অনলাইনে সারাক্ষণ নেতিবাচক কনটেন্ট দেখেন? মস্তিষ্কের ক্ষতি করছেন

ইন্টারনেট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এখন মানুষের দৈনন্দিন জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। খবর, মতামত, বিনোদন কিংবা নানা তথ্যের জন্য আমরা নিয়মিত অনলাইনে সময় কাটাই। তবে গবেষকেরা বলছেন, অনলাইনে কী ধরনের কনটেন্ট আমরা দেখছি বা অনুসরণ করছি, তা আমাদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে নেতিবাচক বা আক্রমণাত্মক কনটেন্ট নিয়মিত দেখলে তা ধীরে ধীরে মানসিক অস্বস্তি বাড়াতে পারে। সম্প্রতি নেচার হিউম্যান বিহেভিয়ার জার্নালে প্রকাশিত একটি গবেষণায় দেখা গেছে, যারা নিয়মিত হতাশাপূর্ণ, বিদ্বেষপূর্ণ বা আক্রমণাত্মক ধরনের অনলাইন কনটেন্টে যুক্ত থাকেন, তাদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং মানসিক চাপ তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। অর্থাৎ অনলাইন অভ্যাস শুধু সময় নষ্টের বিষয় নয়, এটি মানসিক সুস্থতার সঙ্গেও সরাসরি সম্পর্কিত। গবেষণায় একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরা হয়েছে মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাবের জন্য কেবল অনলাইনে কত সময় কাটানো হচ্ছে, সেটিই মূল কারণ নয়। বরং ব্যবহারকারীরা কী ধরনের কনটেন্ট দেখছেন বা তাতে কীভাবে প্রতিক্রিয়া দিচ্ছেন, সেটিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। নেতিবাচক বা উত্তেজনামূলক বিষয়বস্তুর সঙ্গে বারবার সম

অনলাইনে সারাক্ষণ নেতিবাচক কনটেন্ট দেখেন? মস্তিষ্কের ক্ষতি করছেন

ইন্টারনেট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এখন মানুষের দৈনন্দিন জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। খবর, মতামত, বিনোদন কিংবা নানা তথ্যের জন্য আমরা নিয়মিত অনলাইনে সময় কাটাই। তবে গবেষকেরা বলছেন, অনলাইনে কী ধরনের কনটেন্ট আমরা দেখছি বা অনুসরণ করছি, তা আমাদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে নেতিবাচক বা আক্রমণাত্মক কনটেন্ট নিয়মিত দেখলে তা ধীরে ধীরে মানসিক অস্বস্তি বাড়াতে পারে।

সম্প্রতি নেচার হিউম্যান বিহেভিয়ার জার্নালে প্রকাশিত একটি গবেষণায় দেখা গেছে, যারা নিয়মিত হতাশাপূর্ণ, বিদ্বেষপূর্ণ বা আক্রমণাত্মক ধরনের অনলাইন কনটেন্টে যুক্ত থাকেন, তাদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং মানসিক চাপ তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। অর্থাৎ অনলাইন অভ্যাস শুধু সময় নষ্টের বিষয় নয়, এটি মানসিক সুস্থতার সঙ্গেও সরাসরি সম্পর্কিত।

গবেষণায় একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরা হয়েছে মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাবের জন্য কেবল অনলাইনে কত সময় কাটানো হচ্ছে, সেটিই মূল কারণ নয়। বরং ব্যবহারকারীরা কী ধরনের কনটেন্ট দেখছেন বা তাতে কীভাবে প্রতিক্রিয়া দিচ্ছেন, সেটিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। নেতিবাচক বা উত্তেজনামূলক বিষয়বস্তুর সঙ্গে বারবার সম্পৃক্ততা ধীরে ধীরে একটি ‘ফিডব্যাক লুপ’ তৈরি করে। এতে ব্যবহারকারী আরও বেশি একই ধরনের কনটেন্ট দেখতে শুরু করেন এবং মানসিক অস্বস্তি ক্রমে বাড়তে থাকে।

গবেষকেরা মনে করেন, এই চক্র থেকে বের হওয়া অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে। কারণ একবার কোনো ব্যবহারকারী নির্দিষ্ট ধরনের কনটেন্টের সঙ্গে যুক্ত হলে, অ্যালগরিদমও সেই ধরনের বিষয়বস্তু আরও বেশি দেখাতে শুরু করে। ফলে ব্যবহারকারী ধীরে ধীরে একটি নেতিবাচক অনলাইন পরিবেশের মধ্যে আটকে যেতে পারেন।

এই গবেষণা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যালগরিদম এবং কনটেন্ট বণ্টন ব্যবস্থার দিকেও নতুন করে নজর দিতে বলছে। কারণ অনেক সময় উত্তেজনামূলক বা বিভাজনমূলক কনটেন্ট বেশি মনোযোগ পায় এবং দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এতে ব্যবহারকারীদের মধ্যে উদ্বেগ বা নেতিবাচক অনুভূতি আরও বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।

সমাধানের জন্য গবেষকেরা কয়েকটি বিষয় গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেছেন। এর মধ্যে রয়েছে কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণে আরও কার্যকর ব্যবস্থা, অ্যালগরিদমের নকশায় পরিবর্তন এবং ব্যবহারকারীদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি। পাশাপাশি ব্যবহারকারীদেরও সচেতনভাবে কনটেন্ট বেছে নেওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অনলাইন জগৎ যেমন তথ্য ও যোগাযোগের বড় সুযোগ তৈরি করেছে, তেমনি মানসিক সুস্থতার জন্য সঠিক ব্যবহারও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই কী দেখছি, কতটা সময় দেখছি এবং তা আমাদের মনে কী প্রভাব ফেলছে এই বিষয়গুলো নিয়ে সচেতন থাকা এখন সময়ের দাবি।

সূত্র : টাইমস অব ইন্ডিয়া

কেএসকে

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow