি বিশেষ কমিটি গানগুলো নির্বাচন করেছিল। কিন্তু মহাকাশে এমন গান-ছবি পাঠানোর প্রয়োজন কী? আসলে, বিজ্ঞানীরা মনে করেছিলেন- কোনো একদিন যদি কোনো বুদ্ধিমান ভিনগ্রহী সভ্যতার বাসিন্দারা এই মহাকাশযান খুঁজে পায়, তবে তারা যেন মানবসভ্যত
আজ থেকে প্রায় বছর পঞ্চাশেক আগে পৃথিবী থেকে মহাকাশে যাত্রা করেছিল ভয়েজার ১ ও ভয়েজার ২ নামক মহাকাশযান। ইতিহাস বলে, এই যাত্রায় নাকি সঙ্গী হয়েছিল এক অতিক্ষুদ্র গ্রামের এক কোকিলকণ্ঠী! অথচ সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মানুষ তার নাম প্রায় ভুলতেই বসেছে।
১৯৭৭ সাল, নাসার উদ্যোগে ভয়েজার ১ ও ২ মহাকাশযাত্রা করে। এই যানে কোনো অভিযাত্রী ছিলেন না। অচেনা গ্রহগুলো সম্পর্কে আরও জানার উদ্দেশ্য নিয়ে মহাকাশে লঞ্চ করা হয়েছিল সেটিকে।
এ সময় পৃথিবীর সভ্যতা ও সংস্কৃতির বাহক হিসেবে এই দুই মহাকাশযানের সঙ্গে পাঠান হয় এক তামার ডিস্ক, যা ‘ভয়েজার গোল্ডেন রেকর্ড’ (Voyager Golden Record) নামে পরিচিত। এ যানটির উৎসস্থল যে পৃথিবী, ডিস্কটি তারই বার্তাবাহক।
ডিস্কটিতে ভরা ছিল ১১৫টি ছবি, পৃথিবীর নানান প্রাকৃতিক শব্দ, ৫৫টি ভিন্ন ভাষায় জানানো শুভেচ্ছাবার্তা ও মোট ২৭টি গান। জ্যোতির্বিজ্ঞানী কার্ল সেগানের নেতৃত্বে গঠিত একটি বিশেষ কমিটি গানগুলো নির্বাচন করেছিল। কিন্তু মহাকাশে এমন গান-ছবি পাঠানোর প্রয়োজন কী?
আসলে, বিজ্ঞানীরা মনে করেছিলেন- কোনো একদিন যদি কোনো বুদ্ধিমান ভিনগ্রহী সভ্যতার বাসিন্দারা এই মহাকাশযান খুঁজে পায়, তবে তারা যেন মানবসভ্যতার পরিচয়, বৈচিত্র্য ও সৃজনশীলতার এক ঝলক দেখতে পারে। নির্বাচিত ২৭টি গানের মধ্যে ছিল এক ভারতীয় সঙ্গীতশিল্পীর গানও। পৃথিবীর অসংখ্য সঙ্গীতধারা ও শিল্পীর মধ্যে থেকে বেছে নেওয়া হয়েছিল সেরার সেরাদের।
ভারতের গানটি ছিল একখানা তিন মিনিটব্যাপী ক্লাসিক্যাল মিউজিক ট্র্যাক। গেয়েছিলেন কিংবদন্তি কণ্ঠশিল্পী কেসরবাই কেরকর। পরিবেশিত রাগ ভৈরবীর বন্দিশ ‘যাত কাহা হো’।
১৮৯২ সালে গোয়ার এক ক্ষুদ্র গ্রামে কেসরবাইয়ের জন্ম। গান গাওয়ার অত্যাধুনিক ব্যবস্থাপনা সমৃদ্ধ কোনো স্টুডিও জোটেনি তার কপালে। ব্যক্তিগত প্রচারদল থাকার তো প্রশ্নই উঠছে না। তবু তার স্পষ্ট উচ্চারণ, অসাধারণ কণ্ঠস্বর শুনে মুগ্ধ হয়েছিলেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। আর নির্দ্বিধায় বেছে নিয়েছিলেন সুরশ্রী কেসরবাই কেরকরকে।
আজ, প্রায় পাঁচ দশক পরে, ভয়েজার ১ মানবজাতির তৈরি সবচেয়ে দূরে পৌঁছে যাওয়া বস্তু হিসেবে আন্তঃনাক্ষত্রিক মহাশূন্যে যাত্রা করছে। আর পৃথিবী থেকে কোটি কোটি কিলোমিটার দূরে ছুটে চলা সেই মহাকাশযানের ভেতরে এখনো বেজে চলেছে কেসরবাই কেরকরের কণ্ঠ। বেজে চলেছে ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীত।
সূত্র: দ্য প্রিন্ট
এসএএইচ
What's Your Reaction?