৫২ বছরের অপেক্ষার অবসান, বিশ্বকাপে ফিরছে ডিআর কঙ্গো
অবশেষে ৫২ বছরের দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান। ১৯৭৪ সালের পর আবারও ফিফা বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিয়েছে আফ্রিকার দেশ কঙ্গো প্রজাতন্ত (কঙ্গো ডিআর)। কন্টিনেন্টাল বাছাই পর্বের প্লে-অফে মেক্সিকোর গুয়াদালাহারায় ৩১ মার্চ ২০২৬, জ্যামাইকাকে ১-০ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করার পর আনন্দে ভাসে পুরো দেশ। ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ প্লে-অফ টুর্নামেন্টের ‘পাথ এ’ ফাইনালে অতিরিক্ত সময়ে জামাইকাকে হারিয়ে বিশ্বকাপে জায়গা নিশ্চিত করে ‘দ্য লেপার্ডস’রা। ম্যাচের একমাত্র গোলটি করেন অ্যাক্সেল তুয়ানজেবে। সুবর্ণ প্রজন্মের হাত ধরে বিশ্বকাপে ফেরা কোচ সেবাস্তিয়ান দেশাবরের অধীনে কঙ্গো ডিআর এখন আফ্রিকার অন্যতম শক্তিশালী দল। তার দলে রয়েছেন অভিজ্ঞ ও তারকাখ্যাতিসম্পন্ন ফুটবলাররা- সেদ্রিক বাকাম্বু, চান্সেল মবেম্বা, আর্থার মাসুয়াকু ও ফিস্টন মায়েলের মতো খেলোয়াড়রা। এই সুবর্ণ প্রজন্মকে নিয়েই বিশ্বকাপের মঞ্চে নতুন ইতিহাস লিখতে চায় কঙ্গো ডিআর। কোচ সেবাস্তিয়ান দেশাবরের সাফল্যের গল্প ফরাসি কোচ সেবাস্তিয়ান দেশাবর ২০২২ সালের আগস্টে কঙ্গো ডিআরের দায়িত্ব নেন। দায়িত্ব নিয়েই তিনি ঘোষণা দিয়েছিলেন- তার লক্ষ্য ২০২৫ আফ্রিকান কাপ অব নেশনসে
অবশেষে ৫২ বছরের দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান। ১৯৭৪ সালের পর আবারও ফিফা বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিয়েছে আফ্রিকার দেশ কঙ্গো প্রজাতন্ত (কঙ্গো ডিআর)। কন্টিনেন্টাল বাছাই পর্বের প্লে-অফে মেক্সিকোর গুয়াদালাহারায় ৩১ মার্চ ২০২৬, জ্যামাইকাকে ১-০ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করার পর আনন্দে ভাসে পুরো দেশ।
ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ প্লে-অফ টুর্নামেন্টের ‘পাথ এ’ ফাইনালে অতিরিক্ত সময়ে জামাইকাকে হারিয়ে বিশ্বকাপে জায়গা নিশ্চিত করে ‘দ্য লেপার্ডস’রা। ম্যাচের একমাত্র গোলটি করেন অ্যাক্সেল তুয়ানজেবে।
সুবর্ণ প্রজন্মের হাত ধরে বিশ্বকাপে ফেরা
কোচ সেবাস্তিয়ান দেশাবরের অধীনে কঙ্গো ডিআর এখন আফ্রিকার অন্যতম শক্তিশালী দল। তার দলে রয়েছেন অভিজ্ঞ ও তারকাখ্যাতিসম্পন্ন ফুটবলাররা- সেদ্রিক বাকাম্বু, চান্সেল মবেম্বা, আর্থার মাসুয়াকু ও ফিস্টন মায়েলের মতো খেলোয়াড়রা। এই সুবর্ণ প্রজন্মকে নিয়েই বিশ্বকাপের মঞ্চে নতুন ইতিহাস লিখতে চায় কঙ্গো ডিআর।
কোচ সেবাস্তিয়ান দেশাবরের সাফল্যের গল্প
ফরাসি কোচ সেবাস্তিয়ান দেশাবর ২০২২ সালের আগস্টে কঙ্গো ডিআরের দায়িত্ব নেন। দায়িত্ব নিয়েই তিনি ঘোষণা দিয়েছিলেন- তার লক্ষ্য ২০২৫ আফ্রিকান কাপ অব নেশনসে যোগ্যতা অর্জন এবং ২০২৬ বিশ্বকাপে জায়গা করে নেওয়া।
শুরুর দিকে সমর্থকরা কিছুটা সন্দিহান ছিলেন। কারণ আগের কয়েকটি বাছাইপর্বে খুব কাছে গিয়েও ব্যর্থ হয়েছিল দলটি। তবে ২০২৩ আফকনে (যা অনুষ্ঠিত হয় ২০২৪ সালের শুরুতে) সেমিফাইনালে ওঠার পর দেশাবরের প্রতি আস্থা তৈরি হয়।
দেশাবরের অধীনে কঙ্গো ডিআর পেয়েছে একটি স্পষ্ট ফুটবল দর্শন- শৃঙ্খলাবদ্ধ দলীয় ফুটবল, শক্ত রক্ষণ এবং লড়াকু মানসিকতা। মজার বিষয় হলো, দেশাবর কখনও পেশাদার ফুটবলার ছিলেন না। তবুও আফ্রিকান ফুটবলের অন্যতম সম্মানিত কোচে পরিণত হয়েছেন তিনি।
কঠিন পথ পেরিয়ে বিশ্বকাপে
রাশিয়া ২০১৮ ও কাতার ২০২২ বিশ্বকাপে খুব কাছ থেকে বাদ পড়েছিল কঙ্গো ডিআর। তবে এবার আর ভুল করেনি তারা।
আফ্রিকান বাছাইপর্বে নাটকীয় লড়াই
আফ্রিকান অঞ্চলের বাছাইপর্বে গ্রুপ ‘বি’-তে খেলেছিল কঙ্গো ডিআর। গ্রুপসেরা হওয়ার লড়াইয়ে তাদের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল সেনেগাল। কিনশাসায় নির্ধারণী ম্যাচে ২-০ গোলে এগিয়েও শেষ পর্যন্ত ৩-২ ব্যবধানে হেরে যায় কঙ্গো ডিআর। ফলে সরাসরি বিশ্বকাপে জায়গা পাওয়া হয়নি। তবে সেরা চার রানার্সআপের একটি হিসেবে আফ্রিকান প্লে-অফে জায়গা পায় তারা।
প্লে-অফে ক্যামেরুন ও নাইজেরিয়াকে হারানো
আফ্রিকান প্লে-অফ সেমিফাইনালে শেষ মুহূর্তে চান্সেল মবেম্বার গোলে ক্যামেরুনকে ১-০ ব্যবধানে হারায় কঙ্গো ডিআর। ফাইনালে নাইজেরিয়ার বিপক্ষে ১-১ ড্র হওয়ার পর টাইব্রেকারে ৪-৩ ব্যবধানে জয় পায় তারা। এরপর আন্তঃমহাদেশীয় প্লে-অফ খেলতে যায় মেক্সিকোতে।
জ্যামাইকাকে হারিয়ে বিশ্বকাপ নিশ্চিত
মেক্সিকোর গুয়াদালাহারায় অনুষ্ঠিত ফিফা প্লে-অফ টুর্নামেন্টের ফাইনালে অতিরিক্ত সময়ে জ্যামাইকাকে ১-০ গোলে হারায় কঙ্গো ডিআর। একটি কর্নার থেকে সুযোগ কাজে লাগিয়ে গোল করেন অ্যাক্সেল তুয়ানজেবে। সেই গোলেই ৫২ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটে।
বিশ্বকাপ ২০২৬-এ কঙ্গো ডিআরের গ্রুপ ও সূচি
বিশ্বকাপের গ্রুপ ‘কে’-তে পড়েছে কঙ্গো ডিআর। সেখানে তাদের প্রতিপক্ষ পর্তুগাল, কলম্বিয়া ও উজবেকিস্তান।
ম্যাচসূচি
* ১৭ জুন ২০২৬, পর্তুগাল বনাম কঙ্গো ডিআর, ভেন্যু: হিউস্টন স্টেডিয়াম
* ২৩ জুন ২০২৬, কলম্বিয়া বনাম কঙ্গো ডিআর, ভেন্যু: গুয়াদালাহারা স্টেডিয়াম, মেক্সিকো
* ২৭ জুন ২০২৬, কঙ্গো ডিআর বনাম উজবেকিস্তান, ভেন্যু: আটলান্টা স্টেডিয়াম
স্কোয়াডে বড় চমক নেই
কোচ দেশাবর প্রায় একই দল রেখেছেন যারা বিশ্বকাপ নিশ্চিত করেছে। দলের প্রধান তারকারা: সেড্রিক বাকাম্বু (অধিনায়ক), চান্সেল মবেম্বা, ফিস্টন মায়েলে, আর্থার মাসুয়াকু, অ্যাক্সেল তুয়ানজেবে
কঙ্গো ডিআরের বিশ্বকাপ ইতিহাস
বর্তমান কঙ্গো ডিআর ১৯৯৭ সালের আগে জায়ারে নামে পরিচিত ছিল। সেই নামেই তারা প্রথম ও একমাত্র বিশ্বকাপ খেলেছিল ১৯৭৪ সালে।
১৯৭৪ বিশ্বকাপের গল্প
পশ্চিম জার্মানিতে অনুষ্ঠিত ১৯৭৪ বিশ্বকাপে আফ্রিকার একমাত্র প্রতিনিধি ছিল জায়ারে। বাছাইপর্বে মরক্কো ও জাম্বিয়াকে হারিয়ে বিশ্বকাপে জায়গা করে নেয় তারা। আফ্রিকার তৃতীয় দেশ হিসেবে বিশ্বকাপে খেলার গৌরব অর্জন করে জায়ারে। তবে মূলপর্বের অভিজ্ঞতা সুখকর ছিল না।
১৯৭৪ বিশ্বকাপের ফলাফল
* স্কটল্যান্ডের কাছে হার: ২-০
* যুগোস্লাভিয়ার কাছে হার: ৯-০
* ব্রাজিলের কাছে হার: ৩-০
পরিসংখ্যান:
* ম্যাচ: ৩
* জয়: ০
* ড্র: ০
* হার: ৩
* গোল করেছে: ০
* গোল হজম: ১৪
বিশ্বকাপে এখনো পর্যন্ত কোনো গোল করতে পারেনি কঙ্গো ডিআর। ফলে ২০২৬ বিশ্বকাপে সেড্রিক বাকাম্বু, ইয়োয়ানে উইসা কিংবা ফিস্টন মায়েলেদের সামনে ইতিহাস গড়ার সুযোগ রয়েছে- দেশের প্রথম বিশ্বকাপ গোলদাতা হওয়ার।
বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলা কঙ্গো ডিআর ফুটবলার
১৯৭৪ বিশ্বকাপে কঙ্গো ডিআরের হয়ে ১৮ জন ফুটবলার খেলেছিলেন। তাদের মধ্যে ১০ জন খেলেছিলেন তিনটি ম্যাচই।
তারা হলেন: লোবিলো বোবা, মুইপু ইলুঙ্গা, কেম্বো উবা কেম্বো, মায়াঙ্গা মাকু, মানা মাম্বুয়েনে, কিদুমু মানতান্তু, কিলাসু মাসাম্বা, কাজাদি মুয়াম্বা, মওয়ানজা নেল মুকোম্বো, বুয়াঙ্গা তশিমেন।
নতুন ইতিহাস লেখার অপেক্ষায় কঙ্গো ডিআর
অর্ধশতকের বেশি সময় পর বিশ্বকাপে ফিরে আসা কঙ্গো ডিআরের জন্য এটি শুধু একটি টুর্নামেন্ট নয়, বরং নতুন ইতিহাস লেখার সুযোগ। আফ্রিকান ফুটবলের নতুন শক্তি হিসেবে উঠে আসা দলটি এবার বিশ্বমঞ্চে কতটা চমক দেখাতে পারে, সেটাই এখন দেখার অপেক্ষা।
আইএইচএস/
What's Your Reaction?