অনিয়মের অভিযোগে সড়ক নির্মাণের কাজ বন্ধ করে দিলেন এলাকাবাসী

ফেনীর ফুলগাজী উপজেলার সদর ইউনিয়নের গাবতলা এলাকার পীর পাগলা সড়ক নির্মাণকাজে অনিয়মের অভিযোগে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। প্রায় ১ কোটি ৫৬ লাখ টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়নাধীন এ প্রকল্পে রোলারের পরিবর্তে ট্রাক্টর দিয়ে সড়কের ফিনিশিংয়ের কাজ করার অভিযোগে বুধবার (২২ জুলাই) সকালে এলাকাবাসী নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, শুধু ট্রাক্টর দিয়ে ফিনিশিং নয়, প্রকল্পটির শুরু থেকেই নানা অনিয়ম চলছে। নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার, যেখানে বালু ব্যবহারের কথা সেখানে মাটি দিয়ে ভরাট, নকশা উপেক্ষা করে গার্ডওয়াল নির্মাণ এবং দীর্ঘসূত্রতার কারণে প্রকল্পটি এখন প্রশ্নের মুখে পড়েছে। প্রায় তিন বছর ধরে চলমান এ প্রকল্পের কারণে এলাকাবাসী চরম দুর্ভোগে রয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন তারা। সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের একটি অংশে ট্রাক্টর দিয়ে মাটি সমান করার কাজ চলছিল। বিষয়টি নজরে এলে স্থানীয়রা কাজের মান নিয়ে আপত্তি জানিয়ে নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেন। এ সময় ঘটনাস্থলে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। স্থানীয় বিএনপি নেতা আবু তাহের বলেন, সকালে এসে দেখি রোলারের পরিবর্তে ট্রাক্টর দিয়ে রাস্তার ফিনিশিং দেওয়া হচ্ছে। আমরা

অনিয়মের অভিযোগে সড়ক নির্মাণের কাজ বন্ধ করে দিলেন এলাকাবাসী

ফেনীর ফুলগাজী উপজেলার সদর ইউনিয়নের গাবতলা এলাকার পীর পাগলা সড়ক নির্মাণকাজে অনিয়মের অভিযোগে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। প্রায় ১ কোটি ৫৬ লাখ টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়নাধীন এ প্রকল্পে রোলারের পরিবর্তে ট্রাক্টর দিয়ে সড়কের ফিনিশিংয়ের কাজ করার অভিযোগে বুধবার (২২ জুলাই) সকালে এলাকাবাসী নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, শুধু ট্রাক্টর দিয়ে ফিনিশিং নয়, প্রকল্পটির শুরু থেকেই নানা অনিয়ম চলছে। নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার, যেখানে বালু ব্যবহারের কথা সেখানে মাটি দিয়ে ভরাট, নকশা উপেক্ষা করে গার্ডওয়াল নির্মাণ এবং দীর্ঘসূত্রতার কারণে প্রকল্পটি এখন প্রশ্নের মুখে পড়েছে। প্রায় তিন বছর ধরে চলমান এ প্রকল্পের কারণে এলাকাবাসী চরম দুর্ভোগে রয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন তারা।

সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের একটি অংশে ট্রাক্টর দিয়ে মাটি সমান করার কাজ চলছিল। বিষয়টি নজরে এলে স্থানীয়রা কাজের মান নিয়ে আপত্তি জানিয়ে নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেন। এ সময় ঘটনাস্থলে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

স্থানীয় বিএনপি নেতা আবু তাহের বলেন, সকালে এসে দেখি রোলারের পরিবর্তে ট্রাক্টর দিয়ে রাস্তার ফিনিশিং দেওয়া হচ্ছে। আমরা বাধা না দিলে এভাবেই কাজ শেষ করে দেওয়া হতো। যেখানে বালু ব্যবহারের কথা, সেখানে মাটি ব্যবহার করা হয়েছে। আবার প্রকল্পের নকশায় নির্ধারিত স্থানে গার্ডওয়াল না করে অন্য স্থানে নির্মাণ করা হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. সুমন বলেন, তিন বছর ধরে এই রাস্তার কাজের নামে এলাকাবাসীকে দুর্ভোগে রাখা হয়েছে। একদিন বালু, আরেকদিন ইট এনে কাজের নামে সময়ক্ষেপণ করা হয়েছে। নিম্নমানের কাজ কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। আমরা ফেনী-১ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল আলম মজনুর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। তিনি যেন সরেজমিনে এসে কাজের মান পরিদর্শন করেন।

একই ধরনের অভিযোগ করে স্থানীয় বাসিন্দা মো. হুমায়ুন বলেন, আজ এলাকাবাসী বাধা না দিলে ট্রাক্টর দিয়েই পুরো কাজ শেষ করে দেওয়া হতো। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শামীম বলেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতির কারণে মানুষ দীর্ঘদিন ধরে দুর্ভোগে রয়েছে। চেয়ারম্যানের কাছেও একাধিকবার অভিযোগ করেছি। আমরা চাই, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

অভিযোগের বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আরাফাত ট্রেডার্স-এর স্বত্বাধিকারী আবু ইউসুফ মিয়া বলেন, ট্রাক্টর দিয়ে কেবল প্রাথমিকভাবে রাস্তা সমান করা হয়েছে। পরে রোলার দিয়ে নিয়ম মেনেই ফিনিশিংয়ের কাজ সম্পন্ন করা হবে।

খবর পেয়ে উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)-এর মাঠ কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম ঘটনাস্থলে যান। তিনি স্থানীয়দের জানান, এ কাজের বিষয়ে আমাদের অফিসকে অবহিত করা হয়নি। আমাদের না জানিয়েই কাজ করা হয়েছে।

ফুলগাজী উপজেলা এলজিইডির সহকারী প্রকৌশলী মানিক লাল দাস বলেন, আপনাদের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরে তাৎক্ষণিকভাবে কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এভাবে কাজ করছে, সে বিষয়ে উপজেলা এলজিইডি অফিস অবগত ছিল না। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে এলাকাবাসীর প্রশ্ন, সরকারি অর্থে বাস্তবায়িত একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে যদি সংশ্লিষ্ট দপ্তরের অজ্ঞাতসারেই কাজ হয়, তাহলে নির্মাণকাজের গুণগত মান ও তদারকি কীভাবে নিশ্চিত হবে?

তারা প্রকল্পটির কারিগরি মান যাচাই, অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং অনিয়মের প্রমাণ মিললে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

স্থানীয়দের ভাষ্য, উন্নয়নের নামে দায়সারা কাজ নয়, তারা চান টেকসই ও মানসম্মত একটি সড়ক। সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর তদারকি ও জবাবদিহি এখন সময়ের দাবি।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow