অবশেষে পরীক্ষার হলে বসলেন সেই সুমাইয়া

সব বাধা পেরিয়ে অবশেষে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে পেরেছেন বগুড়ার সারিয়াকান্দির আলোচিত শিক্ষার্থী সুমাইয়া আক্তার। শনিবার (৪ জুলাই) নতুন প্রবেশপত্র হাতে পেয়ে বাংলা দ্বিতীয় পত্র পরীক্ষায় অংশ নেন তিনি। সারিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুমাইয়া ফেরদৌস বিশেষ ব্যবস্থায় প্রস্তুত করা নতুন প্রবেশপত্র সুমাইয়ার হাতে তুলে দেন। দীর্ঘ অনিশ্চয়তা ও হতাশার পর প্রবেশপত্র হাতে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তিনি। সুমাইয়া আক্তার সারিয়াকান্দি উপজেলার চন্দনবাইশা ডিগ্রি কলেজের মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থী। পিতৃহীন এই শিক্ষার্থী ফরম পূরণের জন্য কষ্টার্জিত সাড়ে তিন হাজার টাকা নির্ধারিত সময়ে কলেজে জমা দিলেও কলেজ কর্তৃপক্ষের গাফিলতিতে তার রেজিস্ট্রেশন নম্বর ভুলভাবে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে পাঠানো হয়। ফলে ২ জুলাই এইচএসসি পরীক্ষার প্রথম দিনে প্রবেশপত্র না থাকায় পরীক্ষাকেন্দ্র থেকেই তাকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। ঘটনাটি প্রকাশ্যে এলে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। পরে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করে নতুন প্রবেশপত্র ইস্যু করে, যার মাধ্যমে শনিবার তিনি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পান। সুমাইয়া বলেন, বাবা মারা যাওয়ার

অবশেষে পরীক্ষার হলে বসলেন সেই সুমাইয়া

সব বাধা পেরিয়ে অবশেষে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে পেরেছেন বগুড়ার সারিয়াকান্দির আলোচিত শিক্ষার্থী সুমাইয়া আক্তার। শনিবার (৪ জুলাই) নতুন প্রবেশপত্র হাতে পেয়ে বাংলা দ্বিতীয় পত্র পরীক্ষায় অংশ নেন তিনি।

সারিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুমাইয়া ফেরদৌস বিশেষ ব্যবস্থায় প্রস্তুত করা নতুন প্রবেশপত্র সুমাইয়ার হাতে তুলে দেন। দীর্ঘ অনিশ্চয়তা ও হতাশার পর প্রবেশপত্র হাতে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তিনি।

সুমাইয়া আক্তার সারিয়াকান্দি উপজেলার চন্দনবাইশা ডিগ্রি কলেজের মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থী। পিতৃহীন এই শিক্ষার্থী ফরম পূরণের জন্য কষ্টার্জিত সাড়ে তিন হাজার টাকা নির্ধারিত সময়ে কলেজে জমা দিলেও কলেজ কর্তৃপক্ষের গাফিলতিতে তার রেজিস্ট্রেশন নম্বর ভুলভাবে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে পাঠানো হয়। ফলে ২ জুলাই এইচএসসি পরীক্ষার প্রথম দিনে প্রবেশপত্র না থাকায় পরীক্ষাকেন্দ্র থেকেই তাকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।

ঘটনাটি প্রকাশ্যে এলে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। পরে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করে নতুন প্রবেশপত্র ইস্যু করে, যার মাধ্যমে শনিবার তিনি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পান।

সুমাইয়া বলেন, বাবা মারা যাওয়ার পর তার বড় ভাই দিনরাত পরিশ্রম করে তার লেখাপড়ার খরচ বহন করেছেন। কিন্তু পরীক্ষার প্রথম দিন প্রবেশপত্র না থাকায় কেন্দ্র থেকে ফিরে যেতে বাধ্য হলে তাদের পরিবারের সব স্বপ্ন ভেঙে পড়েছিল। তবে সরকার, শিক্ষা বোর্ড ও উপজেলা প্রশাসনের দ্রুত উদ্যোগে আবার পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়ে তিনি সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

তিনি আরও বলেন, প্রথম দিনের ছুটে যাওয়া পরীক্ষাটিও যাতে তিনি দিতে পারেন, সে বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে উপজেলা প্রশাসন তাকে জানিয়েছে।

এ ঘটনায় সারিয়াকান্দি উপজেলা প্রশাসন তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে কমিটিকে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সারিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমাইয়া ফেরদৌস বলেন, তদন্তে কলেজ কর্তৃপক্ষের যাদের অবহেলা বা দায়িত্বে গাফিলতির প্রমাণ মিলবে, তাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow