অতিরিক্ত আদা খেলে শরীরে কী হয় জানেন

আমাদের রান্নাঘরের অন্যতম পরিচিত ও প্রয়োজনীয় উপাদান হলো আদা। তরকারি, মাছ, মাংস সহ প্রায় সব খাবারেই আদার ব্যবহার দেখা যায়। খাবারের স্বাদ ও সুগন্ধ বাড়ানোর পাশাপাশি আদার রয়েছে নানা স্বাস্থ্য উপকারিতা। বহু বছর ধরে এটি প্রাকৃতিক ওষুধ হিসেবেও ব্যবহৃত হয়ে আসছে। আদা হজমশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে, বমি বমি ভাব কমায়, সর্দি-কাশি উপশমে কার্যকর ভূমিকা রাখে এবং শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী করতে সাহায্য করে। এছাড়া প্রদাহ ও ব্যথা কমাতেও আদার উপকারিতা রয়েছে। গলা খুসখুসে করলে অনেকেই আদা চিবিয়ে খান বা আদা চা পান করেন, যা দ্রুত আরাম দিতে পারে। উপকারী হলেও অতিরিক্ত খাওয়া ঠিক না যেকোনো খাবারের মতো আদাও পরিমিত পরিমাণে খাওয়া উচিত। অনেকেই মনে করেন, স্বাস্থ্যকর বলে যত বেশি আদা খাওয়া যাবে তত বেশি উপকার পাওয়া যাবে। কিন্তু বাস্তবে বিষয়টি ঠিক উল্টো। অতিরিক্ত আদা শরীরে নানা ধরনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া তৈরি করতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আদায় থাকা কিছু সক্রিয় উপাদান অতিরিক্ত মাত্রায় গ্রহণ করলে শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই এর সঠিক মাত্রা জানা জরুরি। পেটের সমস্যা ও বুকজ্বালা অতিরিক্ত আদা খ

অতিরিক্ত আদা খেলে শরীরে কী হয় জানেন

আমাদের রান্নাঘরের অন্যতম পরিচিত ও প্রয়োজনীয় উপাদান হলো আদা। তরকারি, মাছ, মাংস সহ প্রায় সব খাবারেই আদার ব্যবহার দেখা যায়। খাবারের স্বাদ ও সুগন্ধ বাড়ানোর পাশাপাশি আদার রয়েছে নানা স্বাস্থ্য উপকারিতা। বহু বছর ধরে এটি প্রাকৃতিক ওষুধ হিসেবেও ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

আদা হজমশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে, বমি বমি ভাব কমায়, সর্দি-কাশি উপশমে কার্যকর ভূমিকা রাখে এবং শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী করতে সাহায্য করে। এছাড়া প্রদাহ ও ব্যথা কমাতেও আদার উপকারিতা রয়েছে। গলা খুসখুসে করলে অনেকেই আদা চিবিয়ে খান বা আদা চা পান করেন, যা দ্রুত আরাম দিতে পারে।

উপকারী হলেও অতিরিক্ত খাওয়া ঠিক না

যেকোনো খাবারের মতো আদাও পরিমিত পরিমাণে খাওয়া উচিত। অনেকেই মনে করেন, স্বাস্থ্যকর বলে যত বেশি আদা খাওয়া যাবে তত বেশি উপকার পাওয়া যাবে। কিন্তু বাস্তবে বিষয়টি ঠিক উল্টো। অতিরিক্ত আদা শরীরে নানা ধরনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া তৈরি করতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আদায় থাকা কিছু সক্রিয় উপাদান অতিরিক্ত মাত্রায় গ্রহণ করলে শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই এর সঠিক মাত্রা জানা জরুরি।

JAGO

পেটের সমস্যা ও বুকজ্বালা

অতিরিক্ত আদা খাওয়ার সবচেয়ে সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে পেটের অস্বস্তি। বেশি আদা খেলে পাকস্থলীতে অ্যাসিডের পরিমাণ বেড়ে যেতে পারে। ফলে বুকজ্বালা, গ্যাস, অম্বল এবং পেট ফাঁপার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে অতিরিক্ত আদা ডায়রিয়ার কারণও হতে পারে। আবার কারো কারো কোষ্ঠকাঠিন্য বা হজমজনিত অন্যান্য সমস্যাও দেখা দিতে পারে। তাই নিয়মিত বেশি পরিমাণে আদা খাওয়া থেকে বিরত থাকা উচিত।

JAgo

রক্তে শর্করার মাত্রা কমে যেতে পারে

আদা রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হলেও অতিরিক্ত গ্রহণ করলে উল্টো সমস্যা তৈরি হতে পারে। বেশি আদা খেলে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা অস্বাভাবিকভাবে কমে যেতে পারে। বিশেষ করে যারা ডায়াবেটিসের ওষুধ খান, তাদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত আদা গ্রহণের ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা খুব কমে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তাই এ বিষয়ে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।

রক্ত পাতলা হওয়ার ঝুঁকি

আদার একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো এটি রক্তকে কিছুটা পাতলা করতে সাহায্য করে। তবে অতিরিক্ত আদা খেলে রক্ত জমাট বাঁধার স্বাভাবিক প্রক্রিয়া ব্যাহত হতে পারে। যারা রক্ত পাতলা করার ওষুধ বা ব্লাড থিনার সেবন করেন, তাদের চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অতিরিক্ত আদা খাওয়া উচিত নয়। কারণ এতে রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বাড়তে পারে।

অ্যালার্জির সমস্যা

সর্দি-কাশি বা গলা খুসখুসে হলে অনেকে মুখে আদার টুকরো রেখে চিবিয়ে খান। এটি সাময়িক স্বস্তি দিলেও দীর্ঘ সময় মুখে আদা রাখলে কিছু মানুষের ক্ষেত্রে অ্যালার্জির প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। মুখে জ্বালাপোড়া, চুলকানি বা অস্বস্তি অনুভূত হলে আদা খাওয়া বন্ধ করা উচিত। যাদের আগে থেকেই অ্যালার্জির সমস্যা রয়েছে, তাদের আরও বেশি সতর্ক থাকা প্রয়োজন।

প্রতিদিন কতটা আদা খাওয়া নিরাপদ?

চিকিৎসকদের মতে, একজন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের জন্য প্রতিদিন সর্বোচ্চ ৫ গ্রাম আদা খাওয়া নিরাপদ। এই পরিমাণের বেশি আদা নিয়মিত খাওয়া ঠিক নয়। পরিমিত পরিমাণে আদা খেলে এর স্বাস্থ্য উপকারিতা পাওয়া যায়, তবে অতিরিক্ত খেলে উপকারের বদলে ক্ষতির আশঙ্কাই বেশি থাকে।

সূত্র: ওয়েবএমডি, টাইমস অব ইন্ডিয়া

এসএকেওয়াই

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow