অতিবৃষ্টিতে পানির নিচে বগুড়ার ফসলি জমি

বগুড়ায় টানা বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে আউশ ধান, আমন বীজতলা আর শাকসবজির ক্ষেত। প্রায় ১০০ হেক্টর জমির ফসল সম্পূর্ণরূপে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতির পরিমাণ ৫ কোটি ১১ লাখ ৫০ হাজার ৫৩৫ টাকা।  এতে উৎপাদন কমে যাওয়ার প্রভাবে কাঁচাবাজারে বাড়ছে সবজির দাম। ফলে একই দুর্যোগে দ্বিমুখী সংকটে পড়েছেন কৃষক ও ভোক্তা। মাঠে ফসল হারিয়ে দিশেহারা কৃষক, আর চড়া দামে নিত্যপ্রয়োজনীয় সবজি কিনে নাভিশ্বাস উঠছে সাধারণ মানুষের। বগুড়ার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি জুলাই মাসের টানা বৃষ্টিতে বগুড়ার ৪২০ হেক্টর আবাদি জমির ফসল পানির নিচে চলে গেছে। এতে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ৪ হাজার ৯৬১ জন কৃষক। সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছে সবজি, পাট ও আমনের বীজতলা।  এর মধ্যে প্রায় ১০০ হেক্টর জমির ফসল সম্পূর্ণরূপে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। টাকার অংকে ক্ষতির পরিমাণ ৫ কোটি ১১ লাখ ৫০ হাজার ৫৩৫ টাকা। সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত ফসলের মধ্যে রয়েছে আউশ ধান ১৭ দশমিক ৫ হেক্টর, পাট ৩ হেক্টর, মরিচ ১ দশমিক  ১৫ হেক্টর, আমন বীজতলা  ২৪ হেক্টর এবং শাক-সবজি ৫৪ দশমিক ১৩ হেক্টর। সব মিলিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের সংখ্যা ৩ হাজার ১৬১জন।  আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস অন

অতিবৃষ্টিতে পানির নিচে বগুড়ার ফসলি জমি
বগুড়ায় টানা বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে আউশ ধান, আমন বীজতলা আর শাকসবজির ক্ষেত। প্রায় ১০০ হেক্টর জমির ফসল সম্পূর্ণরূপে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতির পরিমাণ ৫ কোটি ১১ লাখ ৫০ হাজার ৫৩৫ টাকা।  এতে উৎপাদন কমে যাওয়ার প্রভাবে কাঁচাবাজারে বাড়ছে সবজির দাম। ফলে একই দুর্যোগে দ্বিমুখী সংকটে পড়েছেন কৃষক ও ভোক্তা। মাঠে ফসল হারিয়ে দিশেহারা কৃষক, আর চড়া দামে নিত্যপ্রয়োজনীয় সবজি কিনে নাভিশ্বাস উঠছে সাধারণ মানুষের। বগুড়ার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি জুলাই মাসের টানা বৃষ্টিতে বগুড়ার ৪২০ হেক্টর আবাদি জমির ফসল পানির নিচে চলে গেছে। এতে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ৪ হাজার ৯৬১ জন কৃষক। সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছে সবজি, পাট ও আমনের বীজতলা।  এর মধ্যে প্রায় ১০০ হেক্টর জমির ফসল সম্পূর্ণরূপে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। টাকার অংকে ক্ষতির পরিমাণ ৫ কোটি ১১ লাখ ৫০ হাজার ৫৩৫ টাকা। সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত ফসলের মধ্যে রয়েছে আউশ ধান ১৭ দশমিক ৫ হেক্টর, পাট ৩ হেক্টর, মরিচ ১ দশমিক  ১৫ হেক্টর, আমন বীজতলা  ২৪ হেক্টর এবং শাক-সবজি ৫৪ দশমিক ১৩ হেক্টর। সব মিলিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের সংখ্যা ৩ হাজার ১৬১জন।  আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী কয়েকদিন আবারও ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ২০ জুলাই পর্যন্ত প্রস্তুত করা প্রাথমিক ক্ষয়ক্ষতির প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, এখনই বৃষ্টি না থামলে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়বে। একই সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে বাজারের অস্থিরতা। বগুড়া আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মাসের ১ থেকে ২০ জুলাই পর্যন্ত জেলায় ৩৮৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে। এর মধ্যে শুধু ৯ জুলাই ১০৯ দশমিক ৮ মিলিমিটার এবং ১৩/১৪ জুলাই ১০৮ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে।  সরকারি প্রতিবেদনে দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি ফসলি জমি আক্রান্ত হয়েছে সারিয়াকান্দি উপজেলা। সেখানে ১৮৮ হেক্টর ফসলি জমি পানির নিচে চলে গেছে। কাহালুতে ৭৫ হেক্টর, দুপচাঁচিয়ায় ৫৫, আদমদীঘিতে ৪৫, সোনাতলায় ৩৮, শিবগঞ্জে ১৭ এবং শাজাহানপুরে ১৪ হেক্টর জমি নিমজ্জিত হয়েছে। ফসলভিত্তিক ক্ষতির হিসাব বলছে, সবচেয়ে বড় আঘাত লেগেছে আগামী মৌসুমের উৎপাদনের ওপর। ১২৬ হেক্টর আমনের বীজতলা, ১১৫ হেক্টর পাট, ১০৬ হেক্টর সবজি, ৩৪ হেক্টর আউশ, ২৩ হেক্টর মরিচ এবং ১৩ হেক্টর অন্যান্য ফসল আত্রান্ত হয়েছে। কৃষি সংশ্লিষ্টদের মতে, এসব ফসলের ক্ষতি শুধু চলতি মৌসুমের নয়, সামনের মাসগুলোতেও উৎপাদন ও বাজারে এর প্রভাব থাকতে পারে। উপজেলাভিত্তিক হিসাবে কাহালুতে সবচেয়ে বেশি ৪৫ হেক্টর সবজি খেত পানিতে ডুবে গেছে। সারিয়াকান্দিতে ২৮ হেক্টর, সোনাতলায় ১৩ হেক্টর, শিবগঞ্জে ১০ হেক্টর এবং আদমদীঘি ও শাজাহানপুরে ৫ হেক্টর করে সবজি খেত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। করলা চাষি আমজাদ হোসেন বলেন, করলা চাষে প্রায় ১৫ হাজার টাকা খরচ করেছি। বিক্রি শুরু করার আগেই বৃষ্টি হলো। কয়েক দিনের মধ্যে পুরো ক্ষেত পানির নিচে চলে যায়। এখন সব গাছ পচে গেছে। এক টাকাও ঘরে তুলতে পারিনি। এ বিষয়ে সোনাতলা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সোহরাব হোসেন বলেন, বন্যার পানি দ্রুত নেমে গেলে ক্ষয়ক্ষতি কিছুটা কম হবে। তবে আকস্মিক যে সব ফসল বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে সেগুলো নষ্ট হবে।  বগুড়া জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সোহেল মো. শামছুদ্দিন জানান, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা করা হচ্ছে। সরকারিভাবে কোনো সহযোগিতা দেওয়া হলে তারা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পাবেন।     

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow