অটোপাসের দাবিতে আন্দোলনে শিক্ষার্থীরা, উপাচার্যকে হেনস্তার অভিযোগ
অটোপাসের দাবিতে আন্দোলনরত ডিগ্রি তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীরা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের গাড়ির ওপর চড়াও হয়ে তাকে হেনস্তার অভিযোগ উঠেছে। শিক্ষার্থীদের হামলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও নিরাপত্তা কর্মীসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। অন্যদিকে শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও নিরাপত্তাকর্মীদের মারধরে প্রায় ২৫ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছে। সোমবার (৬ এপ্রিল) দুপুর আড়াইটার দিকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য গাজীপুর ক্যাম্পাস থেকে ঢাকায় ফেরার পথে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে এ ঘটনা ঘটে। জানা গেছে, ২০২৩ সালের ডিগ্রি তৃতীয় বর্ষের বেশ কিছু শিক্ষার্থী অটোপাশের দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসছিল। এক পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের দাবি এবং বিভিন্ন বিষয় চিন্তা করে ১০ পার্সেন্ট গ্রেস মার্ক দিয়ে ফল প্রকাশ করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এতে অনেক সংখ্যক শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হন। এর পরেও যারা উত্তীর্ণ হতে পারেনি তারা অটোপাসের দাবিতে বিভিন্ন সময়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের সামনে এসে বিক্ষোভ করে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের খাতা দেখানোর উদ্যোগ নেয়। কিন্তু শিক্ষ
অটোপাসের দাবিতে আন্দোলনরত ডিগ্রি তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীরা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের গাড়ির ওপর চড়াও হয়ে তাকে হেনস্তার অভিযোগ উঠেছে। শিক্ষার্থীদের হামলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও নিরাপত্তা কর্মীসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। অন্যদিকে শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও নিরাপত্তাকর্মীদের মারধরে প্রায় ২৫ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছে।
সোমবার (৬ এপ্রিল) দুপুর আড়াইটার দিকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য গাজীপুর ক্যাম্পাস থেকে ঢাকায় ফেরার পথে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, ২০২৩ সালের ডিগ্রি তৃতীয় বর্ষের বেশ কিছু শিক্ষার্থী অটোপাশের দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসছিল। এক পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের দাবি এবং বিভিন্ন বিষয় চিন্তা করে ১০ পার্সেন্ট গ্রেস মার্ক দিয়ে ফল প্রকাশ করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এতে অনেক সংখ্যক শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হন। এর পরেও যারা উত্তীর্ণ হতে পারেনি তারা অটোপাসের দাবিতে বিভিন্ন সময়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের সামনে এসে বিক্ষোভ করে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের খাতা দেখানোর উদ্যোগ নেয়। কিন্তু শিক্ষার্থীরা খাতা না দেখে অটোপাস দাবি করে আসছিলেন।
সোমবার বেলা আড়াইটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বের হওয়ার সময় প্রধান ফটকে উপাচার্যের গাড়ি গতিরোধ করেন শিক্ষার্থীরা। কিছু শিক্ষার্থী উপাচার্যের গাড়ির নিচে শুয়ে পড়েন। কর্তব্যরত নিরাপত্তাকর্মী ও উপস্থিত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা শিক্ষার্থীদের উপাচার্যের গাড়ির সামনে থেকে সরাতে গেলে শিক্ষার্থীরা কর্মকর্তা-কর্মচারী ও নিরাপত্তা কর্মীদের ওপর হামলা চালান। এতে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
আহতদের গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন ক্লিনিক ও হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
আহতরা হলেন- বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর রেজাউর রহমান মিয়া, শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা দপ্তরের পরিচালক মো. কামাল হাসান, আনসার সদস্য হুমায়ূন কবির, বিশ্ববিদ্যালয়ের বেসরকারি নিরাপত্তা কর্মী নূর মোহাম্মদ, শাহ পরাণ, জুয়েল, হোসনা বেগম, কনক রায়সহ আরও কয়েকজন।
অপর দিকে শিক্ষার্থী ভাবনা রহমান বলেন, সোমবার সকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে এসে আমাদের দাবি নিয়ে কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলার চেষ্টা করেছি। কিন্তু আমাদের সাথে কেউ কোনো কথা বলেনি। উপাচার্য তার কার্যালয় থেকে বের হলে তার গাড়ির চার পাশে গিয়ে তার সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করা হয়। একপর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও নিরাপত্তাকর্মীরা আমাদের ওপর হামলা চালান। তারা শিক্ষার্থীদের মারধর করেন। নারী শিক্ষার্থীর গায়ে হাত দেওয়া হয়। শারীরিকভাবে অনেক নারী শিক্ষার্থীকে লাঞ্ছিত করেন। এতে অন্তত ২৫ জন শিক্ষার্থী আহত হন। তাদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। শিক্ষার্থীরা তাদের ওপর হামলার ঘটনায় বিচার দাবি করেন।
এদিকে এর আগে গত বছর ২১ মে অটোপাশের দাবিতে আন্দোলনরত জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২২ সালের স্নাতক (পাস) পরীক্ষার্থীদের হামলায় প্রথমবারের মতো আহত হয়েছিলেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ।
ঘটনার পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে উপাচার্য বলেন, শিক্ষার্থীদের অন্যায্য দাবি ও অন্যায় আবদারের সঙ্গে কখনো বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সহানুভূতি দেখাতে পারে না। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কোনো অটোপাসকে সমর্থন করে না।
অটোপাশের দাবি নাকচ করে অধ্যাপক ড. আমানুল্লাহ আরও বলেন, সামনের দিনগুলোতে শিক্ষার গুণগতমান বজায় রাখার স্বার্থে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় অটোপাস ও গ্রেস নিরুৎসাহিত করছে। এ ব্যাপারে আরও কঠোর হওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় একবার অটোপাশ দিলে দেশের সার্বিক শিক্ষা ব্যবস্থা ভেঙে পড়বে।
মো. আমিনুল ইসলাম/এমএন/এমএস
What's Your Reaction?