অটিজম সীমাবদ্ধতা নয় বরং ভিন্নধর্মী সক্ষমতা : সমাজকল্যাণ মন্ত্রী

সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেছেন, অটিজম কোনো সীমাবদ্ধতা নয়, বরং এটি একটি ভিন্নধর্মী সক্ষমতা। অটিজম আক্রান্ত ব্যক্তিরা সমাজের বোঝা নয়; তাদের সঠিক সুযোগ ও পরিবেশ দিলে তারা মেধার স্বাক্ষর রেখে দেশের মুখ উজ্জ্বল করতে পারে। বুধবার (১৩ মে) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ১৯তম বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। নিউরো ডেভেলপমেন্টাল প্রতিবন্ধী সুরক্ষা ট্রাস্ট এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোহাম্মদ আবু ইউছুফের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. কামাল উদ্দিন বিশ্বাস। নিউরো ডেভেলপমেন্টাল প্রতিবন্ধী সুরক্ষা ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোছাম্মৎ শাহীনা আক্তার স্বাগত বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানে এনডিডি বিষয়ে ওপর প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন বিএমইউ’র ইনস্টিটিউট অফ পেডিয়াট্রিক নিউরোডিসঅর্ডার এন্ড অটিজম এবং শিশু নিউরোলজিস্ট ও অটিজম বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. সৈয়দা তাবাসসুম আলম। আলোচনা অনু

অটিজম সীমাবদ্ধতা নয় বরং ভিন্নধর্মী সক্ষমতা : সমাজকল্যাণ মন্ত্রী
সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেছেন, অটিজম কোনো সীমাবদ্ধতা নয়, বরং এটি একটি ভিন্নধর্মী সক্ষমতা। অটিজম আক্রান্ত ব্যক্তিরা সমাজের বোঝা নয়; তাদের সঠিক সুযোগ ও পরিবেশ দিলে তারা মেধার স্বাক্ষর রেখে দেশের মুখ উজ্জ্বল করতে পারে। বুধবার (১৩ মে) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ১৯তম বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। নিউরো ডেভেলপমেন্টাল প্রতিবন্ধী সুরক্ষা ট্রাস্ট এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোহাম্মদ আবু ইউছুফের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. কামাল উদ্দিন বিশ্বাস। নিউরো ডেভেলপমেন্টাল প্রতিবন্ধী সুরক্ষা ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোছাম্মৎ শাহীনা আক্তার স্বাগত বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানে এনডিডি বিষয়ে ওপর প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন বিএমইউ’র ইনস্টিটিউট অফ পেডিয়াট্রিক নিউরোডিসঅর্ডার এন্ড অটিজম এবং শিশু নিউরোলজিস্ট ও অটিজম বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. সৈয়দা তাবাসসুম আলম। আলোচনা অনুষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, অটিজম বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, শিক্ষাবিদ, অভিভাবক প্রতিনিধি এবং নিউরো-ডেভেলপমেন্টাল প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও তাদের পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।  মন্ত্রী বলেন, প্রতিবছর ২ এপ্রিল বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস পালন করা হয় কিন্তু বাংলাদেশে অনিবার্য কারণবশত আজ দিবসটি পালিত হচ্ছে। বাংলাদেশে ১৮০ মিলিয়ন পপুলেশনের মধ্যে ৩.৯ মিলিয়ন প্রতিবন্ধী ব্যক্তি রয়েছে। সমাজ থেকে পিছিয়ে থাকা এ প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের পশ্চাৎপদ রেখে বাংলাদেশের সার্বিক উন্নয়ন সম্ভব নয়। আমরা একটি প্রতিবন্ধীবান্ধব ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গড়ে তুলতে চাই, যেখানে অটিজম আক্রান্ত ব্যক্তিরা তাদের মেধার যোগ্যতা দিয়ে পূর্ণ মর্যাদা ও সুযোগ নিয়ে বেড়ে উঠতে পারবে। তারা সমাজের বোঝা নয় উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, তাদের এক-একজনের মধ্যে এক-এক রকমের মেধা রয়েছে। যার কারণে অলিম্পিকে ক্রীড়া নৈপুণ্যে অ্যাওয়ার্ড নিয়ে বাংলাদেশের মুখ উজ্জ্বল করেছে।  তিনি বলেন, সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় তাদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। অটিজম সম্পন্ন ব্যক্তিদের দূরে ঠেলে না রেখে তাদের মেধার বিকাশ ঘটাতে তিনি অভিভাবক, শিক্ষক, চিকিৎসক ও সমাজের সব স্তরের মানুষকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। অটিজমসহ নিউরো-ডেভেলপমেন্টাল প্রতিবন্ধীদের অধিকার, সুরক্ষা ও সমাজের মূলধারায় অন্তর্ভুক্তির ওপর জোর দেন।  মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান সরকার অটিজম ও নিউরো-ডেভেলপমেন্টাল প্রতিবন্ধীদের জন্য একটি সমন্বিত ও ব্যাপক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। এ বছরের বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবসের প্রতিপাদ্য ‘অটিজম কোনো সীমাবদ্ধতা নয়- প্রতিটি জীবন মূল্যবান’। আমাদের সবাইকে স্মরণ করিয়ে দেয় যে, প্রত্যেক মানুষই সমাজের অবিচ্ছেদ্য অংশ। অটিজম কোনো রোগ নয়, এটি একটি বৈশিষ্ট্য। আমাদের দায়িত্ব হলো এই বৈশিষ্ট্যকে স্বীকৃতি দিয়ে তাদের সক্ষমতা অনুযায়ী সুযোগ করে দেওয়া। মন্ত্রী আরও বলেন, সরকার ইতোমধ্যে নিউরো-ডেভেলপমেন্টাল প্রতিবন্ধী সুরক্ষা ট্রাস্ট আইন-২০১৩ বাস্তবায়নের মাধ্যমে বিশেষায়িত সেবা কেন্দ্র স্থাপন, শিক্ষা ও চিকিৎসা সহায়তা, পুনর্বাসন কর্মসূচি এবং অভিভাবকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছে। দেশের প্রতিটি জেলায় অটিজম কর্নার স্থাপন, বিশেষ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সম্প্রসারণ এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিতে আমরা কাজ করছি। বর্তমান সরকার নারী ও শিশুদের কল্যাণ বাস্তবায়নে কোনো শিশু বা নারী যেন পিছিয়ে না পড়ে, সে লক্ষ্যে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। তিনি অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনাদের সন্তানদের প্রতি ধৈর্য ও ভালোবাসা ধরে রাখুন। সরকার আপনাদের পাশে আছে। এককালীন চিকিৎসা অনুদান, থেরাপি সেবা এবং শিক্ষা উপকরণ সরবরাহে ট্রাস্ট কাজ করছে। আমরা আরও বেশি সংখ্যক মাল্টি-ডিসিপ্লিনারি টিম গঠন করব যেন প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্তকরণ ও হস্তক্ষেপ সম্ভব হয়। মন্ত্রী সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান জানিয়ে বলেন, স্কুল, মসজিদ-মন্দির, সমাজে অটিজম সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা ছড়িয়ে দিতে হবে। বৈষম্য দূর করে অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গড়ে তুলতে হবে। সরকারি-বেসরকারি সব স্তরে সমন্বয় বাড়ানোর মাধ্যমে আমরা এ লক্ষ্য অর্জন করব।  সভাপতির বক্তৃতায় সমাজকল্যাণ সচিব ড. মোহাম্মদ আবু ইউছুফ বলেন, আজ সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন নিউরো ডেভেলপমেন্টাল প্রতিবন্ধী সুরক্ষা ট্রাস্ট আয়োজিত ১৯তম বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস আজ ভিন্ন রকমভাবে পালিত হচ্ছে। জাতিসংঘ ঘোষিত এই দিবসের এবারের প্রতিপাদ্য ‘অটিজম কনো সীমাবদ্ধতা নয়- প্রতিটি জীবন মূল্যবান’ আমাদেরকে অটিজম বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন ব্যক্তিদের নিয়ে গভীরভাবে ভাবিয়ে তোলে। এই প্রতিপাদ্য আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে, অটিজম কোনো অভিশাপ নয়, বরং মানববৈচিত্র্যের একটি অংশ। প্রতিটি অটিজম বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন ব্যক্তির জীবনের মূল্য সমান, তাদের মর্যাদা অপরিসীম এবং তাদের সম্ভাবনা অসীম।  অটিজম একটি নিউরো-ডেভেলপমেন্টাল অবস্থা। এটি কোনো রোগ নয় যা সারিয়ে ফেলতে হবে বরং এটি এমন একটি বৈশিষ্ট্য যা বুঝতে, সমর্থন করতে এবং সঠিক পরিবেশ দিতে হবে যেন তারা তাদের পূর্ণ সম্ভাবনা বিকশিত করতে পারে। আমাদের সমাজে এখনও অনেক ভুল ধারণা রয়েছে। অনেকে অটিজমকে অন্যরকম বলে দূরে সরিয়ে রাখেন। কিন্তু আমি বলতে চাই, তারা আমাদেরই অংশ। তারা আমাদের পরিবারের সদস্য, সমাজের সদস্য এবং এই দেশের গর্বিত নাগরিক। সরকারের অঙ্গীকার ও উদ্যোগ বর্তমান সরকার সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে অটিজম বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্য ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করা হচ্ছে। বিশেষ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি সাধারণ স্কুল-কলেজে অটিজম শিক্ষার্থীদের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ, প্রশিক্ষিত শিক্ষক ও সহায়ক সরঞ্জাম নিশ্চিত করা হবে। অনুষ্ঠানে বক্তারা অটিজম শনাক্তকরণে প্রাথমিক স্তরে সচেতনতা, থেরাপি সেবার প্রসার, শিক্ষায় অন্তর্ভুক্তি এবং কর্মক্ষেত্রে সুযোগ সৃষ্টির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। অটিজম আক্রান্ত শিশু-কিশোরদের অংশগ্রহণে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়। গান, নৃত্য ও কবিতা আবৃত্তির মাধ্যমে তারা তাদের সৃজনশীলতা প্রকাশ করে সবাইকে মুগ্ধ করে। অনুষ্ঠানে অটিজমসহ নিউরো-ডেভেলপমেন্টাল প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সাফল্যের গল্প তুলে ধরা হয়। এ বছর ৫টি ক্যাটাগরিতে ২৫ জন অটিজম বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন সফল ব্যক্তি,সফল সমাজকর্মী, প্রতিষ্ঠান, সফল পিতা-মাতা ও কেয়ারগিভারকে তাদের সম্মাননা প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে অটিজম সচেতনতামূলক ভিডিও প্রদর্শন করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়েই মন্ত্রী অটিজম আক্রান্ত শিশুদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি বলেন, এই শিশুরা আমাদের সমাজের সম্পদ। তাদের সুরক্ষা ও বিকাশে সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow