৫ অভ্যাসে বাড়তে পারে লিভারের সমস্যা
লিভার আমাদের শরীরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। খাবার হজমে সাহায্য করা, শরীরের বিপাকক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ, বিষাক্ত উপাদান বা টক্সিন দূর করা, শক্তি সঞ্চয় এবং প্রয়োজনীয় প্রোটিন তৈরি-সবকিছুতেই লিভারের ভূমিকা রয়েছে। কিন্তু বর্তমানের অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস এবং পর্যাপ্ত বিশ্রামের অভাবে অনেকেই নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার ডিজিজ-এ আক্রান্ত হচ্ছেন। এই রোগ দীর্ঘদিন অবহেলা করলে লিভারে প্রদাহ, সিরোসিস এমনকি লিভার বিকলের মতো জটিল সমস্যাও দেখা দিতে পারে। তাই লিভার সুস্থ রাখতে কিছু দৈনন্দিন অভ্যাস আজই বদলে ফেলা জরুরি। অতিরিক্ত চিনি জাতীয় খাবার চিনি লিভারের সবচেয়ে বড় শত্রুগুলোর একটি। অতিরিক্ত চিনিযুক্ত খাবার শরীরে অতিরিক্ত ফ্যাট জমাতে সাহায্য করে। এই অতিরিক্ত চর্বির একটি বড় অংশ লিভারে জমে ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকি বাড়ায়। একইভাবে রিফাইন্ড কার্বোহাইড্রেট যেমন অতিরিক্ত ময়দার খাবারও লিভারের ওপর চাপ সৃষ্টি করে। অতিরিক্ত তেলে ভাজা ও রেড মিট ভাজাপোড়া খাবার অতিরিক্ত রেড মিটে স্যাচুরেটেড ফ্যাটের পরিমাণ বেশি থাকে। এই ধরনের খাবার নিয়মিত খেলে লিভারে চর্বি জমে, প্রদাহ তৈরি হয় এবং ভালো কোলেস্টেরল কমে গিয়
লিভার আমাদের শরীরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। খাবার হজমে সাহায্য করা, শরীরের বিপাকক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ, বিষাক্ত উপাদান বা টক্সিন দূর করা, শক্তি সঞ্চয় এবং প্রয়োজনীয় প্রোটিন তৈরি-সবকিছুতেই লিভারের ভূমিকা রয়েছে। কিন্তু বর্তমানের অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস এবং পর্যাপ্ত বিশ্রামের অভাবে অনেকেই নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার ডিজিজ-এ আক্রান্ত হচ্ছেন।
এই রোগ দীর্ঘদিন অবহেলা করলে লিভারে প্রদাহ, সিরোসিস এমনকি লিভার বিকলের মতো জটিল সমস্যাও দেখা দিতে পারে। তাই লিভার সুস্থ রাখতে কিছু দৈনন্দিন অভ্যাস আজই বদলে ফেলা জরুরি।
অতিরিক্ত চিনি জাতীয় খাবার
চিনি লিভারের সবচেয়ে বড় শত্রুগুলোর একটি। অতিরিক্ত চিনিযুক্ত খাবার শরীরে অতিরিক্ত ফ্যাট জমাতে সাহায্য করে। এই অতিরিক্ত চর্বির একটি বড় অংশ লিভারে জমে ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকি বাড়ায়। একইভাবে রিফাইন্ড কার্বোহাইড্রেট যেমন অতিরিক্ত ময়দার খাবারও লিভারের ওপর চাপ সৃষ্টি করে।
অতিরিক্ত তেলে ভাজা ও রেড মিট
ভাজাপোড়া খাবার অতিরিক্ত রেড মিটে স্যাচুরেটেড ফ্যাটের পরিমাণ বেশি থাকে। এই ধরনের খাবার নিয়মিত খেলে লিভারে চর্বি জমে, প্রদাহ তৈরি হয় এবং ভালো কোলেস্টেরল কমে গিয়ে খারাপ কোলেস্টেরল বেড়ে যায়। দীর্ঘদিন এই অভ্যাস চলতে থাকলে লিভারের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা কমে যেতে পারে।
চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ
জ্বর, মাথাব্যথা বা শরীরব্যথা হলেই অনেকেই নিয়মিত পেইনকিলার খেয়ে ফেলেন। বিশেষ করে অতিরিক্ত প্যারাসিটামল বা অন্যান্য ব্যথানাশক ওষুধ দীর্ঘদিন খেলে লিভারের ওপর গুরুতর প্রভাব পড়তে পারে। একইভাবে অনেক হার্বাল সাপ্লিমেন্টও সম্পূর্ণ নিরাপদ নয়। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো ওষুধ বা সাপ্লিমেন্ট নিয়মিত খাওয়া উচিত নয়।
পর্যাপ্ত ঘুম না হওয়া
রাতে আমরা বিশ্রামে থাকলেও লিভার তার গুরুত্বপূর্ণ কাজ চালিয়ে যায়। দীর্ঘদিন পর্যাপ্ত ঘুম না হলে শরীরে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স তৈরি হতে পারে, যা নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকি বাড়ায়। প্রতিদিন অন্তত ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা ভালো মানের ঘুম লিভারের সুস্থতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
কম পানি পান করা
পর্যাপ্ত পানি শরীরের টক্সিন বের করে দিতে সাহায্য করে এবং লিভারের স্বাভাবিক কাজ সহজ করে। পানি কম খেলে শুধু লিভার নয়, কিডনির কাজও ব্যাহত হতে পারে। তাই সারাদিনে পর্যাপ্ত পানি পান করার অভ্যাস গড়ে তুলুন। আলাদা করে ডিটক্স ওয়াটার না খেলেও সাধারণ পরিষ্কার পানি যথেষ্ট।
লিভার ভালো রাখতে যা খাবেন
লিভারের যত্নে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় রাখতে পারেন সবুজ শাকসবজি, মৌসুমি ফল, ওটস, ব্রাউন রাইস, ডাল, বাদাম, অলিভ অয়েল এবং চর্বিহীন মাছ। অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসমৃদ্ধ খাবার লিভারের প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে। পাশাপাশি নিয়মিত হাঁটা বা ব্যায়াম করলে লিভারে অতিরিক্ত চর্বি জমার ঝুঁকিও কমে।
সুস্থ লিভারের জন্য জীবনযাপনও জরুরি
শুধু খাবার নিয়ন্ত্রণ করলেই হবে না, নিয়মিত শরীরচর্চা, ওজন নিয়ন্ত্রণ, ধূমপান পরিহার এবং পর্যাপ্ত বিশ্রামও লিভার সুস্থ রাখার গুরুত্বপূর্ণ উপায়। লিভারের সমস্যা অনেক সময় শুরুতে কোনো লক্ষণ দেখায় না। তাই স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনই হতে পারে এই গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গকে দীর্ঘদিন সুস্থ রাখার সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
সূত্র: টাইসম অব ইন্ডিয়া, হেলথলাইন ও অন্যান্য
এসএকেওয়াই/আরএমডি
What's Your Reaction?


