৮২৪ কোটি ১৬ লাখ টাকা জরিমানার মুখে গুগল

বিশ্বের অন্যতম প্রযুক্তি জায়ান্ট গুগল এবার বড়সড় গোপনীয়তা-সংক্রান্ত অভিযোগের মুখে। সংস্থার ভয়েস অ্যাসিস্ট্যান্ট ব্যবহারকারীদের অজান্তেই কথোপকথন শুনেছে এমন অভিযোগ ঘিরে শুরু হওয়া মামলায় শেষ পর্যন্ত ৬৮ মিলিয়ন বা ৬ কোটি ৮০ লাখ ডলার জরিমানা দিতে সম্মত হয়েছে গুগল। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার অঙ্ক প্রায় ৮২৪ কোটি ১৬ লাখ টাকা। অভিযোগকারীদের দাবি, স্মার্টফোনে লোকেশন পরিষেবা চালু থাকলে ব্যবহারকারীর চলাফেরা, অনলাইন অভ্যাস এবং ডিজিটাল কার্যকলাপের ওপর গভীর নজর রাখতে পারে গুগল। শুধু তাই নয়, গুগল সার্চ বা ইউটিউবে করা অনুসন্ধান সংস্থার সার্ভারে সংরক্ষিত থাকে দীর্ঘদিন। অনেক ব্যবহারকারী আবার ভয়েস কমান্ডের মাধ্যমে সার্চ করেন, যা থেকে তাদের অ্যাপ ব্যবহারের ধরন সম্পর্কেও তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভব হয়। মামলার নথি অনুযায়ী, গুগল অ্যাসিস্ট্যান্ট এমন সব ব্যক্তিগত কথোপকথন রেকর্ড করেছে, যেগুলো শোনার কোনো বৈধ অনুমতি তাদের ছিল না। আরও গুরুতর অভিযোগ এই অডিও ডাটার একটি অংশ বিজ্ঞাপন সংক্রান্ত কাজে ব্যবহার করা হয়েছে। অথচ ব্যবহারকারীদের এ বিষয়ে আগে থেকে কোনো স্পষ্ট ধারণা বা সম্মতি ছিল না। অভিযোগকারীরা এটিকে সরাসরি গোপনীয়তার চরম লঙ্ঘ

৮২৪ কোটি ১৬ লাখ টাকা জরিমানার মুখে গুগল

বিশ্বের অন্যতম প্রযুক্তি জায়ান্ট গুগল এবার বড়সড় গোপনীয়তা-সংক্রান্ত অভিযোগের মুখে। সংস্থার ভয়েস অ্যাসিস্ট্যান্ট ব্যবহারকারীদের অজান্তেই কথোপকথন শুনেছে এমন অভিযোগ ঘিরে শুরু হওয়া মামলায় শেষ পর্যন্ত ৬৮ মিলিয়ন বা ৬ কোটি ৮০ লাখ ডলার জরিমানা দিতে সম্মত হয়েছে গুগল। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার অঙ্ক প্রায় ৮২৪ কোটি ১৬ লাখ টাকা।

অভিযোগকারীদের দাবি, স্মার্টফোনে লোকেশন পরিষেবা চালু থাকলে ব্যবহারকারীর চলাফেরা, অনলাইন অভ্যাস এবং ডিজিটাল কার্যকলাপের ওপর গভীর নজর রাখতে পারে গুগল। শুধু তাই নয়, গুগল সার্চ বা ইউটিউবে করা অনুসন্ধান সংস্থার সার্ভারে সংরক্ষিত থাকে দীর্ঘদিন। অনেক ব্যবহারকারী আবার ভয়েস কমান্ডের মাধ্যমে সার্চ করেন, যা থেকে তাদের অ্যাপ ব্যবহারের ধরন সম্পর্কেও তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভব হয়।

মামলার নথি অনুযায়ী, গুগল অ্যাসিস্ট্যান্ট এমন সব ব্যক্তিগত কথোপকথন রেকর্ড করেছে, যেগুলো শোনার কোনো বৈধ অনুমতি তাদের ছিল না। আরও গুরুতর অভিযোগ এই অডিও ডাটার একটি অংশ বিজ্ঞাপন সংক্রান্ত কাজে ব্যবহার করা হয়েছে। অথচ ব্যবহারকারীদের এ বিষয়ে আগে থেকে কোনো স্পষ্ট ধারণা বা সম্মতি ছিল না।

অভিযোগকারীরা এটিকে সরাসরি গোপনীয়তার চরম লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেছেন। তাদের বক্তব্য, ব্যবহারকারীর অনুমতি ছাড়া ব্যক্তিগত কথাবার্তা শোনা বা সংরক্ষণ করা কোনো প্রযুক্তি সংস্থার অধিকার হতে পারে না।

যদিও গুগল এই সব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। সংস্থার দাবি, তারা ব্যবহারকারীর গোপনীয়তা রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে দীর্ঘদিন ধরে চলা আইনি লড়াই এবং বিপুল আদালত খরচ এড়ানোর জন্যই শেষ পর্যন্ত তারা মামলাটি মীমাংসার পথে হাঁটতে রাজি হয়েছে।

তবে এবারই প্রথম নয়। এর আগে ২০২১ সালে অ্যাপলকেও তাদের ভয়েস অ্যাসিস্ট্যান্ট ‘সিরি’-কে ঘিরে ওঠা একই ধরনের অভিযোগে ৯৫ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দিতে হয়েছিল। শুধু তাই নয়, গোপনীয়তা সংক্রান্ত মামলায় গত বছর টেক্সাস প্রশাসনের সঙ্গে মীমাংসা করে ১.৪ বিলিয়ন ডলার দিতে সম্মত হয়েছিল গুগল।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্যবহারকারীর তথ্য সুরক্ষা নিয়ে প্রযুক্তি সংস্থাগুলির ওপর চাপ ক্রমশ বাড়ছে। ভবিষ্যতে এই ধরনের মামলার সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলেই আশঙ্কা।

সূত্র: টেকক্রাঞ্চ

আরও পড়ুন
বন্ধ রাখুন ৩ সেটিংস, ব্যক্তিগত তথ্য জানবে না গুগল-ফেসবুক
গুগল আপনার ব্যক্তিগত ছবি চুরি করছে না তো!

কেএসকে

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow