অধ্যাপিকাকে হত্যা করতে ১৪০০ কিমি পাড়ি দিল দম্পতি
ভারতে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অধ্যাপিকাকে হত্যার ঘটনায় পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান থেকে আসা এক দম্পতিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সম্পত্তি দখলের উদ্দেশ্যে তারা প্রায় ১,৪০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে দিল্লিতে এসে হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
রোববার (০৭ জুন) ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, নিহত দেবস্মিতা পাল দিল্লির শিবাজি কলেজের সহকারী অধ্যাপক ছিলেন। গত বুধবার পূর্ব দিল্লির বসুন্ধরা এনক্লেভের সত্যম অ্যাপার্টমেন্টে নিজ ফ্ল্যাটে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
তদন্তের ধারাবাহিকতায় বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে পুলিশ পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান থেকে রামপ্রসাদ দাস ও বনশ্রী দাস নামে এক দম্পতিকে গ্রেপ্তার করে। পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, তাদের অপ্রাপ্তবয়স্ক ছেলেকেও হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। অভিযুক্তদের স্থানীয় আদালতে হাজির করা হবে এবং পরবর্তী তদন্তের জন্য তাদের দিল্লিতে নেওয়ার অনুমতি চাইবে দিল্লি পুলিশ।
যেভাবে ঘটানো হয় হত্যাকাণ্ড
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, অভিযুক্তরা বর্ধমানের বাসিন্দা। তারা দেবস্মিতা পালের সঙ্গে দেখা করার অজুহাতে দিল্লিতে আসে। ২০২২ সালে স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদের পর তিনি একাই ওই ফ্ল্যাটে বস
ভারতে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অধ্যাপিকাকে হত্যার ঘটনায় পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান থেকে আসা এক দম্পতিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সম্পত্তি দখলের উদ্দেশ্যে তারা প্রায় ১,৪০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে দিল্লিতে এসে হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
রোববার (০৭ জুন) ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, নিহত দেবস্মিতা পাল দিল্লির শিবাজি কলেজের সহকারী অধ্যাপক ছিলেন। গত বুধবার পূর্ব দিল্লির বসুন্ধরা এনক্লেভের সত্যম অ্যাপার্টমেন্টে নিজ ফ্ল্যাটে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
তদন্তের ধারাবাহিকতায় বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে পুলিশ পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান থেকে রামপ্রসাদ দাস ও বনশ্রী দাস নামে এক দম্পতিকে গ্রেপ্তার করে। পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, তাদের অপ্রাপ্তবয়স্ক ছেলেকেও হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। অভিযুক্তদের স্থানীয় আদালতে হাজির করা হবে এবং পরবর্তী তদন্তের জন্য তাদের দিল্লিতে নেওয়ার অনুমতি চাইবে দিল্লি পুলিশ।
যেভাবে ঘটানো হয় হত্যাকাণ্ড
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, অভিযুক্তরা বর্ধমানের বাসিন্দা। তারা দেবস্মিতা পালের সঙ্গে দেখা করার অজুহাতে দিল্লিতে আসে। ২০২২ সালে স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদের পর তিনি একাই ওই ফ্ল্যাটে বসবাস করতেন। তার স্বামী বেঙ্গালুরুতে থাকতেন।
বুধবার সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, মুখোশ পরে অভিযুক্তরা একটি ব্যক্তিগত ক্যাবে করে অ্যাপার্টমেন্টে আসে। সন্দেহ এড়াতে তারা সঙ্গে তাদের অপ্রাপ্তবয়স্ক ছেলেকেও নিয়ে আসে। লিফট ব্যবহার না করে সিঁড়ি দিয়ে ষষ্ঠ তলায় উঠে অধ্যাপিকার ফ্ল্যাটে প্রবেশ করে।
পুলিশের দাবি, পূর্বপরিচয়ের কারণে তারা সহজেই ফ্ল্যাটে ঢুকতে সক্ষম হয় এবং সঙ্গে আনা একটি অস্ত্র দিয়ে দেবস্মিতা পালকে হত্যা করে।
ঘটনার প্রায় ৩০ মিনিট পর পোশাক পরিবর্তন করে তারা আবার নিচে নেমে আসে এবং অপেক্ষমাণ একটি ক্যাবে করে সেখান থেকে চলে যায়।
তদন্তে পুলিশ ওই ক্যাবচালককে জিজ্ঞাসাবাদ করে এবং যাত্রার তথ্য সংগ্রহ করে সন্দেহভাজনদের শনাক্ত করে। আবাসিক ভবনে ওই দিন প্রবেশ করা প্রায় ২০০ জনের মধ্যে ১৩ জনকে সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এছাড়া চারটি রাজ্যে সাতটি পৃথক পুলিশ দল অভিযান চালিয়ে শতাধিক মানুষের সঙ্গে কথা বলে। এরই সূত্র ধরে মামলার রহস্য উন্মোচিত হয়।
কোটি টাকার সম্পত্তির লোভ
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, দেবস্মিতা পাল তার পশ্চিমবঙ্গে একটি মূল্যবান সম্পত্তির মালিক ছিলেন। কয়েক কোটি টাকা মূল্যের ওই সম্পত্তিতে অভিযুক্ত দম্পতি ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করতেন।
পুলিশের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে তারা সম্পত্তিটি নিজেদের দখলে নেওয়ার চেষ্টা করছিল। অন্যদিকে দেবস্মিতা পাল তাদের বাড়ি ছাড়ার জন্য চাপ দিচ্ছিলেন। এ বিরোধ থেকেই তাকে হত্যা করে সম্পত্তি দখলের পরিকল্পনা করে অভিযুক্তরা।
বোনের মাধ্যমে প্রকাশ পায় হত্যার ঘটনা
বৃহস্পতিবার দেবস্মিতা পালের বোন দেবারতি পুলিশকে জানান, তার বোনের কোনো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। পরে তিনি ফ্ল্যাটে গিয়ে দেখেন দরজাটি বাইরে থেকে তালাবদ্ধ।
বারবার ফোন করেও যোগাযোগ করতে না পেরে তিনি দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। সেখানে দেবস্মিতা পালের রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন।
পুলিশ জানায়, তার মাথায় গভীর আঘাতের চিহ্ন ছিল এবং হাতের শিরা কাটা অবস্থায় পাওয়া যায়। তবে বাসা থেকে কোনো স্বর্ণালংকার বা নগদ অর্থ খোয়া যায়নি, যা থেকে ধারণা করা হচ্ছে এটি ডাকাতির ঘটনা নয়।
এ ঘটনায় হত্যা মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। বর্তমানে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।