৭৩ বছরেও আবাসন সুবিধার বাইরে রাবির দুই-তৃতীয়াংশ শিক্ষার্থী

গৌরবের ৭৩ বছর পেরিয়ে সোমবার (৬ জুলাই) ৭৪তম বছরে পদার্পণ করেছে উত্তরবঙ্গের শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়। তবে বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের এই আনন্দক্ষণেও শিক্ষার্থীদের বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে তীব্র আবাসন সংকট ও নতুন হল নির্মাণকাজের ধীরগতি, যার কারণে দুই-তৃতীয়াংশ শিক্ষার্থীই প্রাতিষ্ঠানিক আবাসন সুবিধার বাইরে রয়েছেন। ১৯৫৩ সালের ৬ জুলাই নগরীর বড়কুঠি থেকে সাতটি বিভাগে ১৫৬ জন ছাত্র ও পাঁচজন ছাত্রী নিয়ে যাত্রা শুরু করে দেশের শীর্ষ এই বিশ্ববিদ্যালয়টি। প্রতিষ্ঠার পর থেকে শিক্ষা, গবেষণা ও দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে। কিন্তু সাত দশকের এই বিদ্যাপীঠে আজও নিশ্চিত করা যায়নি শতভাগ আবাসন সুবিধা। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩০ হাজারের অধিক নিয়মিত শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে। এর বিপরীতে ছেলেদের এগারোটি ও মেয়েদের ছয়টি আবাসিক হলে যথাক্রমে ৫ হাজার ৪৬৯ জন ও ৪ হাজার ২০৪ জন শিক্ষার্থীর আবাসন ব্যবস্থা রয়েছে। অর্থাৎ মোট ৯ হাজার ৬৭৩ জন শিক্ষার্থী হলে থাকার সুযোগ পাচ্ছেন। তবে আবাসন সংকট নিরসনে ছাত্রদের জন্য ১০ তলাবিশিষ্ট বিজয়-৭১ হল (সাবেক শহীদ এএইচএম কামারুজ্জ

৭৩ বছরেও আবাসন সুবিধার বাইরে রাবির দুই-তৃতীয়াংশ শিক্ষার্থী

গৌরবের ৭৩ বছর পেরিয়ে সোমবার (৬ জুলাই) ৭৪তম বছরে পদার্পণ করেছে উত্তরবঙ্গের শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।

তবে বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের এই আনন্দক্ষণেও শিক্ষার্থীদের বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে তীব্র আবাসন সংকট ও নতুন হল নির্মাণকাজের ধীরগতি, যার কারণে দুই-তৃতীয়াংশ শিক্ষার্থীই প্রাতিষ্ঠানিক আবাসন সুবিধার বাইরে রয়েছেন।

১৯৫৩ সালের ৬ জুলাই নগরীর বড়কুঠি থেকে সাতটি বিভাগে ১৫৬ জন ছাত্র ও পাঁচজন ছাত্রী নিয়ে যাত্রা শুরু করে দেশের শীর্ষ এই বিশ্ববিদ্যালয়টি। প্রতিষ্ঠার পর থেকে শিক্ষা, গবেষণা ও দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে। কিন্তু সাত দশকের এই বিদ্যাপীঠে আজও নিশ্চিত করা যায়নি শতভাগ আবাসন সুবিধা।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩০ হাজারের অধিক নিয়মিত শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে। এর বিপরীতে ছেলেদের এগারোটি ও মেয়েদের ছয়টি আবাসিক হলে যথাক্রমে ৫ হাজার ৪৬৯ জন ও ৪ হাজার ২০৪ জন শিক্ষার্থীর আবাসন ব্যবস্থা রয়েছে। অর্থাৎ মোট ৯ হাজার ৬৭৩ জন শিক্ষার্থী হলে থাকার সুযোগ পাচ্ছেন।

তবে আবাসন সংকট নিরসনে ছাত্রদের জন্য ১০ তলাবিশিষ্ট বিজয়-৭১ হল (সাবেক শহীদ এএইচএম কামারুজ্জামান হল) এবং ছাত্রীদের জন্য অপরাজিতা হল (সাবেক দেশরত্ন শেখ হাসিনা হল) নির্মাণাধীন রয়েছে। হল দুটির নির্মাণকাজ শেষ হলে আরও প্রায় দুই হাজার শিক্ষার্থীর আবাসনের ব্যবস্থা নিশ্চিত হবে। তবে সেই নির্মাণকাজও চলছে ‘কচ্ছপের গতিতে’। তিন দফা সময় বাড়ানোর পর নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার কথা ছিলো গত মাসে। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার পরিবর্তে আরও এক দফা মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তুতি চলছে। গত বছর নভেম্বরে ভূমিকম্পে বিশ্ববিদ্যালয়ের শেরে-বাংলা ফজলুল হক হলের ছাদ ও দেওয়ালে ফাটল দেখা দেওয়ায় ওই হলের শিক্ষার্থীদের নির্মাণাধীন বিজয়-৭১ হলে স্থানান্তর করা হয়। এছাড়া কয়েক হাজার শিক্ষার্থী ঝুঁকির মধ্যেই মন্নুজান হলে অবস্থান করছেন।

আবাসিক সুবিধা বৃদ্ধির দাবি জানিয়ে ফলিত গণিত বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান নাবিয়া বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় ৭৪ বছরে পদার্পণ করলেও এখনো অর্ধেকের বেশি শিক্ষার্থী হল সুবিধার বাইরে। অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা প্রথম বর্ষ থেকেই আবাসন সুবিধা পায়, সেখানে তৃতীয় বর্ষে এসে হল পাচ্ছি। তাই প্রশাসনের উচিত দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া।

আবাসিক সুবিধার বাইরে থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করে দর্শন বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আলাল আদনান বলেন, হলে উঠতে না পারায় বিভিন্ন সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছি। অর্থনৈতিক সমস্যা ও নিরাপত্তা সংকট সব ক্ষেত্রেই ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। রাত ১১টার পর মেসের গেট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বাইরে যেতে পারি না। ক্যাম্পাসে যাতায়াত ও মেস ভাড়ার জন্য অনেক খরচ মেটাতে বিভিন্নভাবে আয় করার চেষ্টা করতে হচ্ছে, যা পড়াশোনায় প্রভাব ফেলছে।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সহ-সভাপতি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ জাগো নিউজকে বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের গৌরবময় ইতিহাস ঐতিহ্য ধরে রাখতে শিক্ষার গুণগত মান, গবেষণার সুযোগ-সুবিধা, আবাসন সংকটের সমাধান এবং শিক্ষার্থীদের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা জরুরি। ছয় যুগ পেরিয়েও বেশিরভাগ শিক্ষার্থীকে হলের বাইরে থাকতে হচ্ছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য অসম্মানের। আমরা মনে করি, প্রশাসন দ্রুত এ সমস্যার সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেবে।’

আবাসন সুবিধার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, আবাসন সমস্যা একদিনে সমাধান করা সম্ভব না। নতুন ছয়টি হল নির্মাণের একটি প্রস্তাবনা একনেকের সবুজ পাতায় তালিকাভুক্ত হয়েছে। সেটি অনুমোদন হলে আমাদের প্রায় ৫০ শতাংশ শিক্ষার্থীর আবাসন নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। আমাদের পরিকল্পনা প্রথম ধাপে আবাসনের হার ৫০ শতাংশে উন্নীত করা, এরপর ধাপে ধাপে তা আরও বৃদ্ধি করা।

এসজেডএইচ/জেআইএম

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow