অভাব দূর করে যে আমল

কোনো মানুষই অভাব ও দারিদ্র্য চায় না। সবাই চায় সচ্ছলতা ও সফলতা। মূলত আল্লাহকে ভুলে, আত্মিক প্রশান্তির আমলগুলো ছেড়ে শারীরিক শান্তি উপার্জনের নেশায় অশান্ত ও অস্থির সময় কেটে যায়। তবু যেন অভাব ও দারিদ্র্য পিছু ছাড়তে চায় না। এ থেকে উত্তরণের পথ আল্লাহর কাছে ফিরে আসা। তার ইবাদতে মগ্ন হয়ে যাওয়া। তার সাহায্য প্রার্থনা করা। কারণ, তিনি ছাড়া আর কেউ মানুষের অভাব দূর করতে পারবে না। সফলতা এনে দিতে পারবে না। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘মহাপবিত্র আল্লাহ বলেন, হে আদম সন্তান! আমার ইবাদতে মগ্ন হও। আমি তোমার অন্তরকে ঐশ্বর্যমণ্ডিত করব এবং তোমার দারিদ্র্য দূর করব। তুমি যদি তা না করো, তাহলে আমি তোমার অন্তর হতাশা দিয়ে পূর্ণ করব এবং তোমার দারিদ্র্য দূর করব না। (ইবনে মাজাহ: ৪১০৭) অন্য বর্ণনায় আছে, আল্লাহতায়ালা বলেন, হে আদম সন্তান! তুমি আমার ইবাদতের জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করো, আমি তোমার অন্তর ঐশ্বর্যে পূর্ণ করে দেব এবং তোমার অভাব দূর করে দেব। তুমি তা না করলে আমি তোমার দুই হাত কর্মব্যস্ততায় পরিপূর্ণ করে দেব এবং তোমার অভাব-অনটন রহিত করব না। (তিরমিজি: ২৪৬৬)। কারণ, যারা মহান আল্লাহর হ

অভাব দূর করে যে আমল
কোনো মানুষই অভাব ও দারিদ্র্য চায় না। সবাই চায় সচ্ছলতা ও সফলতা। মূলত আল্লাহকে ভুলে, আত্মিক প্রশান্তির আমলগুলো ছেড়ে শারীরিক শান্তি উপার্জনের নেশায় অশান্ত ও অস্থির সময় কেটে যায়। তবু যেন অভাব ও দারিদ্র্য পিছু ছাড়তে চায় না। এ থেকে উত্তরণের পথ আল্লাহর কাছে ফিরে আসা। তার ইবাদতে মগ্ন হয়ে যাওয়া। তার সাহায্য প্রার্থনা করা। কারণ, তিনি ছাড়া আর কেউ মানুষের অভাব দূর করতে পারবে না। সফলতা এনে দিতে পারবে না। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘মহাপবিত্র আল্লাহ বলেন, হে আদম সন্তান! আমার ইবাদতে মগ্ন হও। আমি তোমার অন্তরকে ঐশ্বর্যমণ্ডিত করব এবং তোমার দারিদ্র্য দূর করব। তুমি যদি তা না করো, তাহলে আমি তোমার অন্তর হতাশা দিয়ে পূর্ণ করব এবং তোমার দারিদ্র্য দূর করব না। (ইবনে মাজাহ: ৪১০৭) অন্য বর্ণনায় আছে, আল্লাহতায়ালা বলেন, হে আদম সন্তান! তুমি আমার ইবাদতের জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করো, আমি তোমার অন্তর ঐশ্বর্যে পূর্ণ করে দেব এবং তোমার অভাব দূর করে দেব। তুমি তা না করলে আমি তোমার দুই হাত কর্মব্যস্ততায় পরিপূর্ণ করে দেব এবং তোমার অভাব-অনটন রহিত করব না। (তিরমিজি: ২৪৬৬)। কারণ, যারা মহান আল্লাহর হুকুম অমান্য করে দুনিয়াকে প্রাধান্য দেয়, মহান আল্লাহ তাদের প্রতি রহমতের দৃষ্টি দেন না। তাদের আত্মিক শান্তি উধাও হয়ে যায়। তারা ব্যর্থতার সাগরে হাবুডুবু খেতে থাকে এবং ধ্বংস হয়ে যায়। প্রিয় নবী (সা.) তার উম্মতদের এ ব্যাপারে সতর্ক করেছেন এবং এ মহাবিপদ থেকে উত্তরণের পথ বাতলে দিয়েছেন। হজরত আবদুল্লাহ বিন মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি তোমাদের নবী (সা.)কে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি তার সব চিন্তাকে একই চিন্তায় অর্থাৎ আখিরাতের চিন্তায় কেন্দ্রীভূত করেছে, আল্লাহ তার দুনিয়ার চিন্তার জন্য যথেষ্ট। অন্যদিকে যে ব্যক্তি যাবতীয় পার্থিব চিন্তায় নিমগ্ন থাকবে, সে যে কোনো উন্মুক্ত মাঠে ধ্বংস হোক, তাতে আল্লাহর কিছু আসে যায় না। (ইবনে মাজাহ: ২৫৭) আমাদের উচিত দুনিয়া অর্জনের পেছনে জীবনটা নষ্ট না করে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা করা। পরকালকে প্রাধান্য দেওয়া এবং পরকালের প্রস্তুতি গ্রহণ করা। তবেই আমাদের সব হতাশা দূর হয়ে যাবে। আল্লাহ আমাদের দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। ফলে আমাদের জীবনে স্থিরতা ফিরে আসবে এবং উভয় জাহানের সফলতা অর্জন হবে। হজরত আনাস ইবনে মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তির একমাত্র চিন্তার বিষয় হবে পরকাল, আল্লাহ সেই ব্যক্তির অন্তরকে অভাবমুক্ত করে দেবেন এবং তার যাবতীয় বিচ্ছিন্ন কাজ একত্র করে সুসংযত করে দেবেন, তখন তার কাছে দুনিয়াটা নগণ্য হয়ে দেখা দেবে। আর যে ব্যক্তির একমাত্র চিন্তার বিষয় হবে দুনিয়া, আল্লাহতায়ালা সেই ব্যক্তির গরিবি ও অভাব-অনটন দুই চোখের সামনে লাগিয়ে রাখবেন এবং তার কাজগুলো এলোমেলো ও ছিন্নভিন্ন করে দেবেন। তার জন্য যা নির্দিষ্ট রয়েছে, দুনিয়ায় সে এর চেয়ে বেশি পাবে না। (তিরমিজি: ২৪৬৫) লেখক: মাদ্রাসা শিক্ষক

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow