৬ বছরের শিশুকে ‘ধর্ষণ’, অভিযুক্তকে গণপিটুনি
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় ছয় বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার (২২ মে) বিকেলে বক্তাবলীর আনন্দবাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসীর গণপিটুনিতে হিরু (২২) নামে এক অভিযুক্ত মুমূর্ষু অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
ঘটনার সঙ্গে জড়িত অপর অভিযুক্ত সোহেলকে (২১) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় নারায়ণগঞ্জে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
শনিবার (২৩ মে) সকালে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও সর্বোচ্চ আইনি ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে ফতুল্লা থানা পরিদর্শন করেছেন নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. রায়হান কবির এবং জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মো. মিজানুর রহমান মুন্সী।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার বিকেলে শিশুটি বাড়ির পাশে খেলাধুলা করার সময় একই এলাকার মনির হোসেনের ছেলে হিরু ও জামাল পাটোয়ারীর ছেলে সোহেল তাকে কৌশলে ডেকে নিয়ে নির্যাতন চালায়। ঘটনার পর প্রথমে শিশুটির মা লোকলজ্জার ভয়ে বিষয়টি কাউকে জানাননি। তবে পরে শিশুটির শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে দ্রুত নারায়ণগঞ্জ জেনারেল (ভিক্টোরিয়া) হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। বর্তমানে শিশুটি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
শুক্রবার রাতে ঘটনাটি এলাকায় জানাজানি হলে স
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় ছয় বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার (২২ মে) বিকেলে বক্তাবলীর আনন্দবাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসীর গণপিটুনিতে হিরু (২২) নামে এক অভিযুক্ত মুমূর্ষু অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
ঘটনার সঙ্গে জড়িত অপর অভিযুক্ত সোহেলকে (২১) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় নারায়ণগঞ্জে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
শনিবার (২৩ মে) সকালে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও সর্বোচ্চ আইনি ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে ফতুল্লা থানা পরিদর্শন করেছেন নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. রায়হান কবির এবং জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মো. মিজানুর রহমান মুন্সী।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার বিকেলে শিশুটি বাড়ির পাশে খেলাধুলা করার সময় একই এলাকার মনির হোসেনের ছেলে হিরু ও জামাল পাটোয়ারীর ছেলে সোহেল তাকে কৌশলে ডেকে নিয়ে নির্যাতন চালায়। ঘটনার পর প্রথমে শিশুটির মা লোকলজ্জার ভয়ে বিষয়টি কাউকে জানাননি। তবে পরে শিশুটির শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে দ্রুত নারায়ণগঞ্জ জেনারেল (ভিক্টোরিয়া) হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। বর্তমানে শিশুটি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
শুক্রবার রাতে ঘটনাটি এলাকায় জানাজানি হলে স্থানীয়দের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষুব্ধ জনতা অভিযুক্ত হিরুকে আটকে গণধোলাই দেয়। খবর পেয়ে রাত আড়াইটার দিকে পুলিশ আশঙ্কাজনক অবস্থায় হিরুকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, হিরুর অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন এবং সে বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
এদিকে, এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিশুর মা বাদী হয়ে ফতুল্লা থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলার প্রেক্ষিতে পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে ঘটনার সঙ্গে জড়িত অপর অভিযুক্ত সোহেলকে গ্রেপ্তার করে।
নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রায়হান কবির বলেন, এটি একটি পৈশাচিক ও ন্যাক্কারজনক অপরাধ, যা সমাজে কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রশাসন ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে কাজ করছে। দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে দ্রুত তদন্ত শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসন ভুক্তভোগী পরিবারের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনসহ সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করবে।
নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান মুন্সি বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। একজন গ্রেপ্তার আছে এবং অপরজন পুলিশি পাহারায় চিকিৎসাধীন। মামলাটি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে এবং খুব দ্রুত চার্জশিট দাখিল করা হবে। এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহবুব আলম বলেন, মামলাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।
নারায়ণগঞ্জ ভিক্টোরিয়া হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আর এম ও) জহিরুল ইসলাম মুঠোফোনে কালবেলাকে বলেন, ইতোমধ্যে শিশুটির মেডিকেল টেস্ট করা হয়েছে। কিছু আলামত আমরা পেয়েছি। আগামীকালের মধ্যে আমরা রিপোর্ট জমা দিতে পারব।
নারায়ণগঞ্জ সিভিল সার্জন মশিউর রহমান কালবেলাকে জানান, মেয়েটির মেডিকেল টেস্ট গুরুত্বের সঙ্গে করা হয়েছে। এক্সরে রিপোর্ট আসলে প্রকৃত ঘটনা বলা যাবে। খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে আমরা মেডিকেল রিপোর্ট জমা দেব। যেহেতু সংবেদনশীল বিষয় তাই মৌখিকভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।