অংশীদারিত্ব ছাড়া শাসন ব্যবস্থার রূপান্তর হবে না : জেএসডি

জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সাধারণ সম্পাদক শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন বলেছেন, অংশীদারিত্ব ছাড়া শাসন ব্যবস্থার রূপান্তর হবে না। তিনি বলেন, প্রচলিত রাষ্ট্রচিন্তা যেখানে ক্ষমতা হস্তান্তরের ধারণার উপর দাঁড়িয়ে, সেখানে সিরাজুল আলম খানের রাজনৈতিক দর্শন ক্ষমতা অংশীদারিত্বের কথা বলে। এই অংশীদারিত্বমূলক ধারণায় রাষ্ট্র একক মালিক নয়, রাজনৈতিক দল একমাত্র প্রতিনিধি নয় এবং জনগণ কেবল ভোটদাতা বা অনুমোদনদাতা হিসেবে সীমাবদ্ধ থাকে না। বরং রাষ্ট্র পরিচালনা হয়ে ওঠে একটি যৌথ প্রক্রিয়া, যেখানে জনগণ সাংগঠনিকভাবে ও সক্রিয়ভাবে উপস্থিত থাকে। মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) রাজধানীর সিরাজুল আলম খান সেন্টারে অংশীদারিত্বমূলক গণতন্ত্রের অন্যতম প্রবক্তা ও বাংলাদেশের দ্বিতীয় ধারার রাজনীতির তাত্ত্বিক সিরাজুল আলম খানের ৮৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে জেএসডি আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। স্বপন আরও বলেন, রাষ্ট্রব্যবস্থায় জনগণের স্থায়ী ও প্রাতিষ্ঠানিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে ‘গণভিত্তিক কাঠামো ব্যবস্থা’ প্রতিষ্ঠা করতে হবে। এই ব্যবস্থা বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় একটি মৌলিক অপরিহার্য বিকল্প। অংশীদারিত্বের গণতন্ত্র হচ্ছে

অংশীদারিত্ব ছাড়া শাসন ব্যবস্থার রূপান্তর হবে না : জেএসডি
জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সাধারণ সম্পাদক শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন বলেছেন, অংশীদারিত্ব ছাড়া শাসন ব্যবস্থার রূপান্তর হবে না। তিনি বলেন, প্রচলিত রাষ্ট্রচিন্তা যেখানে ক্ষমতা হস্তান্তরের ধারণার উপর দাঁড়িয়ে, সেখানে সিরাজুল আলম খানের রাজনৈতিক দর্শন ক্ষমতা অংশীদারিত্বের কথা বলে। এই অংশীদারিত্বমূলক ধারণায় রাষ্ট্র একক মালিক নয়, রাজনৈতিক দল একমাত্র প্রতিনিধি নয় এবং জনগণ কেবল ভোটদাতা বা অনুমোদনদাতা হিসেবে সীমাবদ্ধ থাকে না। বরং রাষ্ট্র পরিচালনা হয়ে ওঠে একটি যৌথ প্রক্রিয়া, যেখানে জনগণ সাংগঠনিকভাবে ও সক্রিয়ভাবে উপস্থিত থাকে। মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) রাজধানীর সিরাজুল আলম খান সেন্টারে অংশীদারিত্বমূলক গণতন্ত্রের অন্যতম প্রবক্তা ও বাংলাদেশের দ্বিতীয় ধারার রাজনীতির তাত্ত্বিক সিরাজুল আলম খানের ৮৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে জেএসডি আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। স্বপন আরও বলেন, রাষ্ট্রব্যবস্থায় জনগণের স্থায়ী ও প্রাতিষ্ঠানিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে ‘গণভিত্তিক কাঠামো ব্যবস্থা’ প্রতিষ্ঠা করতে হবে। এই ব্যবস্থা বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় একটি মৌলিক অপরিহার্য বিকল্প। অংশীদারিত্বের গণতন্ত্র হচ্ছে সিরাজুল আলম খানের স্বপ্নের  রাষ্ট্র কাঠামো। এটা বাস্তবায়ন করেই তার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে হবে।  সভাপতির বক্তব্যে দলের সহসভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ সিরাজ মিয়া বলেন, সাম্প্রতিক জুলাই গণঅভ্যুত্থান প্রমাণ করেছে যে জনগণ রাষ্ট্রব্যবস্থাকে প্রত্যাখ্যান করেনি; বরং তারা প্রত্যাখ্যান করেছে রাষ্ট্র পরিচালনার একচেটিয়া ও দলকেন্দ্রিক ক্ষমতার ধরনকে। প্রচলিত দলকেন্দ্রিক প্রতিনিধিত্ব কাঠামোর পাশাপাশি এবং তার সমান্তরালে পেশা, শ্রম, অঞ্চল ও সামাজিক পরিচয়ের ভিত্তিতে স্বশাসিত গণভিত্তিক সংগঠন গড়ে তুলতে হবে। অংশীদারিত্ব ভিত্তিক কাঠামোর মাধ্যমে জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের নীতি প্রণয়ন, রাষ্ট্রীয় সংস্কার, আইন প্রণয়ন এবং সম্পদ বণ্টন প্রক্রিয়ায় জনগণের বাধ্যতামূলক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। সভায় আরও বক্তব্য দেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য অ্যাড. কেএম জাবির, মোহাম্মদ তৌহিদ হোসেন, সহসভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মাইনুর রহমান, উপদেষ্টা নূরুল আমিন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সৈয়দ বেলায়েত হোসেন বেলাল, সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল, আবদুল মান্নান মুন্সি, দপ্তর সম্পাদক কামরুল আহসান অপু প্রমুখ।  সভায়  বক্তারা বলেন, বাংলাদেশে অতীতে কেবল নির্বাচন, কেবল অভ্যুত্থান কিংবা কেবল সংস্কার কমিশনের পথ বারবার অনুসৃত হয়েছে, কিন্তু কাঠামোগত পরিবর্তন না হওয়ায় ক্ষমতা শেষ পর্যন্ত সংকুচিত গোষ্ঠীর হাতেই ফিরে গেছে। এর বিপরীতে অংশীদারিত্বভিত্তিক গণমুখী কাঠামো অভ্যুত্থানের শক্তিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে পারে, সংস্কারকে জনগণের মালিকানায় আনতে পারে এবং নির্বাচনকে জনগণের নিয়ন্ত্রণাধীন করতে পারে। বক্তাদের মতে, সিরাজুল আলম খানের জন্মবার্ষিকীতে এই আলোচনা স্মরণ করিয়ে দেয় যে, দ্বিতীয় ধারার রাজনীতি কোনো ঐতিহাসিক স্মৃতিমাত্র নয়; বরং এটি আজও বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক মুক্তির জন্য একটি কার্যকর ও প্রাসঙ্গিক দিগন্ত।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow